হাদীস নং ২৩৬৩
মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে নুমাইর রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি ইসলাম গ্রহণের ইচ্ছায় আপন গোলামকে সাথে নিয়ে (মদীনায়) আসছিলেন। পথে তারা পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেন। পরে গোলামটি এসে পৌছলো। আবু হুরায়রা রা. সে সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে বসা ছিলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবু হুরায়রা ! দেখো, তোমার গোলাম এসে গেছে। তখন তিনি বললেন, শুনুন; আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি, সে আযাদ। রাবী বলেন, (মদীনায়) পৌঁছে তিনি বলতেন : কত দীর্ঘ আর কষ্টদায়কই না ছিল হিজরতের সে রাত তবুও আমাকে দারুল কুফর থেকে মুক্তি দিয়েছে।
হাদীস নং ২৩৬৪
উবায়দুল্লাহ ইবনে সাঈদ রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবীজীর খিদমতে আগমনকালে আমি পথে পথে (কবিতা) বলতাম : হিজরতের সে রাত কতনা দীর্ঘ আর কষ্টদায়ক ছিল- তবুও তা আমাকে দারুল কুফর থেকে মুক্তি দিয়েছে। তিনি বলেন, পথে আমার এক গোলাম পালিয়ে গিয়েছিলো। যখন আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে এসে তাঁর (হাতে) বায়আত হলাম। আমি তাঁর খিদমতেই ছিলাম, এ সময় গোলামটি এসে হাযির হল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবু হুরায়রা! এই যে, তোমার গোলাম ! আমি বললাম, সে আল্লাহর ওয়াস্তে আযাদ। এই বলে তাকে আযাদ করে দিলাম। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, আবু কুরায়ব রহ. আবু উসামা রহ. থেকে বর্ণিত রিওয়ায়েতে حر শব্দটি বলেন নি।
হাদীস নং ২৩৬৫
শিহাব ইবনে আব্বাদ রহ………কায়স রহ. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আবু হুরায়রা রা. তাঁর গোলামকে সাথে করে ইসলামের উদ্দেশ্যে (মদীনা) আগমন কালে পথিমধ্যে তারা একে অপরকে হারিয়ে ফেললেন এবং তিনি (আবু হুরায়রা) বললেন, শুনন ! আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে বলছি, সে আল্লাহর জন্য।
হাদীস নং ২৩৬৬
আবুল ইয়ামান রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উতবা ইবনে আবু ওয়াক্কাস আপন ভাই সাদ ইবনে আবু ওয়াক্কাসকে ওসীয়্যত করেছিলেন, তিনি যেন যামআর দাসীর গর্ভজাত পুত্রকে গ্রহণ করেন। (কারণ স্বরূপ) উতবা বলেছিলেন; সে আমার (ঔরসজাত) পুত্র। মক্কা বিজয়কালে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মক্কায় তাশরীফ আনলেন ; তখন সাদ যামআর দাসীর পুত্রকে নিয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে আসলেন এবং তার সাথে আবদ ইবনে যামআকে নিয়ে আসলেন। সাদ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এতো আমার ভাতিজা। আমার ভাই বলেছেন যে, সে তার ছেলে আবদ ইবনে যামআর বলেলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এ আমার ভাই যামআর পুত্র। তার শয্যাতেই এ জন্ম নিয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন যামআর দাসীর পুত্রের দিকে তাকালেন। দেখলেন, উতবার সাথেই তার (আদলের) সর্বাধিক মিল। তবু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, হে আবদ ইবনে যামআ এ -তোমারই (ভাই) কেননা, এ তার (আবদ ইবনে যামআর) শয্যাতে জন্মগ্রহণ করেছে। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হে সাওদা বিনতে যামআ ! তুমি এ থেকে পর্দা করবে। কেননা তিনি উতবার সাথেই তার মিল দেখতে পেয়েছিলেন। সাওদা ছিলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর স্ত্রী।
হাদীস নং ২৩৬৭
আদম ইবনে আবু ইয়াস রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের একজন তার এক গোলামকে মুদাববাররূপে আযাদ ঘোষণা করল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই গোলামকে ডেকে নিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে দিলেন। জাবির রা. বলেন, গোলামটি সে বছরই মারা গিয়েছিল।
হাদীস নং ২৩৬৮
আবুল ওয়ালীদ রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গোলামের অভিভাবকত্ব বিক্রি করতে এবং তা দান করতে নিষেধ করেছেন।
হাদীস নং ২৩৬৯
উসমান ইবনে আবু শায়বা রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বারীরাকে আমি (আযাদ করার নিয়্যতে) খরিদ করলাম, তখন তার (পূর্বতন) মালিক অভিভাবকত্বের শর্তারোপ করল। প্রসংগটি আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে উত্থাপন করলাম। তিনি বললেন, তুমি তাকে আযাদ করে দাও। অভিভাবকত্ব সেই লাভ করবে, যে অর্থ ব্যয় করবে। তখন আমি তাকে আযাদ করে দিলাম। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে তার স্বামীর ব্যাপারে ইখতিয়ার দিলেন। বারীরা রা. বললেন, যদি সে আমাকে এতো এতো সম্পদও দেয় তবু আমি তার কাছে থাকব না। অবশেষে তিনি তার ইখতিয়ার প্রয়োগ করলেন।
হাদীস নং ২৩৭০
ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদীনার কিছু লোক নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুমতি প্রার্থনা করে বলল, আপনি অনুমতি দিলে আমরা আমাদের বোনপো আব্বাসের মুক্তিপণ ছেড়ে দিব। কিন্তু তিনি বললেন, তোমরা তার (মুক্তিপণের) একটি দিরহামও ছাড়তে পার না।
হাদীস নং ২৩৭১
উবায়দ ইবনে ইসমাঈল রহ………হিশাম রহ. থেকে বর্ণিত, আমার পিতা অবগত করলেন যে, হাকীম ইব হিযাম রা. জাহিলী যুগে একশ গোলাম করছিলেন এবং আরোহণের জন্য একশ উট দিয়েছিলেন। যখন তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন, তখনও একশ উট বাহন হিসাবে দান করেন এবং একশ গোলাম আযাদ করলেন। তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! জাহেলী যুগে কল্যাণের উদ্দেশ্য যে কাজগুলো আমি করতাম, সেগুলো সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বলেন, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার পিছনের আমলগুলোর কল্যাণেই তো তুমি ইসলাম গ্রহণ করেছ।
