হাদীস নং ১০০৯
হাফস ইবনে উমর রহ…………আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত যে, একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা আন নাজম তিলাওয়াত করেন, এরপর সিজদা করেন। তখন উপস্থিত লোকদের এমন কেউ বাকী ছিল না, যে তাঁর সঙ্গে সিজদা করেনি। কিন্তু এক ব্যক্তি এক মুঠো কংকর বা মাটি হাতে নিয়ে কপাল পর্যন্ত তুলে বলল, এটাই আমার জন্য যথেষ্ট। (আব্দুল্লাহ রা. বলেন) পরে আমি এ ব্যক্তিকে দেখেছি যে, সে কাফির অবস্থায় নিহত হয়েছে।
হাদীস নং ১০১০
মুসাদ্দাদ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা ওয়ান-নাজম তিলাওয়াতের পর সিজদা করেন এবং তাঁর সঙ্গে সমস্ত মুসলিম, মুশরিক, জ্বিন ও ইনসান সবাই সিজদা করেছিল।
হাদীস নং ১০১১
সুলাইমান ইবনে দাউদ আবু রাবী রহ…………যায়েদ ইবনে সাবিত রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূরা ওয়ান-নাজম তিলাওয়াত করেন অথচ এতে সিজদা করেননি।
হাদীস নং ১০১২
আদম ইবনে আবু ইয়াস রহ……..যায়েদ ইবনে সাবিত রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে সূরা ওয়ান-নাজম তিলাওয়াত করলাম। কিন্তু তিন এতে সিজদা করেননি।
হাদীস নং ১০১৩
মুসলিম ও মুআয ইবনে ফাযালা রহ………..আবু সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার আবু হুরায়রা রা. -কে দেখলাম, তিনি ইযাস সামাউন শাক্কাত সূরা তিলাওয়াত করলেন এবং সিজদা করলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আবু হুরায়রা ! আমি কি আপনাকে সিজদা করতে দেখিনি ? তিনি বললেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে সিজদা করতে না দেখলে সিজদা করতাম না।
হাদীস নং ১০১৪
মুসাদ্দাদ রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার আমাদের সামনে এমন এক সূরা তিলাওয়াত করলেন, যাতে সিজদার আয়াত রয়েছে। তাই তিনি সিজদা করলেন এবং আমরাও সিজদা করলাম। ফলে অবস্থা এমন দাঁড়াল যে, আমাদের কেউ কেউ কপাল রাখার জায়গা পাচ্ছিলেন না।
হাদীস নং ১০১৫
বিশর ইবনে আদম রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করতেন এবং আমরা তাঁর নিকট থাকতাম. তখন তিনি সিজদা করতেন এবং আমরাও তাঁর সঙ্গে সিজদা করতাম। এতে ভীড় হত যে, আমাদের মধ্যে কেউ কেউ সিজদা করার জন্য কপাল রাখার জায়গা পেত না।
হাদীস নং ১০১৬
ইবরাহীম ইবনে মূসা রহ……….উমর ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি এক জুমুআর দিন মিম্বরে দাঁড়িয়ে সূরা নাহল তিলাওয়াত করেন। এতে যখন সিজদার আয়াত এল, তখন তিনি মিম্বর থেকে নেমে সিজদা করলেন এবং লোকেরাও সিজদা করল। এভাবে যখন পরবর্তী জুমুআ এল, তখন তিনি সে সূরা পাঠ করেন। এতে যখন সিজদার আয়াত এল, তখন তিনি বললেন, হে লোক সকল ! আমরা যখন সিজাদর আয়াত তিলাওয়াত করি, তখন যে সিজদা করবে সে ঠিকই করবে, যে সিজদা করবে না তার কোন গুনাই নেই। তার বর্ণনায়। (বর্ণনাকারী বলেন) আর উমর রা. সিজদা করেন নি। নাফি রহ. ইবনে উমর রা. থেকে আরো বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা সিজদা ফরয করেন নি, তবে আমরা ইচ্ছা করলে সিজদা করতে পারি।
হাদীস নং ১০১৭
মুসাদ্দাদ রহ……….আবু রাফি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার আবু হুরায়রা রা. -এর সাথে ইশার সালাত আদায় করেছিলাম। তিনি সালাতে ‘ইযাস সামাউন শাক্কাত’ সূরা তিলাওয়াত করে সিজদা করলেন। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এ কী ? তিনি বললেন, এ সূরা তিলাওয়াতের সময় আবুল কাসিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর পিছনে আমি এ সিজদা করেছিলাম। তাই তাঁর সঙ্গে মিলিত না হওয়া পর্যন্ত এভাবে আমি সিজদা করতে থাকব।
হাদীস নং ১০১৮
সাদাকা রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন এমন সূরা তিলাওয়াত করতেন যাতে সিজদা রয়েছে, তখন তিনি সিজদা করতেন এবং আমরাও তাঁর সঙ্গে সিজদা করতাম। এমন কি (ভিড়ের কারণে) আমাদের মধ্যে কেউ কেউ কপাল রাখার জায়গা পেত না।
সালাতে কসর করা অধ্যায় (১০১৯-১০৫৩)
হাদীস নং ১০১৯
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……….ইবনে আব্বাস রা, থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার সফরে উনিশ দিন পর্যন্ত অবস্থান করেন এবং সালাতে কসর করেন। কাজেই (কোথাও) আমরা উনিশ দিনের সফরে থাকলে কসর করি এবং এর চাইতে বেশী হলে পুরোপুরি সালাত আদায় করি।
হাদীস নং ১০২০
আবু মামার রহ…………আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংগে মক্কা থেকে মদীনায় গমন করি, আমরা মদীনা ফিরে আসা পর্যন্ত তিনি দু’রাকাআত, দুরাকাআত সালাত আদায় করেছেন। (রাবী বলেন) আমি (আনাস রা.-কে বললাম, আপনারা মক্কায় কত দিন ছিলেন তিনি বললেন, আমরা সেখানে দশ দিন ছিলাম।
হাদীস নং ১০২১
মুসাদ্দাদ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর এবং উমর রা. -এর সংগে মিনায় দু’রাকাআত সালাত আদায় করেছি। উসমান রা.-এর সঙ্গেও তাঁর খিলাফতের প্রথম দিকে দু’রাকাআত আদায় করেছি। তারপর তিনি পূর্ণ সালাত আদায় করেতে লাগলেন।
