হাদীস নং ১০৭৮
মুসাদ্দাদ রহ…………আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সামনে এক ব্যক্তির সম্পর্কে আলোচনা করা হল- সকাল বেলা পর্যন্ত সে ঘুমিয়েই কাটিয়েছে, সালাতের জন্য (যথা সময়ে) জাগ্রত হয়নি, তখন তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করলেন : শয়তান তার কানে পেশাব করে দিয়েছে।
হাদীস নং ১০৭৯
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : মহামহিম আল্লাহ তা’আলা প্রতি রাতে রাতের তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেন : কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে ? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে এমন যে আমার কাছে চাইবে ? আমি তাকে তা দিব । কে আছে এমন, যে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে ? আমি তাকে ক্ষমা করব।
হাদীস নং ১০৮০
আবুল ওয়ালীদ ও সুলাইমান রহ………আসওয়াদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আয়িশা রা.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, রাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত কেমন ছিল ? তিনি বললেন, তিনি প্রথমাংশে ঘুমাতেন, শেষাংশে জেগে সালাত আদায় করতেন। এরপর তাঁর শয্যায় ফিরে যেতেন, মুআযযিন আযান দিলে দ্রুত উঠে পড়তেন, তখন তাঁর প্রয়োজন থাকলে গোসল করতেন, অন্যথায় উযূ করে (মসজিদের দিকে) বেরিয়ে যেতেন।
হাদীস নং ১০৮১
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………আবু সালামা ইবনে আবদুর রহমান রা. থেকে বর্ণিত, তিনি আয়িশা রা.-কে জিজ্ঞাসা করেন, রমযান মাসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সালাত কেমন ছিল ? তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযান মাসে এবং অন্যান্য সময় (রাতের বেলা) এগার রাকাআতের অধিক সালাত আদায় করতেন না। তিনি চার রাকআত সালাত আদায় করতেন। তুমি সেই সালাতের সৌন্দর্য ও দীর্ঘত্ব সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। তারপর চার রাকাআত সালাত আদায় করতেন, এর সৌন্দর্য ও দীর্ঘত্ব সম্পর্কে আমাকে প্রশ্ন করো না। তারপর তিনি তিন রাকাআত (বিতর) সালাত আদায় করতেন। আয়িশা রা. বলেন, (একদিন) আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আপনি কি বিতরের আগে ঘুমিয়ে থাকেন ? তিনি ইরশাদ করলেন : আমার চোখ দুটি ঘুমায়, কিন্তু আমার হৃদয় ঘুমায় না।
হাদীস নং ১০৮২
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ………..উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাতের কোন সালাতে আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বসে কিরাআত পড়তে দেখিনি। অবশ্য শেষ দিকে বার্ধক্য উপনীত হলে তিনি বসে কিরাআত পড়তেন। যখন (আরম্ভকৃত) সূরার ত্রিশ চল্লিশ আয়াত অবশিষ্ট থাকত, তখন দাঁড়িয়ে যেতেন এবং সে পরিমাণ কিরাআত পড়ার পর রুকু করতেন।
হাদীস নং ১০৮৩
ইসহাক ইবনে নাসর রহ……….আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন ফজরের সালাতের সময় বিলাল রা. কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে বিলাল ! ইসলাম গ্রহণের পর সর্বাধিক আশাব্যঞ্জক যে আমল তুমি করেছ, তার কথা আমার নিকট ব্যক্ত কর। কেননা, জান্নাতে আমি আমার সামনে তোমার পাদুকার আওয়াজ শুনতে পেয়েছি। বিলাল রা. বললেন, দিন রাতের যে কোন প্রহরে আমি তাহারাত ও পবিত্রতা অর্জন করেছি, তখনই সে তাহারাত দ্বারা সালাত আদায় করেছি, যে পরিমাণ সালাত আদায় করা আমার তাকদীরে লেখা ছিল। আমার কাছে এর চাইতে (অধিক) আশাব্যঞ্জক হয়, এমন কোন বিশেষ আমল আমি করিনি।
হাদীস নং ১০৮৪
আবু মামার রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (মসজিদে) প্রবেশ করে দেখতে পেলেন যে, দুটি স্তম্ভের মাঝে একটি রশি টাঙানো রয়েছে। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ রশিটি কি কাজের জন্য ? লোকেরা বললো, এটি যায়নাবের রশি, তিনি (ইবাদত করতে করতে) অবসন্ন হয়ে পড়লে এটির সাথে নিজেকে বেধে দেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন : না, এটা খুলে ফেল। তোমাদের যে কোন ব্যক্তির প্রফুল্লতা ও সজীবতা থাকা পর্যন্ত ইবাদত করা উচিত। যখন সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন যেন সে বসে পড়ে। অন্য এক বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ…….উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, বনু আসাদের এক মহিলা আমার কাছে উপস্থিত ছিলেন, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাছে আগমন করলেন এবং তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এ মহিলাটি কে ? আমি বললাম, অমুক । তিনি রাতে ঘুমান না। তখন তাঁর সালাতের কথা উল্লেখ করা হলে তিনি (নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন : রেখে দাও। সাধ্যানুযায়ী আমল করতে থাকাই তোমাদের কর্তব্য। কেননা, আল্লাহ তা’আলা (সাওয়াব প্রদানে) বিরক্ত হন না, যতক্ষণ না তোমরা বিরক্ত ও ক্লান্ত হয়ে পড়।
হাদীস নং ১০৮৫
আব্বাস ইবনে হুসাইন ও মুহাম্মদ ইবনে মুকাতিল আবুল হাসান রহ………আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনে আস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন : হে আবদুল্লাহ ! তুমি অমুক ব্যক্তির মত হয়ো না, সে রাত জেগে ইবাদত করত, পরে রাত জেগে ইবাদত করা ছেড়ে দিয়েছে। হিশাম রহ………আবু সালামা রা. থেকে অনুরূপ বর্ণিত আছে।
