হাদীস নং ২২৯৩
হাফস ইবনে উমর রহ……..জাবালা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা মদীনায় কিছু সংখ্যক ইরাক লোকের সঙ্গে ছিলাম। একবার আমরা দুর্ভিক্ষের কবলে পতিত হই, তখন ইবনে যুবাইর রা. আমাদেরকে খেজুর খেতে দিতেন। ইবনে উমররা. আমাদের কাছ দিয়ে যেতেন এবং বলতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কাউকে তার ভাইয়ের অনুমতি ছাড়া এক সাথে দুটো করে খেজুর খেতে নিষেধ করেছেন।
হাদীস নং ২২৯৪
আবু নুমান রহ………আবু মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত যে, আবু শুয়াইব রা. নামক এক আনাসারী গোশত বিক্রেতা একজন গোলাম ছিল। একদিন আবু শুয়াইব রা. তাকে বললেন , আমার জন্য পাঁচ জন্য লোকের খাবার তৈরী কর। আমি আশা করছি যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দাওয়াত করব। আর তিনি হলেন পাঁচ জনের একজন । উক্ত আনসারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারায় ক্ষুধার চাপ লক্ষ্য করেছিলেন। কাজেই তিনি তাকে দাওয়াত করলেন। কিন্তু তাদের সঙ্গে আরেকজন লোক আসলেন, যাকে দাওয়াত করা হয়নি। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (আনাসারীকে) বললেন : এ আমাদের পিছে পিছে চলে এসেছে। তুমি কি তাকে অনুমতি দিচ্ছ? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
হাদীস নং ২২৯৫
আবু আসিম রহ………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আল্লাহর নিকট সেই লোক সবচেয়ে বেশী ঘৃণীত, যে অতি ঝগড়াটে।
হাদীস নং ২২৯৬
আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ………. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিণী উম্মু সালামা রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একদিন তিনি তাঁর ঘরের দরজার নিকটে ঝগড়ার শব্দ শুনতে পেয়ে তাদের নিকট বেরিয়ে আসলেন।(তাঁর কাছে বিচার চাওয়া হল) তিনি বললেন : আমি তো একজন মানুষ। আমার কাছে (কোন কোন সময়) ঝগড়াকারীরা আসে। তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ অন্যের চাইতে অধিক বাকপটু। তখন আমি মনে করি যে, সে সত্য বলেছে। তাই আমি তার পক্ষে রায় দেই। বিচারে যদি আমি ভুলবশত অন্য কোন মুসলমানের হক তাকে দিয়ে থাকি, তবে তা দোযখের টুকরা। এখন সে তা গ্রহণ করুক বা ত্যাগ করুক।
হাদীস নং ২২৯৭
বিশর ইবনে খালিদ রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : চারটি স্বভাব যার মধ্যে থাকে, সে মুনাফিক অথবা যার মধ্যে, এ চারটি স্বভাবের কোন একটা থাকে, তার মধ্যেও মুনাফিকীর একটি স্বভাব থাকে, যে পর্যন্ত সে তা পরিত্যাগ করে। ১. সে যখন কথা বলে মিথ্যা বলে ২. যখন ওয়াদা করে ভঙ্গ করে ৩. যখন চুক্তি করে তা লংঘন করে ৪. যখন ঝগড়া করে অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করে।
হাদীস নং ২২৯৮
আবুল ইয়ামান রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন উতবা ইবনে রবীআর কন্যা হিন্দা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! (আমার স্বামী) আবু সুফিয়ান কৃপণ লোক। তার সম্পদ থেকে যদি আমার সন্তানদের খেতে দেই, তাহলে আমার কোন গুনাহ হবে কি ? তখন তিনি বললেন : যদি তুমি তাদেরকে ন্যায়সংগতভাবে খেতে দাও তাহলে কোন তোমার গুনাহ হবে না।
হাদীস নং ২২৯৯
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….উকবা ইবনে আমির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বললাম, আপনি যখন আমাদের কোন অভিযানে পাঠান, আর আমরা এমন কওমের কাছে অবতরণ করি, যারা আমাদের মেহমানদারী করে না। এ ব্যাপারে আপনি কি বলেন ? তিনি আমাদের বললেন, যদি তোমরা কোন কওমের কাছে অবতরণ কর এবং তোমাদের জন্য যদি উপযুক্ত মেহমানদারীর আয়োজন করা হয়, তবে তোমরা তা গ্রহণ করবে, আর যদি তা না করে তবে তাদের কাছ থেকে মেহমানের হক আদায় করে নিবে।
হাদীস নং ২৩০০
ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ……….উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহ তা’আলা যখন তাঁর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে তাঁর সান্নিধ্যে উঠিয়ে নিলেন, তখন আনসারগণ বনূ সাঈদা গোত্রের ছায়া ছাউনীতে গিয়ে সমবেত হলেন। আমি আবু বকর রা. -কে বললাম, আমাদের সঙ্গে চলুন। এরপর আমরা তাদের নিকট সাকীফাহ বনূ সাঈদাতে গিয়ে পৌঁছলাম।
হাদীস নং ২৩০১
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোন প্রতিবেশী যেন তার প্রতিবেশীকে তার দেয়ালে খুটি পুঁততে নিষেধ না করে। তারপর আবু হুরায়রা রা. বলেন, কি হল, আমি তোমাদেরকে এ হাদীস থেকে উদাসীন দেখতে পাচ্ছি। আল্লাহর কসম, আমি সব সময় তোমাদেরকে এ হাদীস বলতে থাকব।
হাদীস নং ২৩০২
মুহাম্মদ ইবনে আবদুর রাহীম আবু ইয়াইয়া রহ……আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি আবু তালহার বাড়িতে লোকজনকে শরাব পান করাচ্ছিলাম। সে সময় লোকেরা ফাযীখ শরাব ব্যবহার করতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে আদেশ করলেন, যেন সে মর্মে ঘোষণা দেয় যে, সাবধান ! শরাব এখন থেকে হারাম করে দেওয়া হয়েছে। আবু তালহা রা. আমাকে বললেন, বাইরে যাও এবং সমস্ত শরাব ঢেলে দাও। আমি বাইরে গেলাম এবং সমস্ত শরাব রাস্তায় ঢেলে দিলাম। আনাস রা. বলেন, সেদিন মদীনার অলিগলিতে শরাবের প্লাবন বয়ে গিয়েছিল। তখন কেউ কেউ বলল, একদল লোক নিহত হয়েছে, অথচ তাদের পেটে শরাব ছিল। তখন এ আয়াত নাযিল হল: যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে, তারা পূর্বে যা কিছু পানাহার করেছে তার জন্য তাদের কোন গুনাহ হবে না (৫:৯৩)।
