হাদীস নং ২২৭৫
আবদান রহ……….সালামা রা. থেকে হাদীসটি বর্ণনা করে বলেছেন যে, সুওয়াইদ ইবনে গাফালা রহ. বলেন যে, আমি উবাই ইবনে কাব রা.-এর সঙ্গে মক্কায় সাক্ষাত করলাম। তখন তিনি (এ হাদীস সম্পর্কে) বললেন, আমার স্মরণ নেই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন বছর যাবত না এক বছর যাবত ঘোষণা দিতে বলেছেন।
হাদীস নং ২২৭৬
মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ…………যায়েদ ইবনে খালিদ রা. থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জনৈক বেদুঈন এসে পড়ে থাকা বস্তু গ্রহণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এক বছর যাবত এর ঘোষণা দিতে এর মধ্যে যদি কোন ব্যক্তি আসে এবং তোমাকে তার থলে ও বাঁধন সম্পর্কে বিবরণ দেয় (তবে তাকে দিয়ে দিবে) নতুবা তুমি তা ব্যবহার করবে। এরপর সে হারিয়ে যাওয়া উট সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। এতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর চেহারার রং পরিবর্তন হয়ে গেল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এতে তোমার কি প্রয়োজন ? তার সাথেই (জুতার ন্যায়) ক্ষুর ও মশক রয়েছে, সে নিজেই পানির কাছে যায় এবং গাছের পাতা খায়। তারপর সে হারিয়ে যাওয়া বকরী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : সেটা তোমার অথবা তোমার ভাইয়ের অথবা নেকড়ের জন্য।
হাদীস নং ২২৭৭
ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ও আবদুল্লাহ ইবনে রাজা রহ…………আবু বকর রা.থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আম (হিজরত করে মদীনার দিকে) যাচ্ছিলাম। তখন বকরীর এক রাখালের সাথে দেখা হল। সে তার বকরীগুলো হাঁকিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল । আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম, তুমি কার রাখাল। সে কুরাইশ গোত্রর এক ব্যক্তির নাম বলল। আমি সে ব্যক্তিকে চিনতাম।আমি তাকে বললাম তোমার বকরীর দুধ আছে কি ? সে বলল, হ্যাঁ, আছে। তখন আমি তাকে বললাম, তুমি আমাকে দুধ দোহন করে দিবে কি ? সে বলল, হ্যা দিব। তখন আমি তাকে দুধ দোহন করতে বললাম। বকরীর পাল থেকে সে একটি বকরী ধরে নিয়ে এল। আমি তাকে এর ওলান ধুলাবালি থেকে পরিষ্কার করে নিতে এবং তার হাতও পরিষ্কার করে নিতে বললাম। সে তদ্রূপ করল। এক হাত দিয়ে অপর হাত ঝেড়ে সে এক পেয়ালা দুধ দোহন করল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি পাত্র রেখেছিলাম। যার মুখে কাপড়ের টুকরা রাখা ছিল। তা থেকে আমি দুধের উপর (পানি) ঢেলে দিলাম। এতে দুধ নীচ পর্যন্ত ঠাণ্ডা হয়ে গেল। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এই দুধ নিয়ে গেলাম এবং বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি পান করুন। তিনি তা পান করলেন। এতে আমি আনন্দিত হলাম।
জুলুম ও কিসাস অধ্যায় (২২৭৮-২৩২০)
হাদীস নং ২২৭৮
ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ………আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুমিনগণ যখন জাহান্নাম থেকে নাজাত পাবে তখন জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে এক পুলের উপর তাদের আটকে রাখা হবে।তখন পৃথিবীতে একের প্রতি অন্যের যা যা জুলুম ও অন্যায় ছিল, তার প্রতিশোধ গ্রহণের পরে যখন তারা পরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে, তখন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। সেই সত্তার কসম, যার হাতে মুহাম্মদের প্রাণ, নিশ্চয়ই তাদের প্রত্যেকে পৃথিবীতে তার আবাসস্থল যেরূপ চিনত, তার চাইতে অধিক তার জান্নাতের আবাসস্থল চিনতে পারবে।
হাদীস নং ২২৭৯
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………..সাফওয়ান ইবনে মুহরিয আল-মাযিনী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন আমি ইবনে উমর রা.-এর সাথে তাঁর হাত ধরে চলছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি এসে বলল, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’আলা ও তাঁর মুমিন বান্দার একান্তে কথাবার্তা সম্পর্কে আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে কি বলতে শুনেছেন ? তখন তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা’আলা মুমিন ব্যক্তিকে নিজের কাছে নিয়ে আসবেন এবং তার উপর স্বীয় আবরণ দ্বারা তাকে ঢেকে নিবেন। তারপর বললেন, অমুক পাপের কথা কি তুমি জান? তখন সে বলবে, হ্যাঁ, হে আমার প্রতিপালক ! এভাবে তিনি তার কাছ থেকে তার পাপগুলো স্বীকার করিয়ে নিবেন। আর সে মনে করবে যে, তার ধ্বংস অনিবার্য। তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, আমি পৃথিবীতে তোমার পাপ গোপন করে রেখেছিলাম। আর আজ আমি তা মাফ করে দিব। তারপর তার নেকের আমলনামা তাকে দেওয়া হবে। কিন্তু কাফির ও মুনাফিকদের সম্পর্কে সাক্ষীরা বলবে, এরাই তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিল। সাবধান, জালিমদের উপর আল্লাহর লা’নত।
হাদীস নং ২২৮০
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মুসলমান মুসলমানের ভাই। সে তার উপর জুলুম করবে না এবং তাকে জালিমের হাতে সোপর্দ করবে না। যে কেউ তার ভাইয়ের অভাব পূরণ করবে আল্লাহ তার অভাব পূরণ করবেন । যে ব্যাক্তি (পৃথিবীতে) কোন মুসলমানের বিপদ দূর করবে, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তার বিপদসমূহ দূর করবেন। যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের দোষ গোপন করবে, আল্লাহ তা’আলা কিয়ামতের দিন তার দোষ গোপন করবেন।
