হাদীস নং ২১৯২
ইয়াতহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….সালিম রহ. থেকে বর্ণিত যে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেছেন, আমি জানতাম যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় ক্ষেত বর্গাচাষ করতে দেয়া হত। তারপর আবদুল্লাহ রা.-এর ভয় হল, হয়ত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ সম্পর্কে এমন কিছু নতুন নির্দেশ দিয়েছেন, যা তাঁর জানা নেই। তাই তিনি ভাগে জমি ইজারা দেওয়া ছেড়ে দিলেন।
হাদীস নং ২১৯৩
আমর ইবনে খালিদ রহ……..রাফি ইবনে খাদীজ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার কাছে আমার চাচারা বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় লোকেরা নালার পার্শ্বস্থ ফসলের শর্তে কিংবা এমন কিছু শর্তে ভাগে জমি ইজারা দিত, যা ক্ষেতের মালিক নিজের জন্য নির্দিষ্ট করে নিত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের এরূপ করতে নিষেধ করেন। রাবী বলেন, আমি রাফি রা.-কে বললাম, দীনার ও দিরহামের শর্তে জমি (ইজারা দেওয়া) কেমন ? রাফি রা. বললেন, দীনার ও দিরহামের বিনিময়ে ইজারা দেওয়াতে কোন দোষ নেই। (লায়ছ রহ. বলেন, আমার মনে হয়, যে বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে, হালাল ও হারাম বিষয়ে বিজ্ঞজনেরা সে সম্পর্কে চিন্তা করলেও তারা তা জায়িয মনে করবেন না। কেননা, তাঁতে (ক্ষতির) আশংকা রয়েছে। আবু আবদুল্লাহ (ইমাম বুখারী রহ.) বলেন, আমার মনে হয় যে, বিষয়ে নিষেধ করা হয়েছে-এখান থেকে লাইছ রহ.-এর উক্তি শুরু হয়েছে।
হাদীস নং ২১৯৪
মুহাম্মদ ইবনে সিনান রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথা বলছিলেন, তখন তাঁর নিকট গ্রামের একজন লোক বসা ছিল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনা করেন যে, জান্নাতবাসীদের কোন একজন তার রবের কাছে চাষাবাদের অনুমতি চাইবে। তখন আল্লহ তা’আলা তাকে বললেন, তুমি কি যা চাও, তা পাচ্ছ না? সে বলবে, হ্যাঁ নিশ্চয়ই। কিন্তু আমার চাষ করার খুবই আগ্রহ।। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তখন সে বীজ বুনবে এবং তার চারা হওয়া, গাছ বড় হওয়া ও ফসল কাটা সব কিছু পলকের মধ্যে হয়ে যাবে। আর তা (ফসল) পাহাড় সমান হয়ে যাবে। তখন আল্লাহ তা’আলা বলবেন, হে আদম সন্তান ! এ গুলো নিয়ে নাও। কোন কিছুই তোমাকে তৃপ্তি দেয় না। তখন গ্রাম্য লোকটি বলে উঠল, আল্লাহর কসম, এই ধরনের লোক আপনি কুরাইশী বা আনসারদের মধ্যেই পাবেন। কেননা তাঁরা চাষী। আর আমরা তো চাষী নই। (আমরা পশু পালন করি) এ কথা শুনে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হেঁসে দিলেন।
হাদীস নং ২১৯৫
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জুমুআর দিন আসলে আমরা আনন্দিত হতাম এ জন্য যে, আমাদের (প্রতিবেশী) এক বৃদ্ধা ছিলেন, তিনি আমাদের নালার ধারে লাগানো বীট গাছের মূল তুলে এনে তার ডেকচিতে রাখতেন এবং তার সাথে যবের দানাও মিশাইতেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার যতটুকু মনে পড়ে তিনি (সাহল) বলেছেন যে, তাঁতে কোন চর্বি বা তৈলাক্ত কিছু থাকতো না। আমরা জুমুআর সালাতের পর বৃদ্ধার নিকট আসতাম এবং তিনি তা আমাদের সামনে পরিবেশন করতেন। এ কারণে জুমুআর দিন আমাদের খুব আনন্দ হত। আমরা জুমুআর সালাতের পরই আহার করতাম এবং কায়লুলা (বিশ্রাম) করতাম।
হাদীস নং ২১৯৬
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকজন বলে যে, আবু হুরায়রা রা. বেশী হাদীস বর্ণনা করে থাকেন। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর কাছেই সবার প্রত্যাবর্তন। এবং তারা আরো বলে, মুহাজির ও আনসারদের কি হল যে, তারা আবু হুরায়রা মত এতো হাদীস বর্ণনা করেন না। (আবু হুরায়রা রা. বলেন) আমার মুহাজির ভাইদেরকে বাজারে বেচা-কেনা এবং আনসার ভাইদেরকে তাদের ক্ষেত-খামার ও বাগানের কাজ-কর্ম ব্যতিব্যস্ত রাখত। আমি ছিলাম একজন মিসকীন লোক। পেটে যা জুটে, খেয়ে না খেয়ে তাতেই তুষ্ট থেকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে পড়ে থাকতাম। তাই লোকেরা যখন অনুপস্থিত থাকত, আমি হাযির থাকতাম। লোকেরা যা ভুলে যেত আমি তা স্মরণ রাখতাম। একদিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমাদের যে কেউ আমার কথা শেষ হওয়া পর্যন্ত তার চাদর বিছিয়ে রাখবে এবং আমার কথা শেষ হলে চাদরখানা তার বুকের সাথে মিলাবে, তাহলে সে আমার কোন কথা ভুলবে না। আমি আমার পশমী চাদরটা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিছিয়ে রাখলাম। সে চাদর ছাড়া আমার গায়ে আর কোন চাদর ছিল না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কথা শেষ হওয়ার পর আমি তা আমার বুকের সাথে মিলালাম। সে সত্তার কসম, যিনি তাকে সত্য দিয়ে প্রেরণ করেছেন, আজ পর্যন্ত আমি তাঁর একটি কথাও ভুলিনি। আল্লাহর কসম ! যদি আল্লাহর কিতাবের এ দুটি আয়াত না থাকত, তবে আমি কখনো তোমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করতাম না। (তা এই) “যারা আমার নাযিলকৃত নিদর্শনসমূহ গোপন করে………….আল্লাহ অত্যন্ত দয়ালু” পর্যন্ত।
পানি সিঞ্চন অধ্যায় (২১৯৭-২২২৬)
হাদীস নং ২১৯৭
সাঈদ ইবনে আবু মারয়াম রহ……….সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট একটি পিয়ালা আনা হল। তিনি তা থেকে পান করলেন। তখন তাঁর ডান দিকে ছিল একজন বয়ঃকনিষ্ঠ বালক আর বয়স্ক লোক ছিলেন তাঁর বাম দিকে। তিনি বললেন, হে বালক ! তুমি কি আমাকে অবশিষ্ট (পানিটুকু) বয়স্কদের কে দেওয়ার অনুমতি দিবে ? সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনার অবশিষ্ট পানির ব্যাপারে আমি কাউকে প্রাধান্য দিব না। এরপর তিনি তা তাকে দিলেন।
