হাদীস নং ১০৬৪
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বলেছেন : আল্লাহ পাকের নিকট সর্বাধিক প্রিয় সালাত হল দাউদ আ.-এ সালাত। আর আল্লাহর কাছে সর্বাধিক প্রিয় সিয়াম হল দাউদ আ. -এর সিয়াম। তিনি (দাউদ আ. অর্ধরাত পর্যন্ত ঘুমাতেন, এক তৃতীয়াংশ তাহাজ্জুদ পড়তেন এবং রাতের এক ষষ্ঠাংশ ঘুমাতেন । তিনি একদিন সিয়াম পালন করতেন, একদিন করতেন না।
হাদীস নং ১০৬৫
আবদান রহ………মাসরূক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে কোন আমলটি সর্বাধিক প্রিয় ছিল ? তিনি বললেন : নিয়মিত আমল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি কখন তাহাজ্জুদের জন্য উঠতেন ? তিনি বললেন, যখন মোরগের ডাক শুনতে পেতেন।
হাদীস নং ১০৬৬
মুহাম্মদ ইবনে সালাম রহ……….আশআস রা. তাঁর বর্ণনায় বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মোরগের ডাক শুনে উঠতেন এর সালাত আদায় করতেন।
হাদীস নং ১০৬৭
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ…………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তিনি আমার কাছে ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায়ই সাহরীর সময় হত। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে এ কথা বলেছেন।
হাদীস নং ১০৬৮
ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং যায়েদ ইবনে সাবিত রা. সাহরী খেলেন। যখন তারা দুজন সাহরী সমাপ্ত করলেন,তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং সালাত আদায় করলেন। (কাতাদা রা. বলেন) আমরা আনাস ইবনে মালিক রা. -কে জিজ্ঞাসা করলাম, তাদের সাহরী সমাপ্ত করা ও (ফজরের) সালাত শুরু করার মধ্যে কি পরিমাণ সময় ছিল ? তিনি বললেন, কেউ পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারে এ পরিমাণ সময়।
হাদীস নং ১০৬৯
সুলাইমান ইবনে হারব রহ………আবদুল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাতে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সংগে সালাত আদায় করলাম। তিনি এত দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকলেন যে, আমি একটি মন্দ কাজের ইচ্ছা করে ফেলেছিলাম। (আবু ওয়াইল রহ. বলেন) আমরা জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি ইচ্ছা করেছিলেন ? তিনি বললেন, ইচ্ছা করেছিলাম, বসে পড়ি এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর ইক্তিদা ছেড়ে দেই।
হাদীস নং ১০৭০
হাফস ইবনে উমর রহ………হুযায়ফা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা যখন তাহাজ্জুদ সালাতের জন্য উঠতেন তখন মিসওয়াক দ্বারা তাঁর মুখ (দাঁত) পরিষ্কার করে নিতেন।
হাদীস নং ১০৭১
আবুল ইয়ামান রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, একজন জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! রাতের সালাতের ((আদায়ের) পদ্ধতি কি ? তিনি বললেন : দু’রাকাআত করে। আর ফজর হয়ে যাওয়ার আশংকা করলে এক রাকাআত মিলিয়ে বিতর আদায় কর নিবে।
হাদীস নং ১০৭২
মুসাদ্দাদ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত ছিল তের রাকাআত অর্থাৎ রাতে। (তাহাজ্জুদ ও বিতরসহ)।
হাদীস নং ১০৭৩
ইসহাক রহ……….মাসরূক রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আয়িশা রা.-কে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ফজরের দু’রাকাআত (সুন্নাত) ব্যতিরেকে সাত বা নয় কিংবা এগার রাকাআত।
হাদীস নং ১০৭৪
উবায়দুল্লাহ ইবনে মূসা রহ…………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের বেলা তের রাকাআত সালাত আদায় করতেন, বিতর এবং ফজরের দু’রাকাআত (সুন্নাত) ও এর অন্তর্ভূক্ত।
হাদীস নং ১০৭৫
আবদুল আযীয ইবনে আবদুল্লাহ রহ………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন কোন মাসে সিয়াম পালন করতেন না। এমন কি আমরা ধারণা করতাম যে, সে মাসে তিনি সিয়াম পালন করবেন না। আবার কোন কোন মাসে সিয়াম পালন করতে থাকতেন, এমন কি আমাদের ধারণা হত যে, সে মাসে তিনি সিয়াম ছাড়বেন না। তাকে তুমি সালাত রত অবস্থায় দেখতে চাইলে তাই দেখতে পেতে এবং ঘুমন্ত অবস্থায় দেখতে চাইলে তাও দেখতে পেতে। সুলাইমান ও আবু খালিদ আহমার রহ. হুমাইদ রহ. থেকে হাদীস বর্ণনায় মুহাম্মদ ইবনে জাফর রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।
হাদীস নং ১০৭৬
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার গ্রীবাদেশে তিনটি গিঠ দেয়। প্রতি গিঠ সে এ বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে রয়েছে দীর্ঘ রাত। তারপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে একটি গিঠ খুলে যায়, পরে উযূ করলে আর একটি গিঠ খুলে যায়, তারপর সালাত আদায় করলে আর একটি গিঠ খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয়, প্রফুল্ল মনে ও নির্মল চিত্তে। অন্যথায় সে সকালে উঠে কলুষিত মনে ও অলসতা নিয়ে।
হাদীস নং ১০৭৭
মুআম্মাল ইবনে হিশাম রহ………..সামুরা ইবনে জুনদাব রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর স্বপ্ন বর্ণনার এক পর্যায়ে বলেছেন, যে ব্যক্তির মাথা পাথর দিয়ে বিচূর্ণ করা হচ্ছিল, সে হল ঐ লোক যে কুরাআন শরীফ শিখে তা পরিত্যাগ করে এবং ফরয সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকে।
