হাদীস নং ৯৩০
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ………..ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহে নাহর করতেন কিংবা যবেহ করতেন।
হাদীস নং ৯৩১
মুসাদ্দাদ রহ……….বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুরবানীর দিন সালাতের পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে খুতবা দিলেন। খুতবায় তিনি বললেন, যে আমাদের মত সালাত আদায় করবে এবং আমাদের করবানী করবে তার কুরবানী যথার্থ বলে গণ্য হবে। আর যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বে কুরবানী করবে তার সে কুরবানী গোশত খাওয়া ছাড়া আর কিছু হবে না। তখন আবু বুরদাহ ইবনে নিয়ার রা. দাঁড়িয়ে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আল্লাহর কসম ! আমি তো সালাতে বের হবার পূর্বেই কুরবানী করে ফেলেছি। আমি ভেবেছি যে, আজকের দিনটি তো পানাহারের দিন। তাই আমি তাড়াতাড়ি করে ফেলেছি। আমি নিজে খেয়েছি এবং আমার পরিবারবর্গ ও প্রতিবেশীদের আহার করিয়াছি। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : ওটা গোশত খাওয়ার বকরী ছাড়া আর কিছুই হয়নি। আবু বুরদা রা. বলেন, তবে আমার নিকট এমন একটি মেষ শাবক আছে যা দুটো (গোশত খাওয়ার) বকরীর চেয়ে ভাল। এটা কি আমার পক্ষে কুরবানীর জন্য যথেষ্ট হবে ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তবে তোমার পরে অন্য কারো জন্য যথেষ্ট হবে না।
হাদীস নং ৯৩২
হামিদ ইবনে উমর রহ………আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন সালাত আদায় করেন, তারপর খুতবা দিলেন। এরপর নির্দেশ দিলেন, যে ব্যক্তি সালাতের পূর্বে কুরবানী করেছে সে যেন পুনরায় কুরবানী করে। তখন আনসারগণের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমার প্রতিবেশীরা ছিল উপবাসী অথবা বলেছেন দারিদ্র। তাই আমি সালাতের পূর্বেই যবেহ করে ফেলেছি। তবে আমার নিকট এমন মেষশাবক আছে যা দুটি হৃষ্টপুষ্ট বকরীর চাইতেও আমার নিকট অধিক পছন্দ সই। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সেটা কুরবানী করার অনুমতি প্রদান করেন।
হাদীস নং ৯৩৩
মুসলিম ইবনে ইবরাহীম রহ………জুনদাব ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন সালাত আদায় করেন, এরপর খুতবা দেন। তারপর যবেহ করেন এবং তিনি বলেন : সালাতের পূর্বে যে ব্যক্তি যবেহ করবে তাকে তার স্থলে আর একটি যবেহ করতে হবে এবং যে যবেহ করেনি, আল্লাহর নামে তার যবেহ করা উচিৎ ।
হাদীস নং ৯৩৪
মুহাম্মদ রহ……….জাবির রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদের দিন (বাড়ী ফেরার সময়) ভিন্ন পথে আসতেন। ইউনুস ইবনে মুহাম্মদ রহ. আবু হুরায়রা রা. থেকে হাদীস বর্ণনায় আবু তুমাইল ইয়াহইয়া রহ. এর অনুসরণ করেছেন। তবে জাবির রা. থেকে হাদীসটি অধিকতর সহীহ।
হাদীস নং ৯৩৫
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ……….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, আবু বকর রা. তাঁর নিকট এলেন। এ সময় মিনার দিবসগুলোর এক দিবসে তাঁর নিককট দুটি মেয়ে দফ বাজাচ্ছিল, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাদর আবৃত অবস্থায় ছিলেন। তখন আবু বকর রা. মেয়ে দুটিকে ধমক দিলেন। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুখমণ্ডল থেকে কাপড় সরিয়ে নিয়ে বললেন, হে আবু বকর ! ওদের বাঁধা দিও না। কেননা, এসব ঈদের দিন। আর সে দিনগুলো ছিল মিনার দিন। আয়িশা রা. আরো বলেছেন, হাবশীরা যখন মসজিদে (এর প্রাঙ্গণে) খেলাধুলা করছিল, তখন আমি তাদের দেখছিলাম এবং আমি দেখেছি, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে আড়াল করে রেখেছেন। উমর রা. হাবশীদের ধমক দিলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ওদের ধমক দিও না। হে বণূ আরফিদা ! তোমরা যা করছিলে তা নিশ্চিন্তে কর।
হাদীস নং ৯৩৬
আবুল ওয়ালীদ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল রা.-কে সঙ্গে নিয়ে ঈদুল ফিতরের দিন বের হয়ে দু’রাকাআত সালাত আদায় করেন। তিনি এর আগে ও পরে কোন সালাত আদায় করেননি।
বিতর অধ্যায় (৯৩৭-৯৫০)
হাদীস নং ৯৩৭
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর নিকট রাতের সালাত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করল। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : রাতের সালাত দু’দু ((রাকাআত) করে। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি ফজর হওয়ার আশংকা করে, সে যেন এক রাকাআত মিলিয়ে সালাত আদায় করে নেয়। আর সে যে সালাত আদায় করল, তা তার জন্য বিতর হয়ে যাবে। নাফি রহ. থেকে বর্ণিত, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বিতর সালাতের এক ও দু’রাকাআতের মাঝে সালাম ফিরাতেন। এরপর কাউকে কোন প্রয়োজনীয় কাজের নির্দেশ দিতেন।
হাদীস নং ৯৩৮
আবদুল্লাহ ইবনে মাসলামা রহ…..ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি তাঁর খালা উম্মুল মুমিনীন মায়মূনা রা. এর ঘরে রাত কাটান। (তিনি বলেন) আমি বালিশের প্রস্থের দিক দিয়ে শয়ন করলাম এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামও তাঁর পরিবার সেটির দৈর্ঘ্যের দিক দিয়ে শয়ন করলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাতের অর্ধেক বা তার কাছাকাছি সময় পর্যন্ত ঘুমালেন। এরপর তিনি জাগ্রত হলেন এবং চেহারা থেকে ঘুমের আবেশ দূর করেন। পরে তিনি সূরা আল-ইমরানের (শেষ) দশ আয়াত তিলাওয়াত করলেন। তারপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি ঝুলন্ত মশকের নিকট গেলেন এবং উত্তমরূপে উযূ করলেন। এরপর তিনি সালাতে দাঁড়ালেন। আমিও তাঁর মতই করলাম এবং তাঁর পাশেই দাঁড়ালাম। তিনি তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন এবং আমার কান ধরলেন। এরপর তিনি দু’রাকাআত সালাত আদায় করলেন। এরপর দু’রাকাআত, এরপর দু’রাকাআত, এরপর দু’রাকাআত, এরপর তিনি বিতর আদায় করলেন। তারপর তিনি শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুআযযিন তাঁর কাছে এলো। তখন তিনি দাঁড়িয়ে দু’আকাআত সালাত আদায় করলেন। তারপর বের হয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন।
