হাদীস নং ২২২০
সুলাইমান ইবনে হারব রহ………..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদেরকে বাহরাইনে কিছু জায়গীর দিতে চাইলেন। তারা বলল, আমাদের মুহাজির ভাইদেরও শীঘ্রই তোমরা দেখবে, তোমাদের উপর অন্যদেরকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। তখন তোমরা সবর করবে, যে পর্যন্ত না তোমরা আমার সঙ্গে মিলিত হও।
হাদীস নং ২২২১
ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, উটের হক এই যে, পানির কাছে তার দুধ দোহন করা।
হাদীস নং ২২২২
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি খেজুর গাছ তাবীর করার পর গাছ বিক্রয় করে, তার ফল বিক্রেতার। কিন্তু ক্রেতা শর্ত করলে তা তারই। কিন্তু যদি ক্রেতা শর্ত করে তাহলে তা হবে তার। মালিক রহ………উমর রা. থেকে গোলাম বিক্রয়ের ব্যাপারে অনুরূপ বর্ণিত রয়েছে।
হাদীস নং ২২২৩
মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ……….যায়েদ ইবনে সাবিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমান করে শুকনো খেজুরের বিনিময়ে আরায়্যা বিক্রি অনুমতি দিয়েছেন।
হাদীস নং ২২২৪
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখাবারা, মুহাকালা ও শুকনো খেজুরের বিনিময়ে গাছের খেজুর বিক্রি করা এবং ফল উপযুক্ত হওয়ার আগে তা বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। গাছে থাকা অবস্থায় ফল দিনার বা দিরহামের বিনিময়ে ছাড়া যেন বিক্রি করা না হয়। তবে আরায়্যার অনুমতি দিয়েছেন।
হাদীস নং ২২২৫
ইয়াহইয়া ইবনে কাযাআ রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অনুমান করে শুকনো খেজুরের বিনিময়ে পাঁচ ওসাক কিংবা তার চাইতে কম আরায়্যার বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন।বর্ণনাকারী দাউদ এ বিষয়ে সন্দেহ করেছেন।
হাদীস নং ২২২৬
যাকারিয়া ইবনে ইয়াহইয়া রহ………..রাফি ইবনে খাদিজ ও সাহল ইবনে আবু হাসমা রা. থেকে বর্ণিত, তাঁরা উভয়ে বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুযাবানা অর্থাৎ গাছে ফল থাকা অবস্থায় তা শুকনা ফলের বিনিময়ে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। কিন্তু যারা আরায়্যা করে, তাদের জন্য তিনি এর অনুমতি দিয়েছেন।
ঋণ গ্রহণ অধ্যায় (২২২৭-২২৪৯)
হাদীস নং ২০২৭
Missing
হাদীস নং ২২২৮
মুয়াল্লা ইবনে আসাদ রহ……..আবদুল ওয়াহিদ সূত্রে আমাশ রহ. থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেন, আমরা ইবরাহীম নাখয়ীর কাছে ধার (বাকীতে) ক্রয় করা সম্পর্কে আলোচনা করলাম। তখন তিনি বললেন, আসওয়াদ রা. বর্ণনা করেন যে, আয়িশা রা. থেকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ইয়হুদীর কাছ থেকে এক নির্দিষ্ট মেয়াদে (বাকীতে) খাদ্য ক্রয় করেন এবং তার নিকট নিজের লোহার বর্মটি বন্ধক রাখেন।
হাদীস নং ২২২৯
আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ উয়ায়সী রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি মানুষের মাল (ধার) নেয় পরিশোধ করার উদ্দেশ্যে আল্লাহ তা’আলা তা আদায়ের ব্যবস্থা করে দেন। আর যে তা নেয় বিনষ্ট করার নিয়্যাতে আল্লাহ তা’আলা তাকে ধ্বংস করেন।
হাদীস নং ২২৩০
আহমদ ইবনে ইউনুস রহ………..আবু যার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে ছিলাম। যখন তিনি উহুদ পাহাড় দেখলেন, তখন বললেন, আমি পছন্দ করি না যে, এই পাহাড়টি আমার জন্য সোনার পরিণত করা হোক এবং এর মধ্য থেকে একটি দিনার ও (স্বর্ণমুদ্রা) আমার নিকট তিন দিনের বেশী থাকুক, সেই দীনার ব্যতীত যা আমি ঋণ আদায়ের জন্য রেখে দেই। তারপর তিনি বললেন, যারা অধিক সম্পদশালী তারাই স্বল্পের অধিকারী । কিন্তু যারা এভাবে ওভাবে ব্যয় করেন (তারা ব্যতীত)। (বর্ণনাকারী) আবু শিহাব তার সামনের দিকে এবং ডান ও বাম দিকে ইশারা করেন এবং বলেন, এইরূপ লোক খুব কম আছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি এখানেই অবস্থান কর। তিনি একটু দূরে গেলেন। আমি কিছু শব্দ শুনতে পেলাম। তখন আমি তার কাছে আসতে চাইলাম। এরপর আমি ফিরে আসা পর্যন্ত তুমি এখানে অবস্থান কর তার এ কথাটি আমার মনে পড়ল। তিনি যখন আসলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! যা আমি শুনলাম অথবা বললেন যে আওয়াযটি আমি শুনতে পেলাম তা কি? তিনি বললেন, তুমি কি শুনেছ ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমার কাছে জিবরীল আ. এসেছিলেন এবং তিনি বললেন, আপনার কোন উম্মত আল্লাহর সঙ্গে কোন কিছু শরীক না করে মারা গেলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যদিও সে এরূপ, এরূপ কাজ করে ? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
হাদীস নং ২২৩১
আহমদ ইবন শাবীব ইবনে সাঈদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমার কাছে যদি উহুদ পাহাড়ের সমান সোনা থাকত, তাহলেও আমার পছন্দ নয় যে, তিনদিন অতিবাহিত হওয়ার পর তার কিছু অংশ আমার কাছে থাকুক। তবে এতটুকু পরিমাণ ব্যতীত, যা আমি ঋণ পরিশোধ করার জন্য রেখে দেই। ছালিহ ও উকাইল রহ. যুহরী রহ. থেকে এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
