হাদীস নং ১৭৬২
আমর ইবনে আব্বাস রহ………জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একজন বেদুঈন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে ইসলামের উপর বায়আত গ্রহণ করল। পরদিন সে জ্বরাক্রান্ত অবস্থায় নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে এসে বলল, আমার (বায়আত) ফিরিয়ে নিন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা প্রত্যাখ্যান করলেন। এভাবে তিনবার হল। তারপর বললেন : মদীনা কামারের হাঁপরের মত, যা তার আবর্জনা ও মরিচাকে দূরীভূত করে এবং খাঁটি ও নির্ভেজাল কে পরিচ্ছন্ন করে।
হাদীস নং ১৭৬৩
সুলাইমান ইবনে হারব রহ………যায়েদ ইবনে সাবিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে উহুদ যুদ্ধে যাত্রা করে তাঁর কতিপয় সাথী ফিরে আসলে একদল লোক বলতে লাগল, আমরা তাদেরকে হত্যা করব, আর অন্য দলটি বলতে লাগল, না, আমরা তাদেরকে হত্যা করব না। এ সময়ই (তোমাদের হল কি, তোমরা মুনাফিকদের সম্পর্কে দু’দল হয়ে পড়েছ ?) আয়াতটি নাযিল হয়। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : মদীনা লোকদেরকে বহিষ্কার করে দেয়, যেমনভাবে আগুন লোহার মরিচাকে দূর করে দেয়।
হাদীস নং ১৭৬৪
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ…….আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : হে আল্লাহ ! মক্কাতে তুমি যে বরকত দান করেছ, মদীনাতে এর দ্বিগুণ বরকত দাও। উসমান ইবনে উমর রা. ইউনুস রহ. থেকে হাদীসটি জাবির রা.-এর মতই বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ১৭৬৫
কুতাইবা রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফর থেকে ফিরে আসার পথে যখন তিনি মদীনার প্রাচীরগুলোর দিকে তাকাতেন, তখন তিনি উটকে দ্রুত চালাতেন আর তিনি অন্য কোন জন্তুর উপর থাকলে তাকেও দ্রুত চালিত করতেন, মদীনার ভালবাসার কারণে।
হাদীস নং ১৭৬৬
ইবনে সালাম রহ……..আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনু সালিমা গোত্রের লোকেরা মসজিদে নববীর নিকটে চলে যাওয়ার সংকল্প করল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনাকে জনশূন্য করা অপছন্দ করলেন, তাই তিনি বললেন : হে বনু সালিমা ! মসজিদে নববীর দিকে তোমাদের হাঁটার সওয়াব কি তোমরা হিসাব করা না ? এরপর তারা সেখানেই রয়ে গেল।
হাদীস নং ১৭৬৭
মুসাদ্দাদ রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমার ঘর ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি হল জান্নাতের বাগানের একটি বাগান, আর আমার মিম্বরটি হল আমার হাউজের উপর অবস্থিত।
হাদীস নং ১৭৬৮
উবায়দ ইবনে ইসমাঈল রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় শুভাগমন করলে আবু বকর ও বিলাল রা. জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়লেন। আবু বকর রা. জ্বরাক্রান্ত হয়ে পড়লে তিনি এ কবিতা অংশটি আবৃত্তি করতেন : “প্রত্যেক ব্যক্তিই তার পরিবার ও স্বজনদের মাঝে দিন কাটাচ্ছেন, অথচ মৃত্যু তার জুতোর ফিতার চেয়েও অধিক নিকটবর্তী”। আর বিলাল রা. জ্বর উপশম হলে উচ্চস্বরে এ কবিতা অংশ আবৃত্তি করতেন : “হায়, আমি যদি মক্কার প্রান্তরে একটি রাত কাটাতে পারতাম এমনভাবে যে, আমার চারদিকে থাকবে ইযখির এবং জালীল নামক ঘাস। মাজান্না ঝর্ণার পানি কোন দিন পান করার সূযোগ পাব কি ? শামা এবং তাফীল পাহাড় আবার প্রকাশিত হবে কি ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : হে আল্লাহ ! তুমি শায়বা ইবনে রাবীআ উতবা ইবনে রাবীআ এবং উমায়্যা ইবনে খালফের প্রতি লানত বর্ষণ কর; যেমনিভাবে তারা আমাদেরকে আমাদের মাতৃভূমি থেকে বের করে মহামারির দেশে ঠেলে দিয়েছে। এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করলেন : হে আল্লাহ ! মদীনাকে আমাদের নিকট প্রিয় বানিয়ে দাও যেমন মক্কা আমাদের জন্য স্বাস্থ্যকর বানিয়ে দাও। স্থানান্তরিত করে দাও জুহফাতে এর জ্বরের প্রকোপ বা মহামারীকে। আয়িশঅ রা. বলেন, আমরা যখন মদীনা এসেছিলাম তখন তা ছিল আল্লাহর যমীনে সর্বাপেক্ষা অধিক মহামারীর স্থান। তিনি আরো বলেন, সে সময় মদীনায় বুতহান নামক একটি ঝর্ণা ছিল যার থেকে বিকৃত বর্ণ ও বিকৃত স্বাদের পানি প্রবাহিত হত।
হাদীস নং ১৭৬৯
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি এ বলে দুআ করতেন, হে আল্লাহ ! আমাকে তোমার পথে শাহাদাত বরণ করার সুযোগ দান কর এবং আমার মৃত্যু তোমার রাসূলের শহরে দাও। ইবনে যুবায়ই রহ…….হাফসা বিনতে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি উমর রা.-কে অনুরূপ বর্ণনা করতে শুনেছি। হিশাম রহ. বলেন, যায়েদ তাঁর পিতার সূত্রে হাফসা রা. থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি উমর রা.-কে বলতে শুনেছি। আবু আবদুল্লাহ রহ. বলেন, রাওই তাঁর মায়ের সূত্রে এরূপ বলেছেন।
সাওম অধ্যায় (১৭৭০-১৮৮১)
হাদীস নং ১৭৭০
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ…….তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, এলোমেলো চুলসহ একজন গ্রাম্য আরব নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এলেন । তারপর বললেন : ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাকে বলুন, আল্লাহ তা’আলা আমার উপর কত সালাত ফরয করেছেন ? তিনি বললেন : পাঁচ (ওয়াক্ত) সালাত; তবে তুমি যদি কিছু নফল আদায় কর তা স্বতন্ত্র কথা। এরপর তিনি বললেন :বলুন, আমার উপর কত সিয়াম আল্লাহ তা’আলা ফরয করেছেন? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : রমযান মাসের সাওম; তবে তুমি যদি কিছু নফল সিয়াম আদায় করা তা হল স্বতন্ত্র কথা। এরপর তিনি বললেন : বলুন, আল্লাহ আমার উপর কি পরিমাণ যাকাত ফরয করেছেন ? রাবী বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ইসলামের বিধান জানিয়ে দিলেন। এরপর তিনি বললেন : ঐ সত্তার কসম, যিনি আপনাকে সত্য দিয়ে সম্মানিত করেছেন, আল্লাহ আমার উপর যা ফরয করেছেন, আমি এর মাঝে কিছু বাড়াব না এবং কমাবও না। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : সে সত্য বলে থাকলে সফলতা লাভ করল কিংবা বলেছেন, সে সত্য বলে থাকলে জান্নাত লাভ করল।
