হাদীস নং ৯৩৯
ইয়াহইয়া ইবনে সুলাইমান রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : রাতের সালাত দু’ দু’ রাকাআত করে। তারপর যখন তুমি সালাত শেষ করতে চাইবে, তখন এক রাকাআত আদায় করে নিবে। তা তোমার পূর্ববর্তী সালাতকে বিতর করে দিবে। কাসিম রহ. বলেন, আমরা সাবালক হয়ে লোকদের তিন রাকাআত বিতর আদায় করতে দেখেছি। উভয় নিয়মেরই অবকাশ রয়েছে। আমি আশা করি এর কোনটিই দোষনীয় নয়।
হাদীস নং ৯৪০
আবুল ইয়ামান রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এগার রাকাআত সালাত আদায় করতেন। এ ছিল তাঁর রাত্রিকালীন সালাত। একে তিনি এমন দীর্ঘ সিজদা করতেন যে, তাঁর মাথা উঠাবার আগে তোমাদের কেউ পঞ্চাশ আয়াত পড়তে পারে এবং ফজরের সালাতের আগে তিনি আরো দু’রাকাআত পড়তেন। তারপর তিনি ডান কাতে শুয়ে বিশ্রাম করতেন, সালাতের জন্য মুআযযিনের আসা পর্যন্ত।
হাদীস নং ৯৪১
আবু নুমান রহ………আনাস ইবনে সীরীন রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইবনে উমর রা.কে বললাম, ফজরের পূর্বের দু’রাকাআতে আমি কিরাআত দীর্ঘ করব কি না, এ সম্পর্কে আপনার অভিমত কি ? তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতে দু’ দু’ রাকাআত করে সালাত আদায় করতেন এবং এক রাকাআতে মিলিয়ে বিতর পড়তেন। এরপর ফজরের সালাতের পূর্বে তিনি দু’রাকাআত এমন সময় আদায় করতেন যেন ইকামতের শব্দ তাঁর কানে আসছে। রাবী হাম্মাদ রহ. বলেন, অর্থাৎ দ্রুততার সাথে। (সংক্ষিপ্ত কিরাআতে)
হাদীস নং ৯৪২
উমর ইবনে হাফস রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের সকল অংশে (অর্থাৎ ভিন্ন ভিন্ন রাতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে) বিতর আদায় করতেন আর (জীবনের) শেষ দিকে সাহরীর সময় তিনি বিতর আদায় করতেন।
হাদীস নং ৯৪৩
মুসাদ্দাদ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (রাতে) সালাত আদায় করতেন, তখন আমি তাঁর বিছানায় আড়াআড়িভাবে ঘুমিয়ে থাকতাম। এরপর তিনি যখন বিতর পড়ার ইচ্ছা করতেন, তখন আমাকে জাগিয়ে দিতে এবং আমিও বিতর আদায় করে নিতাম।
হাদীস নং ৯৪৪
মুসাদ্দাদ রহ………আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : বিতরকে তোমাদের রাতের শেষ সালাত করবে।
হাদীস নং ৯৪৫
ইসমাঈল রহ………..সাঈদ ইবনে ইয়াসার রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর সঙ্গে মক্কার পথে সফর করছিলাম। সাঈদ রহ. বলেন, আমি যখন ফজর হওয়ার আশংকা করলাম, তখন সাওয়ারী থেকে নেমে পড়লাম এবং এবং বিতরের সালাত আদায় করলাম। এরপর তাঁর সঙ্গে মিলিত হলাম। তখন আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কোথায় ছিলে ? আমি বললাম, ভোর হওয়ার আশংকা করে নেমে বিতর আদায় করেছি। তখন আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মধ্যে কি তোমার জন্য আদর্শ নেই ? আমি বললাম, হ্যাঁ, আল্লাহর কসম ! তিনি বললেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উটের পিঠে (আরোহী অবস্থায়) বিতরের সালাত আদায় করতেন।
হাদীস নং ৯৪৬
মূসা ইবনে ইসমাঈল রহ……..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে ফরয সালাত ব্যতীত তাঁর সাওয়ারীতে থেকেই ইশারায় রাতের সালাত আদায় করতেন। সাওয়ারী যে দিকেই ফিরুক না কেন, আর তিনি বাহনের উপরেই বিতর আদায় করতেন।
হাদীস নং ৯৪৭
মুসাদ্দাদ রহ……..মুহাম্মদ ইবনে সীরীন রহ. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আনাস ইবনে মালিক রা.-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, ফজরের সালাতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুনুত পড়েছেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ । তাকে জিজ্ঞাসা করা হল তিনি কি রুকুর আগে কুনুত পড়েছেন ? তিনি বললেন, কিছুদিন রুকুর পরে পড়েছেন।
হাদীস নং ৯৪৮
মুসাদ্দাদ রহ………আসিম রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনে মালিক রা. কে কুনুত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, কুনুত অবশ্যই পড়া হত। আমি জিজ্ঞাসা করলাম। রুকুর আগে না পরে ? তিনি বললেন, রুকুর আগে। আসিম রহ. বললেন, অমুক ব্যক্তি আমাকে আপনার বরাত দিয়ে বলেছেন যে, আপনি বলেছেন, রুকুর পরে। তখন আনাস রা. বলেন, সে ভুল বলেছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রুকুর পরে এক মাস ব্যাপি কুনুত পাঠ করেছেন। আমার জান মতে, তিনি সত্তর জন সাহাবীর একটি দল, যাদের কুবরা (অভিজ্ঞ ক্বারীগণ) বলা হত মুশরিকদের কোন এক কওমের উদ্দেশ্যে পাঠান। এরা সেই কওম নয়, যাদের বিরুদ্ধে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদ দু’আ করেছিলেন। বরং তিনি এক মাস ব্যাপি কুনুতে সে সব কাফিরদের জন্য বদ দু’আ করেছিলেন যাদের সাথে তাঁর চুক্তি ছিল এবং তারা চুক্তি ভঙ্গ করে ক্বারীগণকে হত্যা করেছিল।
হাদীস নং ৯৪৯
আহমদ ইবনে ইউনুস রহ……..আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক মাস ব্যাপি রি’ল ও যাকওয়ান গোত্রের বিরুদ্ধে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুনুতে দু’আ পাঠ করেছিলেন।
