হাদীস নং ২২৮১
উসমান ইবনে আবু শায়বা রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের ভাইকে সাহায্য কর, সে জালিম হোক বা মাজলুম। (অর্থাৎ জালিম ভাইকে জুলুম থেকে বিরত রাখবে এবং মাজলুম ভাইকে জালিমের হাত থেকে রক্ষা করবে)।
হাদীস নং ২২৮২
মুসাদ্দাদ রহ……….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমার ভাইকে সাহায্য কর, সে জালিম হোক বা মাজলুম। তিনি (আনাস) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! মাজলুমকে সাহায্য করব, তা তো বুঝলাম। কিন্তু জালিমকে কি করে সাহায্য করব? তিনি বললেন : তুমি তার হাত ধরে তাকে বিরত রাখবে। (অর্থাৎ তাকে জুলুম করতে দিবে না)।
হাদীস নং ২২৮৩
সাঈদ ইবনে রাবী রহ………বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সাতটি বিষয়ে আদেশ দিয়েছেন এবং সাতটি বিষয়ে নিষেধ করেছেন। তারপর তিনি উল্লেখ করলেন, পীড়িতের খোঁজখবর নেওয়া, জানাযার অনুসরণ করা, হাঁচির জাবাবে ইয়ারহামুকাল্লাহ বলা, সালামের জওয়াব দেওয়া, মাজলুমকে সাহায্য করা, আহবানকারীর প্রতি সাড়া দেওয়া, কসমকারীকে দায়িত্ব মুক্ত করা।
হাদীস নং ২২৮৪
মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ……….আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : এক মুমিন আর এক মুমিনের জন্য ইমারত তুল্য যার এক অংশ আর এক অংশকে সুদৃঢ় করে। আর তিনি তাঁর এক হাতের আঙ্গুল আর এক হাতের আঙ্গুলে প্রবেশ করিয়ে দেখালেন।
হাদীস নং ২২৮৫
আহমদ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : জুলুম কিয়ামতের দিন অনেক অন্ধকারের রূপ ধারণ করবে।
হাদীস নং ২২৮৬
ইয়াহইয়া ইবনে মূসা রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন মুআয রা.-কে ইয়ামানে পাঠান এবং তাকে বলেন, মাজলুমের ফরিয়াদকে ভয় করবে। কেননা তার ফরিয়াদ এবং আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা থাকে না।
হাদীস নং ২২৮৭
আদম ইবনে ইয়াস রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের সম্ভ্রম হানী বা অন্য কোন বিষয়ে জুলুমের জন্য দায়ী থাকে, সে যেন আজই তার কাছ থেকে মাফ করায়ে নেয়, সে দিন আসার পূর্বে যে দিন তার কোন দীনার বা দিরহাম থাকবে না। সে দিন তার কোন সৎকর্ম থাকলে তার জুলুমের পরিমাণ তা তার নিকট থেকে নেওয়া হবে আর তার কোন সৎকর্ম না থাকলে তার প্রতিপক্ষের পাপ থেকে নিয়ে তা তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, ইসমাঈল ইবনে উয়াইস রহ. বলেছেন, সাঈদ আল-মাকবুরী রহ. কবরস্থানের পার্শ্বে অবস্থান করতেন বলে তাকে আল-মাকবুরী বলা হত। আবু আবদুল্লাহ রহ. এও বলেছেন, সাঈদ আল-মাকবুরী হলেন, বনূ লাইসের আযাদকৃত গোলাম। ইনি হলেন সাঈদ ইবনে আবু সাঈদ। আর আবু সাঈদের নাম হল কায়সান।
হাদীস নং ২২৮৮
মুহাম্মদ রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, কোন স্ত্রী যদি স্বামীর দুর্ব্যবহার ও উপেক্ষার আশংকা করে (৪ : ১২৮) আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে তিনি (আয়িশা) বলেন, এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর কাছে বেশী যাওয়া-আসা করত না বরং তাকে আলাদা অর্থাৎ তালাক দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করত। এ অবস্থায় স্ত্রী বলল, আমি তোমাকে আমার ব্যাপারে দায়মুক্ত করে দিলাম। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে এই আয়াতটি নাযিল হয়।
হাদীস নং ২২৮৯
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………সাহল ইবনে সাদ সাঈদী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কিছু পানীয় দ্রব্য আনা হল। তিনি তার কিছুটা পান করলেন। তাঁর ডান দিকে বসা ছিল একটি বালক আর বাম দিকে ছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠরা। তিনি বালকটিকে বললেন, এ বয়োজ্যেষ্ঠদের কে দেওয়ার জন্য আমাকে অনুমতি দিবে কি ? তখন বালকটি বলল, না ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আল্লাহর কসম, আমি আপনার কাছ থেকে প্রাপ্য আমার অংশে কাউকে অগ্রাধিকার দিব না। রাবী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পানির পেয়ালাটা তার হাতে ঠেলে দিলেন।
হাদীস নং ২২৯০
আবুল ইয়ামান রহ………সাঈদ ইবনে যায়েদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কারো জমির অংশ জুলুম করে কেড়ে নেয়, কিয়ামতের দিন এর সাত তবক জমিন তার গলায় লটকিয়ে দেওয়া হবে।
হাদীস নং ২২৯১
আবু মামার রহ……….আবু সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বর্ণনা করেন যে, তাঁর এবং কয়েকজন লোকের মধ্যে একটি বিবাদ ছিল। আয়িশা রা.-এর কাছে উল্লেখ করা হলে তিনি বললেন, হে আবু সালামা ! জমির ব্যাপারে সতর্ক থাক। কেননা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি এক বিঘত জমি অন্যায়ভাবে নিয়ে নেয়, (কিয়ামতের দিন) এর সাত তবক জমি তার গলায় লটকিয়ে দেওয়া হবে।
হাদীস নং ২২৯২
মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………..সালিম রা.-এর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে সামান্য পরিমাণ জমিও নিয়ে নিবে, কিয়ামতের দিন তাকে সাত তবক জমিনের নীচ পর্যন্ত ধসিয়ে দেওয়া হবে। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. কর্তৃক খুরাসানে রচিত হাদীসগ্রন্থে এ হাদীসটি নেই। এ হাদীসটি বসরায় লোকজনকে শুনানো হয়েছে।
