হাদীস নং ২১৮৪
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি এমন কোন জমি আবাদ করে, যা কারো মালিকনায় নয়, তাহলে সেই (মালিক হওয়ার) বেশী হকদার। উরওয়া রহ. বলেন, উমর রা. তাঁর খিলাফতকালে এরূপ ফায়সালা দিয়েছিলেন।
হাদীস নং ২১৮৫
কুতাইবা রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যুল-হুলাইফার উপত্যকায় শেষরাতে বিশ্রাম করছিলেন। তিনি স্বপ্নে দেখলেন যে, তাকে বলা হল, আপনি বরকতময় উপত্যকায় রয়েছেন। মূসা রহ. বলেন, সালিম আমাদের সাথে সে জায়গাতেই উট বসিয়েছিলেন যেখানে আবদুল্লাহ রা. উট বসাতেন এবং সে জায়গা লক্ষ্য করতেন, যে জায়গায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শেষরাতে অবতরণ করেছিলেন। সে জায়গা ছিল উপত্যকায় মধ্যেখানে অবস্থিত মসজিদ থেকে নীচে এবং মসজিদ ও রাস্তার মধ্যখানে।
হাদীস নং ২১৮৬
ইসহাক ইবনে ইবরাহীম রহ…………উমর রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, গতরাতে আমার নিকট আমার রবের দূত এসেছিলেন। এ সময় তিনি আকীক উপত্যকায় অবস্থান করছিলেন। (এসে) তিনি বললেন, এই মুবারক উপত্যকায় সালাত আদায় করুন, আর তিনি বললেন, হজ্জের সাথে উমরারও থাকবে।
হাদীস নং ২১৮৭
আহমদ ইবনে মিকদাম ও আবদুর রাযযাক রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, উমর ইবনে খাত্তাব রা. ইয়াহুদী ও নাসারাদের হিজায থেকে নির্বাসিত করেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন খায়বার জয় করেন, তখন ইয়াহুদীদের সেখান থেকে বের করে দিতে চেয়েছিলেন। যখন তিনি কোন স্থান জয় করেন, তখন তা আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুসলিমদের জন্য হয়ে যায়। কাজেই ইয়াহুদীদের সেখান থেকে বহিষ্কার করে দিতে চাইলেন। তখন ইয়াহুদীরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে অনুরোধ করল, যেন তাদের সে স্থানে বহাল রাখা হয় এ শর্তে যে, তারা সেখানে চাষাবাদে দায়িত্ব পালন করবে আর ফসলেন অর্ধেক তাদের থাকবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন : আমরা এ শর্তে তোমাদের এখানে বহাল থাকতে দিব যতদিন আমাদের ইচ্ছ। কাজেই তারা সেখানে বহাল রইল। অবশেষে উমর রা. তাদেরকে তাইমা ও আরীহায় নির্বাসিত করে দেন।
হাদীস নং ২১৮৮
মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল রহ……….যুহাইর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একটি কাজ আমাদের উপকারী ছিল, যা করতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিষেধ করলেন। আমি বললাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন, তাই সঠিক। যুহাইর রা. বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে ডেকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা তোমাদের ক্ষেত-খামার নির্দিষ্ট কয়েক ওসাক প্রদানের শর্তে জমি ইজারা দিয়ে থাকি। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমরা এরূপ করবে না। তোমরা নিজেরা তা চাষ করবে অথবা অন্য কাউকে দিয়ে চাষ করাবে অথবা তা ফেলে রাখবে। রাফি রা. বলেন, আমি শুনলাম ও মেনে নিলাম।
হাদীস নং ২১৮৯
উবাইদুল্লাহ ইবনে মূসা রহ……….জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, লোকেরা এক-তৃতীয়াংশ, এক-চতূর্থাংশ ও অর্ধেক ফসলের শর্তে বর্গা চাষ করত। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যে ব্যক্তির নিকট জমি রয়েছে, সে যেন নিজে চাষ করে অথবা তা কাউকে দিয়ে দেয়। যদি তা না করে তবে সে যেন তার জমি ফেলে রাখে। রবী ইবনে নাফি আবু তাওবা রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যার নিকট জমি রয়েছে, সে যেন নিজে চাষ করে অথবা তার ভাইকে দিয়ে দেয়। যদি তা না করতে চায়, তবে সে যেন তার জমি ফেলে রাখে।
হাদীস নং ২১৯০
কাবীসা রহ……..আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি (বর্গাচাষ সম্পর্কিত) এ হাদীসটি তাউস রহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, চাষাবাদ করতে দেওয়া হোক। ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা (বর্গাচাষ) নিষেধ করেননি। তবে তিনি বলেছেন যে,, তোমাদের নিজের ভাইকে জমি দান করে দেওয়া উত্তম, তার কাছ থেকে নির্দিষ্ট কিছু গ্রহণ করার চাইতে।
হাদীস নং ২১৯১
সুলাইমান ইবনে হারব রহ……….নাফি রহ. থেকে বর্ণিত যে, ইবনে উমর রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে এবং আবু বকর, উমর, উসমান রা. মুআবিয়া রা-এর শাসনের শুরু ভাগে নিজের ক্ষেত বর্গাচাষ করতে দিতেন। তারপর রাফি ইবনে খাদিজের বর্ণিত হাদীসটি তাঁর নিকট বর্ণনা করা হয় যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষেত ভাগে ইজারা দিতে নিষেধ করেছেন। তখন ইবনে উমর রা. রাফি রা.-এর নিকট গেলেন। আমিও তাঁর সঙ্গে গেলাম। তিনি (ইবনে উমর) তাকে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি (রাফি রা.) বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ক্ষেত ভাগে ইজারা দিতে নিষেধ করেছেন। তখন ইবনে উমর রা. বললেন, আপনি তো জানেন যে, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যামানায় নালার পার্শ্বস্থ ক্ষেতের ফসলের শর্তে এবং কিছু ঘাসের বিনিময়ে আমাদের ক্ষেত ইজারা দিতাম।
