হাদীস নং ২৩৪৫
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : কা’আব ইবনে আশরাফকে হত্যা করার দায়িত্ব কে নিতে পারবে? আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে সে তো কষ্ট দিয়েছে। মুহাম্মদ ইবনে মাসলামা রা. তখন বললেন, আমি । পরে তিনি তার কাছে গিয়ে বললেন, আমরা তোমার কাছে এক ওসাক অথবা দুই ওসাক (খাদ্য) ধার চাচ্ছি। সে বলল, তোমাদের মহিলাদেরকে আমার কাছে বন্ধক রাখ। তিনি বললেন : তুমি হলে আরবের সেরা সুন্দর ব্যক্তি। তোমার কাছে কিভাবে মহিলাদের বন্ধক রাখতে পারি? সে বলল, তাহলে তোমাদের সন্তানদের আমার কাছে বন্ধক রাখ। তিনি বললেন, কিভাবে সন্তানদের তোমার কাছে বন্ধক রাখি। পরে এই বলে তাদের নিন্দা করা হবে যে, দু’ এক ওসাকের জন্য তারা বন্ধক ছিল, এটা আমাদের জন্য হবে বিরাট কলংক। তার চেয়ে বরং আমরা তোমার কাছে আমাদের অস্ত্র বন্ধক রাখতে পারি। রাবী সুফিয়ান রহ. ‘আল-লামাতু’ অর্থ করেছেন অস্ত্র। তারপর তিনি তাকে পরে আসার প্রতিশ্রুতি দিলেন এবং (পরে এসে) তাকে হত্যা করলেন এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে সে সম্পর্কে তাকে অবহিত করলেন।
হাদীস নং ২৩৪৬
আবু নুআইম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : বন্ধকী প্রাণীর উপর তার খরচ পরিমাণ আরোহণ করা যাবে। তদ্রূপ দুধেল প্রাণী বন্ধক থাকলে (খরচ পরিমাণ) তার দুধ পান করা যাবে।
হাদীস নং ২৩৪৭
মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ…….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : বাহনের পশু বন্ধক থাকলে তার খরচের পরিমাণে তাঁতে আরোহণ করা যাবে। তদ্রুপ দুধেল প্রাণী বন্ধক থাকলে তার খরচের পরিমাণে দুধ পান করা যাবে। (মোট কথা) আরোহণকারী এবং দুধ পানকারীকেই খরচ বহন করতে হয়।
হাদীস নং ২৩৪৮
কুতাইবা রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ইয়াহুদী থেকে কিছু খাদ্যদ্রব্য কিনেছিলেন এবং তার কাছে নিজের বর্ম বন্ধক রেখেছিলেন।
হাদীস নং ২৩৪৯
খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই ফায়সালা দিয়েছেন যে, (বাদী সাক্ষী পেশ করতে ব্যর্থ হলে) কসম করা বিবাদীর কর্তব্য।
হাদীস নং ২৩৫০
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……..আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মিথ্যা কসম করে যে ব্যক্তি অর্থ-সম্পদ হস্তগত করে সে (কিয়ামতের দিন) আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে এ অবস্থায় যে, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন। তারপর আল্লাহ তা’আলা (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর) উক্ত বাণী সমর্থন করে আয়াত নাযিল করলেন : “নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে………..মর্মন্তুদ শাস্তি রয়েছে। (৩:৭৭) (রাবী বলেন) পরে আশআস ইবনে কায়স রা. আমাদের কাছে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, আবু আবদুর রাহমান (ইবনে মাসউদ) তোমাদের কি হাদীস শুনালেন (রাবী বলেন) আমরা তাকে হাদীসটি শুনালে তিনি বললেন, তিনি নির্ভুল হাদীস শুনিয়েছেন। আমাকে কেন্দ্র করেই তো আয়াতটি নাযিল হয়েছিল। কুয়া (এর মালিকানা) নিয়ে আমার সাথে এক লোকের ঝগড়া চলছিলো। পরে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে বিরোধটি উত্থাপন করলাম। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আমাকে বললেন, তুমি দুজন সাক্ষী উপস্থিত করবে, নতুবা সে হলফ করবে। আমি বললাম, তবে তো নির্দ্বিধায় হলফ করে বসবে। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যে ব্যক্তি মিথ্যা হলফ করে অর্থ-সম্পদ হস্তগত করবে, সে (কিয়ামতের দিন) আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে এ অবস্থায় যে, আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত থাকবেন। তিনি (আশআস) বলেন, তখন আল্লাহ তা’আলা এর সমর্থনে আয়াত নাযিল করলেন। তারপর তিনি (আশআস) إن الذين يشترون بعهد الله الآية এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন।
গোলাম আযাদ করা অধ্যায় (২৩৫১-২৩৯০)
হাদীস নং ২৩৫১
আহমদ ইবনে ইউনুস রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কেউ কোন মুসলিম গোলাম আযাদ করলে আল্লাহ সেই গোলামের প্রত্যেক অংগের বিনিময়ে তার একেকটি অংগ (জাহান্নামের) আগুন থেকে মুক্ত করবেন। সাঈদ ইবনে মারজানা রা. বলেন, এ হাদীসটি আমি আলী ইবনে হুসায়নের খিদমতে পেশ করলাম। তখন আলী ইবনে হুসায়ন রা. তার এক গোলামের কাছে উঠে গেলেন যার বিনিময়ে আবদুল্লাহ ইবনে জাফার রা. তাকে দশ হাজার দিরহাম কিংবা এক হাজার দীনার দিতে চেয়েছিলেন এবং তিনি তাকে আযাদ করে দিলেন।
হাদীস নং ২৩৫২
উবাদুল্লাহ ইবনে মূসা রহ……….আবু যার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কোন আমল উত্তম ? তিনি বললেন : আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং তাঁর পথে জিহাদ করা। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কোন ধরনের গোলাম আযাদ করা উত্তম? তিনি বললেন : যে গোলামের মূল্য অধিক এবং যে গোলাম তার মনিবের কাছে অধিক আকর্ষনীয়। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ যদি আমি করতে না পারি ? তিনি বললেন, তাহলে কাজের লোককে (তার কাজে) সাহায্য করবে কিংবা বেকারকে কাজ দিবে। আমি (আবারও) বললাম, এ-ও যদি না পারি ? তিনি বললেন: মানুষকে তোমার অনিষ্টতা থেকে মুক্ত রাখবে। বস্তুত : এটা তোমার নিজের জন্য তোমার পক্ষ থেকে সাদকা।
