হাদীস নং ২২০৫
আবদান রহ………উরওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যুবাইর রা. এক আনসারীর সঙ্গে ব্যাপারে ঝগড়া করলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুবাইর রা.-কে বললেন : হে যুবাইর ! জমিতে পানি সেচের পর তা ছেড়ে দাও। এতে আনসারী বলল, সে তো আপনার ফুফাত ভাই। এরপর তিনি বললেন : হে যুবাইর ! পানি বাঁধে পৌঁছা পর্যন্ত সেচ দিতে থাক। তারপর বন্ধ করে দাও। যুবাইর রা. বললেন : আমার মনে হয়, এ আয়াতটি এ সম্পর্কে নাযিল হয়েছে : “কিন্তু না, তোমার রবের কসম ! তারা মুমিন হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ বিসম্বাদের বিচার ভার আপনার উপর অর্পন না করে (৪: ৬৫)।
হাদীস নং ২২০৬
মুহাম্মদ রহ………উরওয়া ইবনে যুবাইর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন আনসারী যুবাইর রা.-এর সঙ্গে হাররার নালার পানির ব্যাপারে ঝগড়া করল, যে পানি দ্বারা খেজুর বাগান সিঞ্চন করত। এ বিষয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হে যুবাইর ! সেচ দিতে থাক। তারপর নিয়ম-নীতি অনুযায়ী তিনি তাকে নির্দেশ দিলেন, তারপর তা তোমার প্রতিবেশীর জন্য ছেড়ে দাও। এতে আনসারী বলল, সে তো আপনার ফুফাত ভাই। এতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর চেহারায় অসন্তুষ্টির লক্ষণ প্রকাশ পেল। এরপর তিনি বললেন : হে যুবাইর ! পানি বাঁধে পৌঁছা পর্যন্ত সেচ দিতে থাক। তারপর বন্ধ করে দাও। যুবাইরকে তার পূর্ন হক দিলেন। যুবাইর রা. বললেন : আল্লাহর কসম, আমার মনে হয়, এ আয়াতটি এ সম্পর্কে নাযিল হয়েছে : “কিন্তু না, তোমার রবের কসম ! তারা মুমিন হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের বিবাদ বিসম্বাদের বিচার ভার আপনার উপর অর্পন না করে (৪: ৬৫)। বর্ণনাকারী বলেন, ইবনে শিহাবের বর্ণনা হচ্ছে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথা পানি নেয়ার পর বাঁধ অবধি পৌছা পর্যন্ত তা বন্ধ রাখ। আনসার এবং অন্যান্য লোকেরা এর পরিমাণ করে দেখেছেন যে, তা টাখনু পর্যন্ত পৌঁছে।
হাদীস নং ২২০৭
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : একজন লোক রাস্তা দিয়ে চলতে চলতে তার ভীষণ পিপাসা লাগল। সে কূপে নেমে পানি পান করল। এরপর সে বের হয়ে দেখতে পেল যে, একটা কুকুর হাঁপাচ্ছে এবং পিপাসায় কাতর হয়ে মাটি চাটছে। সে ভাবল, কুকুরটাও আমার মত পিপাসা লেগেছে। সে কূপের মধ্যে নামল এবং নিজের মোজা ভরে পানি নিয়ে মুখ দিয়ে সেটি ধরে উপরে উঠে এসে কুকুরটিকে পানি পান করাল। আল্লাহ পাক তার আমল কবুল করলেন এবং আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দেন। সাহাবীগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! চতুষ্পদ জন্তুর উপকার করলেও কি আমাদের সাওয়াব হবে? তিনি বললেন : প্রত্যেক প্রাণীর উপকার করাতেই সাওয়াব রয়েছে।
হাদীস নং ২২০৮
ইবনে আবু মারয়াম রহ…….আসমা বিনতে আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্য গ্রহণের সালাত আদায় করলেন। তারপর বললেন : দোযখ আমার নিকটবর্তী করা হলে আমি বললাম, হে রব, আমিও কি এই দোযখীদের সাথী হব? এমতাবস্থায় একজন মহিলা আমার নযরে পড়ল। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা, তিনি বলেছেন : বিড়াল তাকে (মহিলা) খামছাচ্ছিল। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ মহিলার কি হল? ফেরেশতারা জবাব দিলেন, সে একটি বিড়াল বেঁধে রেখেছিল, যার কারণে বিড়ালটি ক্ষুধায় মারা যায়।
হাদীস নং ২২০৯
ইসমাঈল রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : একজন মহিলাকে একটি বিড়ালের কারণে আযাব দেওয়া হয়। সে বিড়ালটি বেঁধে রেখেছিল, অবশেষে বিড়ালটি মারা যায়। এ কারণে মহিলা জাহান্নামে প্রবেশ করল। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, আল্লাহ ভালো জানেন, বাঁধা থাকাকালীন তুমি তাকে না খেতে দিয়েছিলে, না পান করতে দিয়েছিলে এবং না তুমি তাকে ছেড়ে দিয়েছিলে, তাহলে সে যমীনে পোক-মাকড় খেয়ে বেঁচে থাকত।
হাদীস নং ২২১০
কুতাইবা রহ………সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট একটি পানির পেয়ালা আনা হল। তিনি তা থেকে পান করলেন। তাঁর ডানদিকে একজন বালক ছিল, সে ছিল লোকদের মধ্যে সবচাইতে কম বয়স্ক এবং বয়োজ্যেষ্ঠ লোকেরা তার তার বাম দিকে ছিল। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : হে বালক! তুমি কি আমাকে জ্যেষ্ঠদের এটি দিতে অনুমতি দিবে ? সে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি আপনার উচ্ছিষ্টের ব্যাপারে নিজের উপর কাউকে প্রাধান্য দিতে চাই না। এরপর তিনি তাকেই সেটি দিলেন।
হাদীস নং ২২১১
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, আমি নিশ্চয়ই (কিয়ামতের দিন) আমার হাউজ (কাউসার) থেকে কিছু লোকদেরকে এমনভাবে তাড়াব, যেমন অপরিচিত উট হাউজ হতে তাড়ান হয়।
হাদীস নং ২২১২
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ…….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : ইসমাঈল আ.-এর মা হাজেরা আ.-এর উপর আল্লাহ রহম করুন। কেননা যদি তিনি যমযমকে স্বাভাবিক অবস্থায় ছেড়ে দিতেন অথবা তিনি বলেছেন : যদি তা হতে অঞ্জলে পানি না নিতেন, তাহলে তা একটি প্রবাহিত ঝরনায় পরিণত হত। জুরহাম গোত্র তাঁর নিকট এসে বলল, আপনি কি আমাদেরকে আপনার নিকট অবস্থান করার অনুমতি দিবেন? তিনি (হাজেরা) বললেন, হ্যাঁ। তবে পানির উপর তোমাদের কোন অধিকার থাকবে না। তারা বলল, ঠিক আছে।
