হাদীস নং ৯৯০
সাঈদ ইবনে উফাইর রহ……… নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সহধর্মিনী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় সালাত আদায় করেন। তিনি দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন। এরপর দীর্ঘ কিরাআত পাঠ করেন। তারপর তিনি দীর্ঘ রুকু করলেন। এরপর মাথা তুললেন, আর “সামিআল্লাহু লিমান হামীদাহ” বলে আগের মতই দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিরাআত পাফ করলেন। তবে তা প্রথম কিরাআতের চাইতে কম। তারপর তিনি আবার রুকু করলেন, তবে তা প্রথম রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী। তারপর তিনি দীর্ঘ সিজদায় গেলেন। তারপর তিনি পরবর্তী রাকাআতেও অনুরূপ করলেন এবং সালাম ফিরালেন। তখন সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। এরপর তিনি লোকদের উদ্দেশ্যে খুতবা দিলেন। খুতবায় তিনি সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ সম্পর্কে বললেন : সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন মাত্র। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। কাজেই যখনই তোমরা গ্রহণ হতে দেখবে, তখনই ভীত হয়ে সালাতের দিকে গমন করবে।
হাদীস নং ৯৯১
কুতাইবা ইবনে সাঈদ রহ………..আবু বাকরা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন মাত্র। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। আল্লাহ তা’আলা সূর্যগ্রহণ দিয়ে তাঁর বান্দাদের সতর্ক করেন।
ইমাম বুখারী রহ. বলেন, আবদুল্লাহ ওয়ারিস, শুআইব, খালিদ ইবনে আবদুল্লাহ, হাম্মাদ ইবনে সালাম রহ .ইউনুস রহ. থেকে ‘এ দিয়ে আল্লাহ তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন’ বাক্যটি বর্ণনা করেননি; আর মূসা রহ. মুবারক রহ. স্থলে হাসান রহ. থেকে ইউনুস রহ. এর অনুসরণ করেছেন। তিনি বলেন, আমাকে আবু বাকরা রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ এ দিয়ে তাঁর বান্দাদেরকে সতর্ক করেন। আশআস রহ. হাসান রহ. থেকে ইউনুস রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।
হাদীস নং ৯৯২
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ……… নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহধর্মিনী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, এক ইয়াহুদী মহিলা তাঁর নিকট কিছু জিজ্ঞাসা করতে এলো। সে আয়িশা রা.-কে বলল, আল্লাহ তা’আলা আপনাকে কবর আযাব থেকে রক্ষা করুন। এরপর আয়িশা রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করেন, কবরে কি মানুষকে আযাব দেওয়া হবে ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তা থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই। পরে কোন এক সকালে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাওয়ারীতে আরোহণ করেন। তখন সূর্যগ্রহণ আরম্ভ হয়। তিনি সূর্যোদয় ও দুপুরের মাঝামাঝি সময় ফিরে আসেন এবং কামরাগুলোর মাঝখান দিয়ে অতিক্রম করেন। এরপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন এবং লোকেরা তাঁর পিছনে দাঁড়াল। তিনি দীর্ঘ সময় কিয়াম করেন, এরপর দীর্ঘক্ষণ রুকু করেন। এরপর পুনরায় মাথা তুলে দীর্ঘ কিয়াম করেন। অবশ্য তা প্রথম কিয়াম চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকু করেন। তবে তা প্রথম রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। এরপর তিনি মাথা তুললেন এবং সিজদায় গেলেন। এরপর তিনি দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। তারপর দীর্ঘ রুকু করলেন। এ রুকু প্রথম রাকাআতের রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। তারপর তিনি মাথা উঠালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন এবং এ কিয়াম আগের কিয়ামের চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। তারপর আবার রুকু করলেন এবং তা প্রথম রাকআতের রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। পরে মাথা তুললেন এবং সিজদায় গেলেন। এরপর সালাত শেষ করলেন। আল্লাহর যা ইচ্ছা তিনি তা বললেন এবং কবরের আযাব থেকে পানাহ চাওয়ার জন্য উপস্থিত লোকদের নির্দেশ দেন।
হাদীস নং ৯৯৩
আবু নুআইম রহ………..আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময় যখন সূর্যগ্রহণ হয় তখন ‘আস-সালাতু জামিয়াতুন’ বলে ঘোষণা দেয়া হয়। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন এক রাকাআতে দু’বার রুকু করেন, এরপর দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় রাকাআতেও দু’বার রুকু করেন এরপর বসেন আর এতক্ষণে সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে যায়। বর্ণনাকারী বলেন, আয়িশা রা. বলেছেন, এ সালাত ব্যতীত এত দীর্ঘ সিজদা আমি কখনও করিনি।
হাদীস নং ৯৯৪
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলাম রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সালাত আদায় করেন এবং তিনি সূরা বাকারা পাঠ করতে যত সময় লাগে সে পরিমাণ দীর্ঘ কিয়াম করেন। এরপর দীর্ঘক্ষণ রুকু করেন। এরপর পুনরায় মাথা তুলে দীর্ঘ কিয়াম করেন। অবশ্য তা প্রথম কিয়াম চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকু করেন। তবে তা প্রথম রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। এরপর সিজদায় গেলেন। এরপর তিনি দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। তারপর দীর্ঘ রুকু করলেন। এ রুকু প্রথম রাকাআতের রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। তারপর তিনি মাথা উঠালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন এবং এ কিয়াম আগের কিয়ামের চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। তারপর আবার রুকু করলেন এবং তা প্রথম রাকআতের রুকুর চাইতে অল্পস্থায়ী ছিল। পরে মাথা তুললেন এবং সিজদায় গেলেন। এরপর সালাত শেষ করলেন। তখন সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেল। এরপর তিনি বললেন : নিঃসন্দেহে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহর নিদর্শন সমূহের মধ্যে দুটি নিদর্শন মাত্র। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে গ্রহণ হয় না। কাজেই যখনই তোমরা আল্লাহকে স্মরণ করবে।। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমরা দেখলাম, আপনি নিজের জায়গা থেকে কি যেন ধরছেন, আবার দেখলাম, আপনি যেন পিছনে সরে এলেন। তিনি বললেন : আমি তো জান্নাত দেখেছিলাম এবং এক গুচ্ছ আঙ্গুরের প্রতি হাত বাড়িয়েছিলাম। আমি তা পেয়ে গেলে, দুনিয়া কায়েম থাকা পর্যন্ত অবশ্য তোমরা তা খেতে পারতে। এরপর আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়, আমি আজকের মত ভয়াবহ দৃশ্য কখনো দেখিনি। আর আমি দেখলাম, জাহান্নামের অধিকাংশ বাসিন্দা স্ত্রীলোক। লোকেরা জিজ্ঞাসা করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! কী কারণে ? তিনি বললেন : তাদের কুফরীর কারণে। জিজ্ঞাসা করা হল, তারা কি আল্লাহর সাথে কুফরী করে ? তিনি জবাব দিলেন, তারা স্বামীর অবাধ্য থাকে এবং ইহসান অস্বীকার করে। তুমি যদি তাদের কারো প্রতি সারা জীবন সদাচরণ কর, এরপর সে তোমার থেকে (যদি) সামান্য ত্রুটি পায়, তাহলে বলে ফেলে, তোমার থেকে কখনো ভাল ব্যবহার পেলাম না।
