হাদীস নং ২১৯৮
আবুল ইয়ামান রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য একটি বকরীর দুধ দোহন করা হল। তখন তিনি আনাস ইবনে মালিক রা.-এর ঘরে অবস্থান করছিলেন এবং সেই দুধের সঙ্গে আনাস ইবনে মালিকের বাড়ীর কূপের পানি মিশানো হল। তারপর পাত্রটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে দেওয়া হল। তিনি তা থেকে পান করলেন। পাত্রটি তাঁর মুখ থেকে আলাদা করার পর তিনি দেখলেন যে, তাঁর বাঁদিকে আবু বকর রা. ও বাম দিকে একজন বেদুঈন রয়েছে। পাত্রটি তিনি হয়ত বেদুঈনকে দিয়ে দেবেন এ আশংকায় উমর রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আবু বকর রা. আপনার পাশেই, তাকে পাত্রটি দিন। তিনি বেদুঈনকে পাত্রটি দিলেন, যে তাঁর ডানপাশে ছিল। তারপর তিনি বললেন, ডানদিকের লোক বেশী হকদার।
হাদীস নং ২১৯৯
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ঘাস উৎপাদন থেকে বিরত রাখার উদ্দেশ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি রুখে রাখা যাবে না।
হাদীস নং ২২০০
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : অতিরিক্ত ঘাসে বাঁধা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত পানি রুখে রাখবে না।
হাদীস নং ২২০১
মাহমুদ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : খনি ও কূপে কাজ করা অবস্থায় অথবা জন্তু-জানোয়ারের আঘাতে মারা গেলে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে না এবং রিকাযে পঞ্চমাংশ দিতে হবে।
হাদীস নং ২২০২
আবদান রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি কোন মুসলমানদের অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা কসম খায়, সে আল্লাহর সঙ্গে এমন অবস্থায় মিলিত হবে যে, আল্লাহ তার উপর অসন্তুষ্ট থাকবেন। এ প্রেক্ষিতে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেন : “যারা আল্লাহর সাথে কৃত প্রতিশ্রুতিও নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে………এর শেষ পর্যন্ত। (৩ : ৭৭) এরপর আশআস রা. এসে বলেন, আবু আবদুর রাহমান রা. তোমার নিকট কি হাদীস বর্ণনা করছিলেন ? এ আয়াতটি তো আমার সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। আমার চাচাতো ভাইয়ের জায়গায় আমার একটি কূপ ছিল। (এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে বিবাদ হওয়ায়) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন : তোমার সাক্ষী পেশ কর। আমি বললাম, আমার সাক্ষী নেই। তিনি বললেন : তাহলে তাকে কসম খেতে হবে। আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! সে তো কসম করবে। এ সময় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ হাদীস বর্ণনা করেন এবং আল্লাহ তা’আলা তাকে সত্যায়িত করে এই আয়াতটি নাযিল করেন।
হাদীস নং ২২০৩
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণীর লোকের প্রতি আল্লাহ তা’আলা দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। এক ব্যক্তি যার নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি আছে, অথচ সে মুসাফিরকে তা দিতে অস্বীকার করে। অন্য একজন সে ব্যক্তি, যে ইমামের হাতে একমাত্র দুনিয়ার স্বার্থে বায়আত হয়। যদি ইমাম তাকে দুনিয়াবি সুযোগ দেন, তাহলে সে খুশী হয়, আর যদি না দেন তবে সে অসন্তুষ্ট হয়। অন্য একজন সে ব্যক্তি, যে আসরের সালাত আদায়ের পর তার জিনিসপত্র (বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে) তুলে ধরে আর বলে যে, আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই, আমার এই দ্রব্যের মূল্য এতো দিতে আগ্রহ করা হয়েছে। (কিন্তু আমি বিক্রি করিনি) এতে এক ব্যক্তি তাকে বিশ্বাস করে (তা ক্রয় করে নেয়) এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেন, “যারা আল্লাহর কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে (৩:৭৭)।
হাদীস নং ২২০৪
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জনৈক আনসারী নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে যুবাইর রা.-এর সঙ্গে হাররার নালার পানির ব্যাপারে ঝগড়া করল, যে পানি দ্বারা খেজুর বাগন সিঞ্চন করত। আনসারী বলল, নালার পানি ছেড়ে দিন, যাতে তা (প্রবাহিত থাকে) কিন্তু যুবাইর রা. তা দিতে অস্বীকার করেন। তারা দু’জনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকটে এ নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবাইর রা.-কে বললেন : হে যুবাইর ! তোমার যমীনে (প্রথমে) সিঞ্চন করে নাও। এরপর তোমার প্রতিবেশীর দিকে পানি ছেড়ে দাও। এতে আনসারী অসন্তুষ্ট হয়ে বলল, সে তো আপনার ফুফাত ভাই। এতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারায় অসন্তুষ্টির লক্ষণ প্রকাশ পেল। এরপর তিনি বললেন : হে যুবাইর ! তুমি নিজের জমি সিঞ্চন কর। এরপর পানি আটকিয়ে রাখ, যাতে তা বাঁধ পর্যন্ত পৌঁছে। যুবাইর রা. বললেন : আল্লাহর কসম, আমার মনে হয়, এ আয়াতটি এ সম্পর্কে নাযিল হয়েছে : “কিন্তু না, তোমার রবের কসম ! তারা মুমিন হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ বিসম্বাদের বিচার ভার আপনার উপর অর্পন না করে (৪: ৬৫)।
