আবু আসিম রহ……..সালমা ইবনে আকওয়া রা. থেকে বর্ণিত যে, আশুরার দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তিকে এ বলে লোকদের মধ্যে ঘোষণা দেওয়ার জন্য পাঠালেন যে, যে ব্যক্তি খেয়ে ফেলেছে সে যেন পূর্ণ করে নেয় অথবা বলেছেন, সে যেন সাওম আদায় করে নেয় আর যে এখনো খায়নি সে যেন আর না খায়।
হাদীস নং ১৮০৩
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……..আবু বকর ইবনে আবদুর রাহমান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এবং আমার পিতা আয়িশা রা. এবং উম্মে সালামা রা.-এর নিকট গেলাম। (অপর বর্ণনায়) আবুল ইয়ামান রহ………মারওয়ান রহ. থেকে বর্ণিত যে, আয়িশা রা. এবং উম্মে সালামা রা. তাকে সংবাদ দিয়েছেন যে, নিজ নিজ স্ত্রীর সাথে মিলনজনিত জুনুবী অবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ফজরের সময় হয়ে যেত। তখন তিনি গোসল করতেন এবং সাওম পালন করতেন। মারওয়ান রহ. আবদুর রাহমান ইবনে হারিস রহ.-কে বললেন, আল্লাহর শপথ করে বলছি, এ হাদীস শুনিয়ে তুমি আবু হুরায়রা রা. কে শংকিত করে দিবে। এ সময় মারওয়ান রহ. মদীনার গভর্নর ছিলেন। আবু বকর রহ. বলেন, মারওয়ান রা.-এর কথা আবদুর রাহমান রহ. পছন্দ করেন নি। রাবী বলেন, এরপর ভাগ্যক্রমে আমরা যুল-হুলাইফাতে একত্রিত হয়ে যাই। সেখানে আবু হুরায়রা রা.-এর একখণ্ড জমি ছিল। আবদুর রাহমান রহ. আবু হুরায়রা রা. কে বললেন, আমি আপনার নিকট একটি কথা বলতে চাই, মারওয়ান যদি এ বিষয়টি আমাকে কসম দিয়ে না বলতেন, তাহলে আমি তা আপনার সঙ্গে আলোচনা করতাম না। তারপর তিনি আয়িশা রা. ও উম্মে সালামা রা.-এর বর্ণিত উক্তিটি উল্লেখ করলেন, ফাযল ইবনে আব্বাস রা. অনুরূপ একটি হাদীস আমাকে শুনিয়েছেন এবং এ বিষয়ে তিনি সর্বাধিক অবহিত। হাম্মাম রহ. এবং ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. সূত্রে আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, এরূপ ক্ষেত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওম ত্যাগ করে খাওয়ার হুকুম দিতেন। প্রথমোক্ত হাদীসটি সনদের দিক থেকে বিশুদ্ধ।
হাদীস নং ১৮০৪
সুলাইমান ইবনে হারব রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওমের অবস্থায় চুমু খেতেন এবং গায়ে গা লাগাতেন। তবে তিনি তাঁর প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণে তোমাদের চাইতে অধিক সক্ষম চিলেন। ইবনে আব্বাস রা. বলেন, إرب মানে হাজত বা চাহিদা। তাউস রহ. বলেন, غير أولى الأربة মানে বোধহীন, যার মেয়েদের প্রতি কোন খাহিশ নেই।
হাদীস নং ১৮০৫
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না এবং আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সায়িম অবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন কোন স্ত্রীকে চুমু খেতেন। (এ কথা বলে) আয়িশা রা. হেসে দিলেন।
হাদীস নং ১৮০৬
মুসাদ্দাদ রহ……..উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে একই চাদরে আমি ছিলাম। এমন সময় আমার হায়য শুরু হল। তখন আমি আমার হায়যের কাপড় পরিধান করলাম। তিনি বললেন : তোমার কি হল ? তোমার কি হায়য দেখা দিয়েছে ? আমি বললাম, হ্যাঁ, তারপর আমি আবার তাঁর সঙ্গে চাদরের ভিতর ঢুকে পড়লাম। তিনি এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে গোসল করতেন এবং সায়িম অবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে চুমু দিতেন।
হাদীস নং ১৮০৭
আহমদ ইবনে সালিহ রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রমযান মাসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ভোর হত ইহতিলাম ব্যতীত (জুনুবী অবস্থায়) তখন তিনি গোসল করতেন এবং সাওম পালন করতেন।
হাদীস নং ১৮০৮
ইসমাঈল রহ……….আবু বকর ইবনে আবদুর রাহমান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পিতার সঙ্গে রওয়ানা হয়ে আয়িশা রা.-এর নিকট পৌঁছলাম। তিনি বললেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি ইহতিলাম ছাড়া স্ত্রী সহবাসের কারণে জুনুবী অবস্থায় সকাল পর্যন্ত থেকেছেন এবং এরপর সাওম পালন করেছেন। তারপর আমরা উম্মে সালামা রা.-এর নিকট গেলাম। তিনিও অনুরূপ কথাই বললেন। আবু জাফর বলেন, আবদুল্লাহ রহ.-কে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কোন ব্যক্তি সাওম ভঙ্গ করলে সে কি স্ত্রী সহবাসকারীর মত কাফফারা আদায় করবে ? তিনি বললেন, না, তুমি কি সে হাদীসগুলো সম্পর্কে জান না যাতে বর্ণিত আছে যে, যুগ যুগ ধরে সাওম পালন করলেও তার কাযা আদায় হবে না।
হাদীস নং ১৮০৯
আবদান রহ……..আবু হুরায়রা. রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : রোযাদার ভুলক্রমে যদি আহার করে বা পান করে ফেলে, তাহলে সে যেন তার সাওম পুরা করে নেয়। কেননা আল্লাহই তাকে পানাহার করিয়েছেন।
হাদীস নং ১৮১০
আবদান রহ………হুমরান রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উসমান রা.-কে উযু করতে দেখেছি। তিনি তিনবার হাতের উপর পানি ঢাললেন। এরপর তিনি কুলি করলেন, নাকে পানি দিলেন। তারপর তিনবার চেহারা (মুখমণ্ডল) ধুইলেন। এরপর ডান হাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুইলেন এবং বামহাত কনুই পর্যন্ত তিনবার ধুইলেন। এরপর তিনি মাথা মাসেহ করলেন। তারপর ডান পা তিনবার ধুইলেন তারপর বাম পা তিনবার ধুইলেন। এরপর বললেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে উযূ করতে দেখেছি আমার এ উযুর মতই। এরপর তিনি বলেছেন, যে ব্যক্তি আমার এ উযূর মত উযূ করে দু’রাকআত সালাত আদায় করবে এবং এতে মনে মনে কোন কিছুর চিন্তা-ভাবনায় লিপ্ত হবে না, তার অতীতের সকল গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।
