হাদীস নং ১০০০
মুহাম্মদ ইবনে আলা রহ……….আবু মূসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার সূর্যগ্রহণ হল, তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় উঠলেন এবং কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার আশংকা করছিলেন। এরপর তিনি মসজিদে আসেন এবং এর আগে আমি তাকে যেমন করতে দেখেছি, তার চাইতে দীর্ঘ সময় ধরে কিয়াম, রুকু ও সিজদা সহকারে সালাত আদায় করলেন। আর তিনি বললেন : এগুলো হল নিদর্শন যা আল্লাহ পাঠিয়ে থাকেন, তা কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে হয় না। বরং আল্লাহ তা’আলা এর দ্বারা তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন। কাজেই যখন তোমরা এর কিছু দেখতে পাবে, তখন ভীত বিহবল অবস্থায় আল্লাহর যিকির, দু’আ এবং ইস্তিগফারের দিকে অগ্রসর হবে।
হাদীস নং ১০০১
আবুল ওয়ালীদ রহ…….মুগীরা ইবনে শুবা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -(এর পুত্র)) ইবারাহীম রা. যে দিন ইন্তিকাল করেন, সে দিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। লোকেরা বলল, ইবরাহীম রা.-এর মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন বললেন : নিশ্চয়ই সূর্য ও চন্দ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে এ দুটোর গ্রহণণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা এদের গ্রহণ হতে দেখবে, তখন তাদের গ্রহণ মুক্ত হওয়া পর্যন্ত আল্লাহর নিকট দু’আ করবে এবং সালাত আদায় করতে থাকবে।
হাদীস নং ১০০২
মাহমুদ রহ……….আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। তখন তিনি দু’রাকাআত সালাত আদায় করলেন।
হাদীস নং ১০০৩
আবু মামার রহ……….আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। তিনি বের হয়ে তাঁর চাদর টেনে টেনে মসজিদে পৌঁছলেন এবং লোকজনও তাঁর কাছে একত্রিত হল। তারপর তিনি তাদের নিয়ে দু’রাকাআত সালাত আদায় করেন। এরপর সূর্যগ্রহণ মুক্ত হলে তিনি বললেন : ও চন্দ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে এ দুটোর গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা এদের গ্রহণ হতে দেখবে, তখন তাদের গ্রহণ মুক্ত হওয়া পর্যন্ত এবং সালাত আদায় করবে এবং আল্লাহর নিকট দু’আ করতে থাকবে। এ কথা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ কারণেই বলেছেন যে, সেদিন তাঁর পুত্র ইবরাহীম রা.-এর ওফাত হয়েছিল এবং লোকেরা সে ব্যাপারে বলাবলি করছিল।
হাদীস নং ১০০৪
মাহমুদ ইবনে গাইলান রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় লোকদের নিয়ে দু’রাকাআতে চার রুকু সহ সালাত আদায় করেন। প্রথমটি (রাকাআত দ্বিতীয়টির চাইতে) দীর্ঘস্থায়ী ছিল।
হাদীস নং ১০০৫
মুহাম্মদ ইবনে মিনরান রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সালাতে তাঁর কিরাআত সশব্দে পাঠ করেন। কিরাআত সমাপ্ত করার পর তাকবীর বলে রুকু করেন। যখন রুকু থেকে তুললেন, তখন বললেন : ‘সামিআল্লাহু লিমান হামীদাহ, রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ’ । তারপর এ গ্রহণ-এর সালতেই তিনি আবার কিরাআত পাঠ করেন এবং চার রুকু ও চার সিজদাসহ দু’রাকাআত সালাত আদায় করেন। বর্ণনাকারী আওযায়ী রহ. ও অন্যান্য রাবীগণ বলেন, যহরী রহ. কে উরওয়া রহ. এর মাধ্যমে আয়িশা রা. থেকে বর্ণনা করতে শুনেছি যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যুগে সূর্যগ্রহণ হলে তিনি একজনকে ‘আস-সালাতু জামিয়াতুন’ বলে ঘোষণা দেওয়ার জন্য প্রেরণ করেন। তারপর তিনি অগ্রসর হন এবং চার রুকু ও চার সিজদাসহ দু’রাকাআত সালাত আদায় করেন। ওয়ালীদ রহ. বলেন, আমাকে আবদুর রহমান ইবনে নামির আরো বলেন যে, তিনি ইবনে শিহাব রহ. থেকে অনুরূপ শুনেছেন যুহরী রহ. বলেন, যে, আমি উরওয়াকে রহ. বললাম, তোমার ভাই আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর রহ. এরূপ করেন নি। তিনি যখন মদীনায় গ্রহণ -এর সালাত আদায় করেন, তখন ফজরের সালাতের ন্যায় দু’রাকআত সালাত আদায় করেন। উরওয়া রহ. বললেন, হ্যাঁ, তিনি নিয়ম অনুসরণে ভুল করেছেন। সুলাইমান ইবনে কাসীর রহ .যুহরী রহ. থেকে সশব্দে কিরাআতের ব্যাপারে ইবনে কাসীর রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।
কুরআন তিলাওয়াতের সিজ্দা অধ্যায় (১০০৬-১০১৮)
হাদীস নং ১০০৬
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ……….আবদুল্লাহ (ইবনে মাসউদ) রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মক্কায় সূরা আন-নাজম তিলাওয়াত করেন। এরপর তিনি সিজদা করেন এবং একজন বৃদ্ধ লোক ছাড়া তাঁর সঙ্গে সবাই সিজদা করেন। বৃদ্ধ লোকটি এক মুঠো কংকর বা মাটি হাতে নিয়ে তার কপাল পর্যন্ত উঠিয়ে বলল, আমার জন্য এ যথেষ্ট। আমি পরবর্তী যমানায় দেখেছি যে, সে কাফির অবস্থায় নিহত হয়েছে।
হাদীস নং ১০০৭
মুহাম্মদ ইবনে ইউসুফ রহ…………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুক্রবার ফজরের সালাতে الم تنزيل السجدة هل এবং أتى على الإنسان সূরা দুটি তিলাওয়াত করতেন।
হাদীস নং ১০০৮
সুলাইমান ইবনে হারব ও আবু নুমান রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূরা সোয়াদ এর সিজদা অত্যাবশ্যক সিজদা সমূহের মধ্যে গণ্য নয়। তবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে আমি তা তিলাওয়াতের পর সিজদা করতে দেখেছি।
