হাদীস নং ২২৩৯
ইসমাঈল রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে এই বলে দু’আ করতেন, হে আল্লাহ ! আমি তোমার কাছে গুনাহ এবং ঋণ থেকে পানাহ চাচ্ছি। একজন প্রশ্নকারী বলল, (ইয়া রাসূলাল্লাহ) ! আপনি ঋণ থেকে এত বেশী বেশী পানাহ চান কেন? তিনি জবাব দিলেন, মানুষ ঋণগ্রস্ত হলে যখন কথা বলে মিথ্যা বলে এবং ওয়াদা করলে তা খেলাফ করে।
হাদীস নং ২২৪০
আবুল ওয়ালীদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি মাল রেখে গেল, তা তার ওয়ারিসদের আর যে দায়-দায়িত্বের বোঝা রেখে গেল, তা আমার যিম্মায়।
হাদীস নং ২২৪১
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ………….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : দুনিয়া ও আখিরাতে আমি প্রত্যেক মুমিনেরই সবচেয়ে ঘনিষ্ঠতর। যদি তোমরা ইচ্ছা কর তাহলে এ আয়াতটি তিলাওয়াত করে দেখ : النبى أولى بالمؤمنين من أنفسهم নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুমিনদের নিকট তাদের নিজদের অপেক্ষা ঘনিষ্ঠতর। তাই যখন কোন মুমিন মারা যায় এবং মাল রেখে যায়, তাহলে তার যে আত্মীয়-স্বজন থাকে তারা তার ওয়ারিস হবে; আর যদি সে ঋণ কিংবা অসহায় পরিজন রেখে যায়, তবে তারা যেন আমার নিকট আসে; আমিই তাদের অভিভাবক।
হাদীস নং ২২৪২
মুসাদ্দাদ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ধনী ব্যক্তির (ঋণ আদায়ে) টালবাহানা করা জুলুম।
হাদীস নং ২২৪৩
মুসাদ্দাদ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এক লোক (ঋণ পরিশোধের) তাগাদা দিতে আসল এবং কড়া কথা বলল। সাহাবীগণ তাকে শায়েস্তা করতে উদ্যত হলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে ছেড়ে দাও। হকদারের (কড়া) কথা বলার অধিকার রয়েছে।
হাদীস নং ২২৪৪
আহমদ ইবনে ইউনুস রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কিংবা তিনি বলেছেন যে, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যখন কেউ তার মাল এমন লোকের কাছে পায়, যে নিঃসম্বল হয়ে গেছে, তবে অন্যের চাইতে সে-ই তার বেশী হকদার। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, এ সনদে উল্লেখিত রাবীগণ বিচারকের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। তারা হলেন ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ, আবু বকর ইবনে মুহাম্মদ, উমর ইবনে আবদুল আযীয, আবু বকর ইবনে আবদুর রাহমান রহ. ও আবু বকর রহ. তারা সকলেই মীনায় বিচারক ছিলেন।
হাদীস নং ২২৪৫
মুসাদ্দাদ রহ……….জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কেউ তার গোলামকে মরণোত্তর শর্তে আযাদ করল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কে আমার থেকে এই গোলামটি খরিদ করবে? তখন নুআইম ইবনে আবদুল্লাহ রা. সেটি ক্রয় করলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার দাম গ্রহণ করে গোলামের মালিককে দিয়ে দিলেন।
হাদীস নং ২২৪৬
মূসা রহ………জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ রা. উহুদের যুদ্ধে শহীদ হন এবং পরিবার-পরিজন ও ঋণ রেখে যান। আমি পাওনাদারের নিকট কিছু ঋণ মাফ করে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করি। কিন্তু তারা তা অস্বীকার করে। আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে তাঁর দ্বারা তাদের কাছে সুপারিশ করাই। তবুও তারা অস্বীকার করল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : প্রত্যেক শ্রেণীর খেজুর আলাদা আলাদা করে রাখ। আযক ইবনে যায়েদ এক জায়গায়, লীন আরেক জায়গায় এবং আজওয়াহ অন্য জায়গায় রাখবে। তারপর পাওনাদারদের হাযির করবে। তখন আমি তেমার নিকট আসব। আমি তাই করলাম। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসলেন এবং তার উপর বসলেন। আর প্রত্যেককে মেপে মেপে দিলেন। শেষ পর্যন্ত পুরাপুরি আদায় করলেন। কিছু খেজুর যেমন ছিল তেমনি রয়ে গেল, যেন কেউ স্পর্শ করেনি।আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে একবার আমাদের একটি উটে চড়ে জিহাদে গিয়েছিলাম। উটটি পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং আমাকে নিয়ে পেছেনে পড়ে যায়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেছন থেকে উটটিকে চাবুক মারেন এবং বলেন, এটি আমার নিকট বিক্রি করে দাও। তবে মদীনা পর্যন্ত তুমি এর উপর সাওয়ার হতে পারবে।আমরা যখন মদীনার নিকটে আসলাম তখন আমি তাঁর কাছে জলদি বাড়ী যাওয়ার অনুমতি চাইলাম এবং বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি নব বিবাহিত। তিনি বললেন, কুমারী বিয়ে করেছে, না বিবাহিতা? আমি বললাম, বিবাহিতা। কেননা (আমার পিতা) আবদুল্লাহ রা. ছোট ছোট মেয়ে রেখে শহীদ হয়েছেন। তাই আমি বিবাহিতা বিয়ে করেছি, যাতে সে তাদের জ্ঞান ও আদব শিক্ষা দিতে পারে। তিনি বললেন, তবে তোমার পরিবারের নিকট যাও। আমি গেলাম এবং উট বিক্রির কথা আমার মামার কাছে বললাম। তিনি আমাকে তিরস্কার করলেন। আমি তার নিকট উটটি ক্লান্ত হয়ে যাওয়ার এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এটিকে আঘাত করার ও তার (মুজিযার) কথা উল্লেখ করলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় পৌঁছলে আমি উটটি নিয়ে তাঁর কাছে হাযির হলাম। তিনি আমাকে উটটির মূল্য এবং উটটিও দিয়ে দিলেন। আর লোকদের সঙ্গে আমার অংশ দিলেন।
