হাদীস নং ৯৫০
মুসাদ্দাদ রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মাগরিব ও ফজরের সালাতে কুনুত পাঠ করা হত।
সূর্যগ্রহণ অধ্যায় (৯৮৩-১০০৫)
হাদীস নং ৯৮৩
আমর ইবনে আওন রহ……….আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কাছে ছিলাম, এ সময় সূর্যগ্রহণ শুরু হয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজের চাদর টানতে টানতে মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং আমরাও প্রবেশ করলাম। তিনি আমাদেরকে নিয়ে সূর্য প্রকাশিত হওয়া পর্যন্ত দু’রাকাআত সালাত আদায় করলেন। এরপর তিনি বললেন : কারো মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ দেখবে তখন এ অবস্থা কেটে যাওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করবে এবং দু’আ করতে থাকবে।
হাদীস নং ৯৮৪
শিহাব ইবনে আব্বাদ রহ……….আবু মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কোন লোকের মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তবে তা আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। তাই তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হতে দেখবে, তখন দাঁড়িয়ে যাবে এবং সালাত আদায় করবে।
হাদীস নং ৯৮৫
আসবাগ রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন যে, কারো মৃত্যুর কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তবে তা আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। তাই তোমরা যখন সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হতে দেখবে, তখনই সালাত আদায় করবে।
হাদীস নং ৯৮৬
আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ রহ……..মুগীরা ইবনে শুবা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় যে দিন (তাঁর পুত্র) ইবরাহীম রা. ইন্তিকাল করেন, সেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল। লোকেরা তখন বলতে লাগল, ইবরাহীম রা. এর মৃত্যুর কারণেই সূর্যগ্রহণ হয়েছে। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : কারো মৃত্যুর অথবা জন্মের কারণে কখনো সূর্যগ্রহণ বা চন্দ্রগ্রহণ হয় না। তবে তা আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। তাই তোমরা যখন তা দেখবে, তখনই সালাত আদায় করবে এবং আল্লাহর নিকট দু’আ করবে।
হাদীস নং ৯৮৭
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় একবার সূর্যগ্রহণ হল। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করেন। তিনি দীর্ঘ সময় কিয়াম করেন, এরপর দীর্ঘক্ষণ রুকু করেন। এরপর পুনরায় (সালাতে) তিনি উঠি দাঁড়ান এবং দীর্ঘ কিয়াম করেন। অবশ্য তা প্রথম কিয়াম চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি রুকু করেন এবং এ রুকুও দীর্ঘ করেন। তবে তা প্রথম রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। এরপর তিনি সিজদা করেন এবং সিজদাও দীর্ঘক্ষণ করেন। এরপর তিনি প্রথম রাকাআতে যা করেছিলেন তার অনুরূপ দ্বিতীয় রাকাআতে করেন এবং যখন সূর্য প্রকাশিত হয় তখন সালাত শেষ করেন। এরপর তিনি লোকজনের উদ্দেশ্যে খুতবা দান করেন। প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও গুণ বর্ণনা করেন। এরপর তিনি বলেন : সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা তা দেখবে তখন তোমরা আল্লাহর নিকট দু’আ করবে। তাঁর মহত্ব ঘোষণা করবে এবং সালাত আদায় করবে ও সাদকা প্রদান করবে। এরপর তিনি আরো বললেন : হে উম্মতে মুহাম্মদী ! আল্লাহর কসম, আল্লাহর কোন বান্দা যিনা করলে কিংবা কোন নারী যিনা করলে, আল্লাহর চাইতে বেশী অপছন্দকারী কেউ নেই। হে উম্মতে মুহাম্মাদী ! আল্লাহর কসম, আমি যা জানি তা যাদ তোমরা জানতে তাহলে তোমরা অবশ্যই কম হাসতে এবং বেশী কাঁদতে।
হাদীস নং ৯৮৮
ইসহাক রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় যখন সূর্যগ্রহণ হল, তখন (সালাতে সমবেত হওয়ার জন্য) ‘আস-সালাতু জামিয়াতুন’ বলে আহবান জানানো হল।
হাদীস নং ৯৮৯
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর ও আহমাদ ইবনে সালিহ রহ…….. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিনী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবৎকালে একবার সূর্যগ্রহণ হলো। তিনি মসজিদে গমন করেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকেরা তাঁর পিছনে সারিবদ্ধ হলো। তিনি তাকবীর বললেন। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করলেন। এরপর তাবীর বললেন এবং দীর্ঘক্ষণ রুকুতে থাকলেন। এরপর “সামিআল্লাহু লিমান হামীদাহ” বলে দাঁড়ালেন এবং সিজদায় না গিয়েই আবার দীর্ঘক্ষণ কিরাআত পাঠ করলেন। তবে তা প্রথম কিরাআতের চাইতে কম। তারপর তিনি ‘আল্লাহু আকবার’ বললেন এবং দীর্ঘ রুকু করলেন, তবে তা প্রথম রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী। তারপর তিনি বললেন : “সামিআল্লাহু লিমান হামীদাহ, রাব্বানা ওয়ালাকাল হামদ”। এরপর সিজদায় গেলেন। তারপর তিনি পরবর্তী রাকাআতেও অনুরূপ করলেন এবং এভাবে চার সিজদার সাথে চার রাকাআত পূর্ণ করলেন। তাঁর সালাত শেষ করার পূর্বেই সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। এরপর তিনি দাঁড়িয়ে আল্লাহর যথাযোগ্য প্রশংসা করলেন এবং বললেন : সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন মাত্র। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। কাজেই যখনই তোমরা গ্রহণ হতে দেখবে, তখনই ভীত হয়ে সালাতের দিকে গমন করবে। রাবী বর্ণনা করেন, কাসীর ইবনে আব্বাস রহ. বলতেন, আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে আয়িশা রা. থেকে উরওয়া রহ. বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। তাই আমি উরওয়াকে জিজ্ঞাসা করলাম আপনার ভাই (আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর) তো মদীনায় যেদিন সূর্যগ্রহণ হয়েছিল, সেদিন ফজরের সালাতের ন্যায় দু’রাকাআত সালাত আদায়ের অতিরিক্ত কিছু করেননি। তিনি বললেন, তা ঠিক, তবে তিনি নিয়ম অনুসারে ভুল করেছেন।
