হাদীস নং ১৭৭১
মুসাদ্দাদ রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার দিন সিয়াম পালন করেছেন এবং এ সিয়ামের জন্য আদেশও করেছেন। পরে যখন রমযানের সিয়াম ফরয হল তখন তা ছেড়ে দেওয়া হয়। আব্দুল্লাহ রহ. এ সিয়াম পালন করতেন না, তবে মাসের যে দিনগুলোতে সাধারণ সিয়াম পালন করতেন, তার সাথে মিল হলে করতেন।
হাদীস নং ১৭৭২
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, জাহিলী যুগে কুরাইশগণ আশুরার দিন সাওম পালন করত। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-ও পরে এ সাওম পালনের নির্দেশ দেন। অবশেষে রমযানের সিয়াম ফরয হলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যার ইচ্ছা আশুরার সিয়াম পালন করবে এবং যার ইচ্ছা সে সাওম পালন করবে না।
হাদীস নং ১৭৭৩
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলাম রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : সিয়াম ঢাল স্বরূপ। সুতরাং অশ্লীলতা করবে না এবং মূর্খের মত কাজ করবে না। যদি কেউ তার সাথে ঝগড়া করতে চায়, তাকে গালি দেয়, তবে সে যেন দুইবার বলে, আমি সাওম পালন করছি। ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ, অবশ্যই সাওম পালনকারীর মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট মিসকের গন্ধের চাইতেও উৎকৃষ্ট, সে আমার জন্য আহার, পান ও কামাচার পরিত্যাগ করে। সিয়াম আমারই জন্য। তাই এর পুরস্কার আমি নিজেই দান করব। আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময়ে দশ গুণ।
হাদীস নং ১৭৭৪
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন উমর রা. বললেন, ফিতনা সম্পকির্ত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীসটি কার মুখস্থ আছে ? হুযায়ফা রা. বললেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, পরিবার, ধন-সম্পদ এবং প্রতিবেশীই মানুষের জন্য ফিতনা। সালাত, সিয়াম এবং সাদকা এর কাফফারা হয়ে যায়। উমর রা. বললেন, এ ফিতনা সম্পর্কে আমি জিজ্ঞাসা করছি না, আমি তে জিজ্ঞাসা করেছি ঐ ফিতনা সম্পর্কে যা সমুদ্রের ঢেউয়ের মত আন্দোলিত হতে থাকবে। হুযায়ফা রা. বললেন, এ ফিতনার সামনে বন্ধ দরজা আছে। উমর রা. বললেন, এ দরজা কি খুলে যাবে, না ভেঙ্গে যাবে ? হুযায়ফা রা. বললেন ভেঙ্গে যাবে। উমর রা. বললেন, তাহলে তো তা কিয়ামত পর্যন্ত বন্ধ হবে না। আমরা মাসরূক রহ.কে বললাম, বললাম, হুযায়ফা রা.-কে জিজ্ঞাসা করুন, উমর রা. কি জানতেন, কে সেই দরজা ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তিনি এরূপ জানতেন যে রূপ কালকের দিনের পূর্বে আজকের রাত।
হাদীস নং ১৭৭৫
খালিদ ইবনে মাখলাদ রহ………সাহল রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : জান্নাতে রায়্যান নামক একটি দরজা আছে। এ দরজা দিয়ে কিয়ামতের দিন সাওম পালনকারীরাই প্রবেশ করবে। তাদের ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। ঘোষণা দেওয়া হবে, সাওম পালনকারীরা কোথায় ? তখন তারা দাঁড়াবে। তারা ছাড়া আর কেউ এ দরজা দিয়ে প্রবেশ করবে না। তাদের প্রবেশের পরই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হবে। যাতে এ দরজাটি দিয়ে আর কেউ প্রবেশ না করে।
হাদীস নং ১৭৭৬
ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে কেউ আল্লাহর পথে জোড়া জোড়া ব্যয় করবে তাকে জান্নাতের দরজাসমূহ থেকে ডাকা হবে, হে আল্লাহর বান্দা ! এটাই উত্তম। অতএব যে সালাত আদায়কারী, তাকে সালাতের দরজা থেকে ডাকা হবে। যে মুজাহিদ তাকে জিহাদের দরজা থেকে ডাকা হবে। যে সিয়াম পালনকারী, তাকে রায়্যান দরজা থেকে ডাকা হবে। যে সাদকা দানকারী, তাকে সাদকার দরজা থেকে ডাকা হবে। এরপর আবু বকর রা. বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনার জন্য আমার পিতা-মাতা কুরবান, সকল দরজা থেকে কাউকে ডাকার কোন প্রয়োজন নেই, তবে কি কাউকে সব দরজা থেকে ডাকা হবে ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন , হ্যাঁ। আমি আশা করি তুমি তাদের মধ্যে হবে।
হাদীস নং ১৭৭৭
কুতাইবা রহ……..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যখন রমযান আসে তখন জান্নাতের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়।
হাদীস নং ১৭৭৮
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলতেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : রমযান আসলে আসমানের দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয় আর শৃংখলিত করে দেয়া হয় শয়তানগুলোকে।
হাদীস নং ১৭৭৯
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি, যখন তোমরা তা দেখবে তখন সাওম পালন করবে, আবার যখন তা দেখবে তখন ইফতার করবে। আর যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তাহলে তার সময় হিসাব করে (ত্রিশ দিন) পূর্ণ করবে। ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ. ব্যতীত অন্যরা লায়স রহ. থেকে উকাইল এবং ইউনুস রহ. সূত্রে বর্ণনা করেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কথাটি বলেছেন রমযানের চাঁদ সম্পর্কে।
হাদীস নং ১৭৮০
