হাদীস নং ১০৩৩
আবদুল আলা ইবনে হাম্মাদ রহ…………নাফি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে উমর রা. তাঁর সাওয়ারীর উপর (নফল) সালাত আদায় করতেন এবং এর উপর বিতরও আদায় করতেন। তিনি বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।
হাদীস নং ১০৩৪
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ………আবদুল্লাহ ইবনে দীনার রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. সফরে সাওয়ারী যে দিকেই ফিরেছে সে দিকেই মুখ ফিরে ইশারায় সালাত আদায় করতেন এবং আবদুল্লাহ রা. বর্ণনা করেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরূপ করতেন।
হাদীস নং ১০৩৫
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………আমির ইবনে রাবীআ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে দেখেছি, তিনি সাওয়ারীর উপর উপবিষ্ট অবস্থায় মাথা দিয়ে ইশারা করে সে দিকেই সালাত আদায় করতেন যে দিকে সাওয়ারী ফিরত। কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফরয সালাতে এরূপ করতেন না। লাইস রহ………সালিম রহ. থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ রা. সফরকালে রাতের বেলায় সাওয়ারীর উপর থাকা অবস্থায় সালাত আদায় করতেন, কোন দিকে তাঁর মুখ রয়েছে সে দিকে লক্ষ্য করতেন না এবং ইবনে উমর রা. বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওয়ারীর উপর নফল সালাত আদায় করেছেন, সাওয়ারী যে দিকে মুখ ফিরিয়েছে সে দিকেই এবং তার উপর বিতরও আদায় করেছেন। কিন্তু সাওয়ারীর উপর ফরয সালাত আদায় করতেন না।
হাদীস নং ১০৩৬
মুআয ইবনে ফাযালা রহ………জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওয়ারীর উপর থাকা অবস্থায় পূর্ব দিকে ফিরেও সালাত আদায় করেছেন। কিন্তু যখন তিনি ফরয সালাত আদায় করার ইচ্ছা করতেন, তখন তিনি সাওয়ারী থেকে নেমে যেতেন এবং কিবলামুখী হতেন।
হাদীস নং ১০৩৭
আহমদ ইবনে সাঈদ রহ………আনাস ইবনে সীরীন রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক রা. যখন শাম (সিরিয়া) থেকে ফিরে আসছিলেন, তখন আমরা তাঁর সাক্ষাৎ পেলাম। তখন আমি তাকে দেখলাম গাধার পিঠে (আরোহী অবস্থায়) সামনের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছেন। অর্থাৎ কিবলার বাম দিকে মুখ করে। তখন তাকে আমি প্রশ্ন করলাম, আপনাকে তো দেখলাম কিবলা ছাড়া অন্য দিকে মুখ করে সালাত আদায় করেছেন ? তিনি বললেন, যদি আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে এরূপ করতে না দেখতাম, তাবে আমিও তা করতাম না।
হাদীস নং ১০৩৮
ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ………হাফস ইবনে আসিম রা. থেকে বর্ণিত যে, ইবনে উমর রা. একবার সফর করেন এবং বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সাহচর্যে থেকেছি, সফরে তাকে নফল সালাত আদায় করতে দেখিনি এবং আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন : “নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ”। (সূরা আহযাব : ২১১)
হাদীস নং ১০৫৩
আবদুল্লাহ ইবেন ইউসুফ রহ………উম্মুল মু’মিনীন আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বসে সালাত আদায় করতেন। বসেই তিনি কিরাআত পাঠ করতেন। যখন তাঁর কিরাআতের প্রায় ত্রিশ বা চল্লিশ আয়াত বাকী থাকত, তখন তিনি দাঁড়িয়ে তা তিলাওয়াত করতেন, তারপর রুকু করতেন, পরে সিজদা করতেন। দ্বিতীয় রাকআতেও অনুরূপ করতেন। সালাত শেষ করে তিনি লক্ষ্য করতেন, আমি জাগ্রত থাকলে আমার সাথে বাক্যলাপ করতেন আর ঘুমিয়ে থাকলে তিনিও শুয়ে পড়তেন।
তাহাজ্জুদ অধ্যায় (১০৫৪-১১৬৪)
হাদীস নং ১০৫৪
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে তাহাজ্জুদের উদ্দেশ্যে যখন দাঁড়াতেন, তখন দু’আ পড়তেন “ইয়া আল্লাহ ! আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা, আপনি আসমান যমীন ও এ দুয়ের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর নিয়ামক এবং আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আপনি আসমান যমীন ও এ দুয়ের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর মালিক এবং আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আপনি আসমান যমীন ও এ দুয়ের মাঝে বিদ্যমান সব কিছুর নূর। আপনারই জন্য সমস্ত প্রশংসা। আপনিই চির সত্য। আপনার ওয়াদা চির সত্য ; আপনার সাক্ষাত সত্য ; আপনার বাণী সত্য ; জান্নাত সত্য ; জাহান্নাম সত্য ; নবীগণ সত্য ; মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সত্য, কিয়ামত সত্য। ইয়া আল্লাহ ! আপনার কাছেই আমি আত্মসমর্পন করলা ; আপনার প্রতি ঈমান আনলাম ; আপননার উপরেই তাওয়াক্কুল করলা, আপনার দিকেই রুজু করলা ; আপনার (সন্তুষ্টির জন্যই) শত্রুতায় লিপ্ত হলাম, আপনাকেই বিচারক মেনে নিলাম। তাই আপনি আমার পূর্বাপর ও প্রকাশ্য গোপন সব অপরাধ ক্ষমা করুন। আপনিই অগ্র পশ্চাতের মালিক। আপনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই, অথবা (অপর বর্ণনায়) আপনি ব্যতীত আর কোন মা’বুদ নেই। সুফিয়ান রহ. বলেছেন, (অপর সূত্রে) আবদুল করীম আবু উমাইয়্যা রহ. তাঁর বর্ণনায় “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি” (অংশটুকু) অতিরিক্ত বর্ণনা করেছেন। সুফিয়ান রহ………ইবনে আব্বাস রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ১০৫৫
