হাদীস নং ২২৩২
আবু ওয়ালীদ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, জনৈক ব্যক্তি হযরত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে তার পাওনা আদায়ের কড়া তাগাদা দিল। সাহাবায়ে কিরাম তাকে শায়েস্তা করতে উদ্যত হলেন। তিনি বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। কেননা, পাওনাদারের কথা বলার অধিকার রয়েছে। তার জন্য একটি কিনে আন এবং তাকে তা দিয়ে দাও। তাঁরা বললেন, তার উটের চাইতে বেশী বয়সের উট ছাড়া আমরা পাচ্ছি না। তিনি বললেন, সেটিই কিনে তাকে দিয়ে দাও। কারণ, তোমাদের উত্তম লোক সেই, যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে।
হাদীস নং ২২৩৩
মুসলিম রহ………হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, একজন লোক মারা গেল, তাকে জিজ্ঞাসা করা হল তুমি কি বলতে ? সে বলল, আমি লোকজনের সাথে বেচা-কেনা করতাম। ধনীদেরকে অবকাশ দিতাম এবং গরীবদেরকে হ্রাস করে দিতাম। কাজেই তাকে মাফ করে দেওয়া হল। আবু মাসউদ রা. বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট হতে এ হাদীস শুনেছি।
হাদীস নং ২২৩৪
মুসাদ্দাদ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত যে, একজন লোক নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট তার (প্রাপ্য) উটের তাগাদা দিতে আসে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের বললেন : তাকে একটি উট দিয়ে দাও। তাঁরা বললেন, তার চাইতে উত্তম বয়সের উটই পাচ্ছি। লোকটি বলল, আপনি আমাকে পূর্ণ হক দিয়েছেন, আল্লাহ আপনাকে যেন পূর্ণ হক দেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তাকে সেটি দিয়ে দাও। কেননা মানুষের মধ্যে সেই উত্তম, যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে।
হাদীস নং ২২৩৫
আবু নুআইম রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যিম্মায় একজন লোকের এক নির্দিষ্ট বয়সের উট ঋণ ছিল। লোকটি তাঁর নিকট সেটির তাদাগা করতে আসল। তিনি সাহাবীদের বললেন : তাকে একটি উট দিয়ে দাও। তাঁরা সে বয়সের তালাশ করলেন। কিন্তু তার চাইতে উত্তম বয়সের উট ছাড়া পাওয়া গেলনা। তিনি বললেন: সেটি তাকে দিয়ে দাও। লোকটি বলল, আপনি আমাকে পূর্ণ হক দিয়েছেন, আল্লাহ আপনাকে যেন পূর্ণ হক দেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম, যে উত্তমরূপে ঋণ পরিশোধ করে।
হাদীস নং ২২৩৬
খাল্লাদ ইবনে ইয়াহইয়া রহ…….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আসলাম। তখন তিনি মসজিদে ছিলেন। মিসআর রহ. বলেন, আমার মনে হয়, তিনি বলেছেন, তা ছিল চাশতের ওয়াক্ত। তিনি বললেন, দু’রাকআত সালাত আদায় কর। তাঁর কাছে আমার কিছু ঋণ প্রাপ্য ছিল। তিনি আমার ঋণ আদায় করলেন এবং পাওনার চাইতেও বেশী দিলেন।
হাদীস নং ২২৩৭
আবদান রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. বর্ণনা করেন যে, তাঁর পিতা উহুদের যুদ্ধে শহীদ হন এবং তাঁর উপর কিছু ঋণ ছিল। পাওনাদাররা তাদের পাওনা সম্পর্কে কড়াকড়ি শুরু করে দিল। আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সমীপে আসলাম। তিনি তাদেরকে আমার বাগানের ফল নিয়ে নিতে এবং আমার পিতার অবশিষ্ট ঋণ মাফ করে দিতে বললেন। কিন্তু তারা তা মানল না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে আমার বাগানটি দিলেন না। আর তিনি (আমাকে) বলেন, আমরা সকালে তোমার কাছে আসব। তিনি সকাল বেলায় আমাদের কাছে আসলেন এবং বাগানের চারদিকে ঘুরে বরকতের জন্য দু’আ করলেন। আমি ফল পেড়ে তাদের সমস্ত ঋণ আদায় করে দিলাম এবং আমার কাছে কিছু অতিরিক্ত খেজুর রয়ে গেল।
হাদীস নং ২২৩৮
ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, তাঁর পিতা একজন ইয়াহুদীর কাছ থেকে নেওয়া ত্রিশ ওসাক ঋণ রেখে ইন্তিকাল করেন। জাবির রা. তার নিকট (ঋণ পরিশোধেল জন্য) সময় চান। কিন্তু সে সময় দিতে অস্বীকার করে। জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কথা বললেন, যেন তিনি তার জন্য ইয়াহুদীর কাছে সুপারিশ করেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এলেন এবং ইয়াদীর সাথে কথা বললেন, ঋণের বদলে সে যেন তার খেজুর গাছের ফল নিয়ে নেয়। কিন্তু সে তা অস্বীকার করল। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাগানে প্রবেশ করে সেখানে গাছের (চারদিক) হাঁটাচলা করলেন। তারপর তিনি জাবির রা.-কে বললেন, ফল পেড়ে তার সম্পূর্ণ প্রাপ্য আদায় করে দাও। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফিরে আসার পর তিনি ফল পাড়লেন এবং তাকে এরপর পূর্ণ ত্রিশ ওসাক (খেজুর) দিয়ে দিলেন এবং সতর ওসাক (খেজুর) অতিরিক্ত রয়ে গেল। জাবির রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বিষয়টি অবহিত করার জন্য আসলেন। তিনি তাকে আসরের সালাত আদায় করা অবস্থায় পেলেন। তিনি সালাত শেষ করলে তাকে অতিরিক্ত খেজুরের কথা অবহিত করলেন। তিনি বললেন, খবরটি ইবনে খাত্তাব রা.কে পৌঁছাও। জাবির রা. উমর রা.-এর কাছে গিয়ে খবরটি পৌঁছালেন। উমর রা. তাকে বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন বাগানে প্রবেশ করে হাঁটাচলা করলেন, তখনই আমি বুঝতে পারছিলাম যে, নিশ্চয় এতে বরকত দান করা হবে।
