হাদীস নং ১৭৯২
আদম রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : আমরা উম্মী জাতি । আমরা লিখি না এবং হিসাবও করি না। মাস এরূপ অর্থাৎ কখনও ঊনত্রিশ দিনের আবার কখনো ত্রিশ দিনের হয়ে থাকে।
হাদীস নং ১৭৯৩
মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা কেউ রমযানের একদিন কিংবা দুই দিন আগে থেকে সাওম শুরু করবে না। তবে কেউ যদি এ সময় সিয়াম পালনে অভ্যস্ত থাকে তাহলে সে সেদিন সাওম করতে পারবে।
হাদীস নং ১৭৯৪
উবাইদুল্লাহ ইবনে মূসা রহ……..বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাহাবীগণের অবস্থা এই ছিল যে, যদি তাদের কেউ সাওম পালন করতেন ইফতারের সময় হলে ইফতার না করে ঘুমিয়ে গেলে সে রাতে এবং পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত কিছুই খেতেন না। কায়স ইবনে সিরমা আনসারী রা. সাওম পালন করেছিলেন। ইফতারের সময় তিনি তাঁর স্ত্রীর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার নিকট কিছু খাবার আছে কি ? তিনি বললেন, না, তবে আমি যাচ্ছি, দেখি আপনার জন্য কিছু তালাশ করে আনি। তিনি দিনে কাজে রত থাকতেন। তাই ঘুমে তাঁর দুচোখ বুজে গেল। এরপর তাঁর স্ত্রী এসে যখন তাকে দেখলেন, তখন তাকে বললেন, হায়, তুমি বঞ্চিত হয়ে গেলে ! পরদিন দুপুরে হলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললেন। এ ঘটনাটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট উল্লেখ করা হলে কুরআনের এ আয়াত নাযিল হয় : সিয়ামের রাত্রে তোমাদের স্ত্রী সম্ভোগ হালাল করা হয়েছে। (২ : ১৮৭)-এর হুকুম সম্বন্ধে অবহিত হয়ে সাহাবীগণ খুবই আনন্দিত হলেন। এরপর নাযিল হল : তোমরা পানাহার কর যতক্ষণ রাতের কাল রেখা হতে (ভোরের) সাদা রেখা স্পষ্টভাবে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়। (২ : ১৮৭)
হাদীস নং ১৭৯৫
হাজ্জাজ ইবনে মিনহাল রহ………আদী ইবনে হাতিম রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হল : “তোমরা পানাহার করা (রাতের) কাল রেখা হতে (ভোরের) সাদা রেখা যতক্ষণ স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়” তখন আমি একটি কাল এবং একটি সাদা রশি নিলাম এবং উভয়টিকে আমার বালিশের নিচে রেখে দিলাম। রাতে আমি এগুলোর দিকে বারবার তাকাতে থাকি। কিন্তু আমার নিকট পার্থক্য প্রকাশিত হল না। তাই সকালেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট গিয়ে এ বিষয় বললাম। তিনি বললেন : এতো রাতের আধার এবং দিনের আলো।
হাদীস নং ১৭৯৬
সাঈদ ইবনে আবু মারইয়াম রহ………সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন এই আয়াত নাযিল হল : “তোমরা পানাহার করা (রাতের) কাল রেখা হতে (ভোরের) সাদা রেখা যতক্ষণ স্পষ্টরূপে তোমাদের নিকট প্রতিভাত না হয়”। কিন্তু তখনো من الفجر কথাটি নাযিল হয়নি। তখন সাওম পালন করতে ইচ্ছুক লোকেরা নিজেদের দুই পায়ে একটি কাল এবং একটি সাদা সুতলি বেঁধে নিতেন এবং সাদা কাল এই দুটির মধ্যে পার্থক্য না দেখা পর্যন্ত না দেখা পর্যন্ত তাঁরা পানাহার করতে থাকতেন। এরপর আল্লাহ তা’আলা من الفجر শব্দটি নাযিল করলে সকলেই বুঝতে পারলেন যে, এ দ্বারা উদ্দেশ্য হল রাত (-এর আঁধার) এবং দিন (-এর আলো)।
হাদীস নং ১৭৯৭
উবায়দ ইবনে ইসমাঈল রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে এবং কাসিম ইবনে মুহাম্মদ রহ……আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বিলাল রা. রাতে আযান দিতেন। তাই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন : ইবনে উম্মে মাকতুম রা. আযান না দেওয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার কর। কেননা ফজর না হওয়া পর্যন্ত সে আযান দেয় না। কাসিম রহ. বলেন, এদের উভয়ের আযানের মাঝে শুধু এতটুকু ব্যবধান ছিল যে, একজন নামতেন এবং অন্যজন উঠতেন।
হাদীস নং ১৭৯৮
মুহাম্মদ ইবনে উবায়দুল্লাহ রহ……..সাহল ইবনে সাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আমার পরিবার-পরিজনের মধ্যে সাহরী খেতাম। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সালাতে শরীক হওয়ার জন্য তাড়া তাড়ি করতাম।
হাদীস নং ১৭৯৯
মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………যায়েদ ইবনে সাবিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে সাহরী খাই এরপর তিনি সালাতের জন্য দাঁড়ান। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, আযান ও সাহরীর মাঝে কতটুকু ব্যবধান ছিল ? তিনি বললেন, পঞ্চাশ আয়াত (পাঠ করা) পরিমাণ।
হাদীস নং ১৮০০
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……..আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটানা সাওম পালন করতে থাকলে লোকেরাও একটানা সাওম পালন করতে শুরু করে। এ কাজ তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়াল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের নিষেধ করলেন। তারা বলল, আপনি যে একনাগাড়ে সাওম পালন করছেন ? তিনি বললেন : আমি তো তোমাদের মত নই । আমাকে খাওয়ানো হয় ও পান করানো হয়।
হাদীস নং ১৮০১
আদম ইবনে আবু ইয়াস রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমরা সাহরী খাও, কেননা সাহরীতে বরকত রয়েছে।
হাদীস নং ১৮০২
