হাদীস নং ২৩৩২
আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ আমিরী ওয়াইসী ও লাইস রহ……..উরওয়া ইবনে যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি একবার আয়িশা রা.-কে আল্লাহর তা’আলার বাণী : আর যদি তোমরা আশংকা কর যে, ইয়াতীম বালিকাদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না তাহলে অন্য মহিলাদের মধ্য থেকে তোমাদের পছন্দ মত দু’জন বা তিনজন কিংবা চারজনকে বিয়ে করতে পারবে (৪ : ৩) এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে আয়িশা রা. বললেন, আমার ভাগিনা ! এ হচ্ছে সেই ইয়াতীম মেয়ের কথা, যে অভিভাবকের আশ্রয়ে থাকে এবং তার সম্পদে অংশীদার হয়। এদিকে মেয়ের ধন-রূপে মুগ্ধ হয়ে তার অভিভাবক মহরানার ব্যাপারে সুবিচার না করে অর্থাৎ অন্য কেউ যে পরিমাণ মহরানা দিতে রাযী হত, তা না দিয়েই তাকে বিয়ে করতে চাইত। তাই প্রাপ্য মহরানা আদায়ের মাধ্যমে সুবিচার না করা পর্যন্ত তাদরেকে আশ্রিতা ইয়াতীম বালিকাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং পছন্দমত অন্য মহিলাদেরকে বিয়ে করতে বলা হয়েছে। উরওয়া রা. বলেন, আয়িশা রা. বলেছেন, পরে সাহাবীগণ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট (মহিলাদের সম্পর্কে) ফাতওয়া জিজ্ঞাসা করলেন তখন আল্লাহ তা’আলা আয়াত নাযিল করেন। তারা আপনার নিকট মহিলাদের সম্পর্কে ফাতওয়া জিজ্ঞাসা করে, আপনি বলুন, আল্লাহই তাদের সম্পর্কে তোমাদের সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। আর ইয়াতীম মেয়েদের সম্পর্কে কিতাব থেকে তোমাদেরকে পাঠ করে শোনান হয় যে, তাদের জন্য যা বিধিবদ্ধ রয়েছে, তা তোমরা তাদের দাও না অথচ তাদের তোমরা বিয়ে করতে চাও। (৪: ১২৭) يتلى عليكم في الكتاب বলে আল্লাহ পূর্বোক্ত আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে- আর যদি তোমরা আশংকা কর যে, ইয়াতীম বালিকাদের প্রতি সুবিচার করতে পারবে না তাহলে অন্য মহিলাদের মধ্য থেকে তোমাদের পছন্দ মত দু’জন বা তিনজন কিংবা চারজনকে বিয়ে করতে পারবে। আয়িশা রা. বলেন, আর অপর আয়াতে আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ এর মর্ম হল ধন ও রূপের স্বল্পতা হেতু তোমাদের আশ্রিতা ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি তোমাদের অনাগ্রহ। তাই ইয়াতীম মেয়েদের প্রতি অনাগ্রহ সত্ত্বেও শুধু ধন-রূপের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তাদের বিয়ে করতে নিষেধ করা হয়েছে। অবশ্য ন্যায়সংগত মহরানা আদায় করে বিয়ে করতে পারে।
হাদীস নং ২৩৩৩
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যে সব (স্থাবর) সম্পত্তি এখনো বণ্টিত হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুফআ আর (তথা ক্রয়ের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার) বিধান দিয়েছেন। এরপর সীমানা নির্ধারণ করা হলে এবং পথ আলাদা করে নেওয়া হলে শুফআর অধিকার থাকেনা।
হাদীস নং ২৩৩৪
মুসাদ্দাদ রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সব ধরনের অবণ্টিত স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে শুফআর ফায়সাল দিয়েছেন। এরপর সীমানা নির্ধারণ করে পথ আলাদা করে নেওয়া হলে শুফআর অধিকার থাকে না ।
হাদীস নং ২৩৩৫
আমর ইবনে আলী রহ……..সুলাইমান ইবনে আবু মুসলিম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবুল মিনহাল রহ.-কে মুদ্রার নগদ বিনিময় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমি এবং আমরা এক অংশীদার একবার কিছু মুদ্র নগদ ও বাকীতে বিনিময় করেছিলাম। এরপর বারা ইবনে আযিব রা. আমাদের কাছে এলে আমরা তাকে (সে সম্পর্কে) জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, আমি এবং আমার অংশীদার যায়েদ ইবনে আরকাম রা. এরূপ করেছিলাম।পরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে সে সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করায় তিনি বললেন, নগদে যা বিনিময় করেছ, তা বহাল রাখ, আর বাকীতে যা বিনিময় করেছ, তা প্রত্যাহার কর।
হাদীস নং ২৩৩৬
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বারে জমি এ শর্তে ইয়াহুদীদের দিয়েছেলেন যে, তারা নিজেদের শ্রমে তাঁতে চাষাবাদ করবে, তার বিনিময়ে উৎপন্ন ফসলের অর্ধেক তাদের হবে।
হাদীস নং ২৩৩৭
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………উকবা ইবনে আমির রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর কিছু বকরী সাহাবীদের মাঝে বন্টনের জন্য তাকে (দায়িত্ব) দিয়ে ছিলেন। বন্টন শেষে এক বছর বয়সী একটা ছাগল ছানা রয়ে গেল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- কে সে কথা জানালে তিনি ইরশাদ করলেন : ওটা তুমিই কুরবানী কর।
হাদীস নং ২৩৩৮
আসবাগ ইবনে ফারজ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে হিশাম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাক্ষাৎ পেয়েছিলেন। তার মা যায়নাব বিনতে হুমাইদ রা. একবার তাকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট নিয়ে গেলেন এবং বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! একে বায়আত করে নিন। তিনি বললেন : সে তো ছোট। তখন তিনি তার মাথায় হাত বুলালেন এবং তার জন্য দু’আ করলেন। (একই সনদে) যুহরা ইবনে মাবাদ রহ. থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, তার দাদা আবদুল্লাহ ইবনে হিশাম রা. তাকে নিয়ে বাজারে যেতেন, খাদ্য সমাগ্রী করিদ করতেন। পথে ইবনে উমর রা. ও ইবনে যুবাইরের সাথে দেখা হলে তারা তাকে বলতেন (আপনার সাথে ব্যবসায়) আমাদেরও শরীক করে নিন। কেননা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনার জন্য বরকতের দু’আ করেছেন। এ কথায় তিনি তাদের শরীক করে নিতেন। অনেক সময় (লভ্যাংশ হিসাবে) এক উট বোঝাই মাল তিনি ভাগে পেতেন আর তা বাড়িতে পাঠিয়ে দিতেন।
