হাদীস নং ২৩৩৯
মুসাদ্দাদ রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : (শরীকী) গোলাম থেকে কেউ নিজের অংশ আযাদ করে দিলে সেই গোলামের সম্পূর্ণটা আযাদ করা তার জন্য ওয়াজিব হবে যাবে। যদি তারা কাছে সেই গোলামের মূল্য পরিমাণ সম্পদ থাকে, তাহলে ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করে অংশীদারদের তাদের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ করা হবে এবং আযাদকৃত গোলামের পথ ছেড়ে দেওয়া হবে।
হাদীস নং ২৩৪০
আবু নুমান রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কেউ (শরীকী) গোলাম থেকে একটা অংশ আযাদ করে দিলে গোলামটাই আযাদ হয়ে যাবে। যদি তার কাছে (প্রয়োজনীয়) অর্থ থাকে (তাহলে সেখান থেকে অন্য অংশীদারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে) অন্যথায় অতিরিক্ত কষ্ট না চাপিয়ে তাকে উপার্জন করতে বলা হবে।
হাদীস নং ২৩৪১
আবু নুমান রহ……….জাবির ও ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর সাহাবীগণ ৪ঠা যিলহজ্জ ভোরে শুধু হজ্জের ইহরাম বেধে মক্কায় এসে পৌঁছলেন। কিন্তু আমরা মক্কায় এসে পৌঁছলে তিনি আমাদেরকে হজ্জের ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিণত করার আদেশ দিলেন। তখন আমরা হজ্জকে উমরায় পরিণত করলাম। তিনি আমাদেরকে স্ত্রীদের সাথে সহবাসেরও অনুমতি দিলেন। এ বিষয়ে কেউ কথা ছড়ালো (অধস্তন রাবী) আতা রহ. বলেন, জাবির রা. বলেছেন, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ স্ত্রীর সাথে সংগম করে মিনায় যাবে। এ কথা বলে জাবির রা. নিজের হাত লজ্জাস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে দেখালেন। এ খবর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কানে পৌঁছলে তিনি দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। আমি শুনতে পেয়েছি যে, লোকেরা এটা সেটা বলছে। আল্লাহর কসম ! আমি তাদের চেয়ে অধিক পরহেযগার এবং অধিক আল্লাহ ভীরু। পরে যা জেনেছি তা আগে ভাগে জানতে পারলে হাদী সাথে নিয়ে আসতাম না। আর সাথে হাদীস না থাকলে আমি ও ইহরাম থেকে হালাল হয়ে যেতাম। তখন সুরাকা ইবনে মালিক ইবনে জুসুম রা. দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! এ হুকুম শুধু আমাদের জন্য, না এটা সর্বকালের জন্য। (রাবী আতা রহ.) বলেন, পরে আলী ইবনে আবু তালেব রা. (ইয়ামান থেকে) মক্কায় এলেন দুই রাবীর একজন বলেন যে, তিনি বলেন, আমি রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর অনুরূপ ইহরাম বাঁধলাম। অপরজনের মতে তিনি বললেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুরূপ ইহরাম বাঁধলাম। অপরজনের মতে তিনি বললেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অনুরূপ ইহরাম বাঁধলাম। ফলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইহরাম অবস্থায় থাকার নির্দেশ দিলেন এবং তাকেও হাদী এর মধ্যে শরীক করে দিলেন।
হাদীস নং ২৩৪২
মুহাম্মদ রহ……….রাফি ইবনে খাদীজ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিহামার অন্তর্গত যুলহুলাইফা নামক স্থানে আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে অবস্থান করছিলাম। সে সময় আমরা (গনীমতের অংশ হিসাবে) কিছু বকরী কিংবা উট পেয়ে গেলাম। সাহাবীগণ (অনুমতির অপেক্ষা না করেই) তাড়াহুড়া করে পাত্রে গোশত ছড়িয়ে দিলেন। পরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে পাত্রগুলো উল্টিয়ে ফেলার নির্দেশ দিলেন। (বন্টনকালে) প্রতি দশটি বকরীকে তিনি একটি উটের সমান ধার্য করলেন। ইতিমধ্যে একটি উট পালিয়ে গেল। সে সময় দলে ঘোড়ার সংখ্যাও ছিল খুব অল্প। তাই একজন তীর ছুড়ে সেটাকে আটকালেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, দেখ, পলায়নপর বন্য জন্তুদের মতো এই গৃহপালিত পশুগুলোর মধ্যেও কোন কোনটা পলায়নপর স্বভাব বিশিষ্ট। কাজেই সেগুলোর মধ্যে যেটা তোমাদের উপর প্রবল হয়ে উঠবে তার সাথে এরূপই করবে। (রাবী আবয়াহ রহ.) বলেন, আমার দাদা বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমরা আশংকা করি, আগামীকাল হয়ত আমরা শত্রুর মুখোমুখি হব। আমাদের সাথে তো কোন ছুরি নেই। এমতাবস্থায় আমরা কি বাঁশের ধারালো কুঞ্চি দিয়ে যবেহ করতে পারি? তিনি বললেন : যে রক্ত বের করে তা দিয়ে দ্রুত কর। যা আল্লাহর নাম দিয়ে যবেহ হয়, তা তোমরা খেতে পার। তবে তা যেন দাঁত বা নখ না হয়। তোমাদের আমি এর কারণ বলছি, দাঁত তো হাড় আর নখ হল হাবশীদের ছুরি।
বন্ধক অধ্যায় (২৩৪৩-২৩৫০)
হাদীস নং ২৩৪৩
মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যবের বিনিময়ে তাঁর বর্ম বন্ধক রেখেছিলেন। আমি একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে যবের রুটি এবং দুর্গন্ধযুক্ত চর্বি নিয়ে গেলাম, তখন তাকে বলতে শুনলাম, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পরিবার পরিজনের কাছে কোন সকাল বা সন্ধ্যায় এক সা’ এর অতিরিক্ত (কোন খাদ্য) দ্রব্য থাকে না। (আনাস রা. বলেন) সে সময়ে তারা মোট নয় ঘর (নয় পরিবার) ছিলেন।
হাদীস নং ২৩৪৪
মুসাদ্দাদ রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক ইয়াহুদীর কাছ থেকে নির্দিষ্ট মিয়াদে খাদ্যশস্য খরিদ করেন এবং নিজের বর্ম তার কাছে বন্ধক রাখেন।
