আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ও মাহমুদ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর জীবিতকালে কোন ব্যক্তি স্বপ্ন দেখলে তা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর খিদমতে বর্ণনা করত। এতে আমার মনে আকাঙ্খা জাগল যে, আমি কোন স্বপ্ন দেখলে তা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বর্ণনা করব। তখন আমি যুবক ছিলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময়ে আমি মসজিদে ঘুমাতাম। আমি স্বপ্নে দেখলাম, যেন দুজন ফেরেশতা আমাকে ধরে জাহান্নামের দিকে নিয়ে চলেছেন। তা যেন কুপের পাড় বাঁধানোর ন্যায় পাড় বাঁধানো। তাঁতে দুটি খুটি রয়েছে এবং এর মধ্যে রয়েছে এমন কতক লোক, যাদের আমি চিনতে পারলাম। তখন আমি বলতে লাগলাম, আমি জাহান্নাম থেকে আল্লাহর নিকট পানাহ চাই। তিনি বলেন, তখন অন্য একজন ফেরেশতা আমাদের সংগে মিলিত হলেন। তিনি আমাকে বললেন, ভয় পেয়ো না। আমি এ স্বপ্ন ((আমার বোন উম্মুল মু’মিনীন) হাফসা রা. -এর কাছে বর্ণনা করলাম। এরপর হাফসা রা. তা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট বর্ণনা করলেন। তখন তিনি বললেন : আব্দুল্লাহ কতই ভাল লোক ! যদি রাত জেগে সে সালাত (তাহাজ্জুদ) আদায় করত ! এরপর থেকে আবদুল্লাহ রা. খুব অল্প সময়ই ঘুমাতেন।
হাদীস নং ১০৫৬
আবুল ইয়ামান রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাহাজ্জুদের) এগার রাকাআত সালাত আদায় করতেন এবং তা ছিল তাঁর (স্বাভাবিক) সালাত। সে সালাতে তিনি এক একটি সিজদা এত পরিমাণ (দীর্ঘয়িত) করতেন যে, তোমাদের কেউ (সিজদা থেকে) তাঁর মাথা তোলার আগে পঞ্চাশ আয়াত তিলাওয়াত করতে পারত। আর ফজরের (ফরয) সালাতের আগে তিনি দু’রাকাআত সালাত আদায় করতেন। তারপর তিনি ডান কাতে শুইতেন যতক্ষণ না সালাতের জন্য তাঁর কাছে মুআযযিন আসত।
হাদীস নং ১০৫৭
আবু নুআইম রহ……..জুনদাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (একবার) অসুস্থ হয়ে পড়েন। ফলে এক রাত বা দু’রাত তিনি (তাহাজ্জুদ সালাতের উদ্দেশ্যে) উঠেননি।
হাদীস নং ১০৫৮
মুহাম্মদ ইবনে কাসীর রহ……….জুনদাব ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার সমারিকভাবে জিবরীল আলাইহিস সালাম নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে হাজিরা থেকে বিরত থাকেন। এতে জনৈকা কুরাইশ নারী বলল, তার শয়তানটি তাঁর কাছে আসতে দেরি করছে। তখন নাযিল হল : “শপথ পূর্বাহ্নের ও রজনীর ! যখন তা হয় নিঝুম। আপনার প্রতি পালক আপনাকে পরিত্যাগ করেননি এবং আপনার প্রতি বিরূপও হননি”।(সূরা দুহা)
হাদীস নং ১০৫৯
ইবনে মুকাতিল রহ………উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একরাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে বললেন : সুবহানাল্লাহ ! আজ রাতে কত না ফিতনা নাযিল করা হল ! আজ রাতে কত না (রহমতের) ভান্ডারই নাযিল করা হল ! কে জাগিয়ে দিবে হুজরাগুলোর বাসিন্দাদের ? ওহে ! শোন, দুনিয়ার অনেক বস্ত্র পরিহিত আখিরাতে বিবস্ত্রা হয়ে যাবে।
হাদীস নং ১০৬০
আবুল ইয়ামান রহ………..আলী ইবনে আবু তালিব রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক রাতে তাঁর কন্যা ফাতিমা রা.-এর কাছে এসে বললেন : তোমরা কি সালাত আদায় করছ না ? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমাদের আত্মাগুলো তো আল্লাহ পাকের হাতে রয়েছে। তিনি যখন আমাদের জাগাতে মরযী করবেন, জাগিয়ে দিবেন। আমরা যখন একথা বললাম, তখন তিনি চলে গেলেন। আমার কথার কোন প্রতিউত্তর করলেন না। পরে আমি শুনতে পেলাম যে, তিনি ফিরে যেতে যেতে আপন উরুতে করাঘাত করছিলেন এবং কুরআনের এ আয়াত তিলাওয়াত করছিলেন -“মানুষ অধিকাংশ ব্যাপারেই বিতর্ক প্রিয়”।
হাদীস নং ১০৬১
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে আমল করা পছন্দ করতেন, সে আমল কোন কোন সময় এ আশংকায় ছেড়েও দিতেন যে, লোকেরা সে আমল করতে থাকবে, ফলে তাদের উপর তা ফরয হয়ে যাবে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনো চাশতের সালাত আদায় করেন নি। আমি সে সালাত আদায় করি।
হাদীস নং ১০৬২
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একরাতে মসজিদে সালাত আদায় করছিলেন, কিছু লোক আরো বেড়ে গেল। এরপর তৃতীয় কিংবা চতুর্থ রাতে লোকজন সমবেত হলেন, কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন না। সকাল হলে তিনি বললেন : তোমাদের কার্যকলাপ আমি লক্ষ্য করেছি। তোমাদের কাছে বেরিয়ে আসার ব্যাপারে শুধু এ আশংকাই আমাকে বাঁধা দিয়েছে যে, তোমাদের উপর তা ফরয হয়ে যাবে। আর ঘটনাটি ছিল রমযান মাসের (তারাবীহর সালাতের)।
হাদীস নং ১০৬৩
আবু নুআইম রহ………মুগীরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাত্রি জাগরণ করতেন অথবা রাবী বলেছেন, সালাত আদায় করতেন, এমন কি তাঁর পদযুগল অথবা তাঁর দু’পায়ের গোছা ফুলে যেত। তখন এ ব্যাপারে তাকে বলা হল, এত কষ্ট কেন করছেন ? তিনি বলতেন, তাই বলে আমি কি একজন শুকরগুজারী বান্দা হব না ?
