হাদীস নং ৯২৬
মুসাদ্দাদ রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, আপনি কি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সংগে কখনো ঈদে উপস্থিত হয়েছেন ? তিনি বললেন হ্যাঁ। যদি তাঁর কাছে আমার মর্যাদা না থাকত তাহলে কম বয়সী হওয়ার কারণে আমি ঈদে উপস্থিত হতে পারতাম না। তিনি বের হয়ে কাসীর ইবনে সালতের গৃহের কাছে স্থাপিত নিশানার কাছে এলেন এবং সালাত আদায় করলেন। এরপর খুতবা দিলেন। তারপর তিনি মহিলাগণের নিকট উপস্থিত হলেন। তখন তাঁর সংগে বিলাল রা. ছিলেন। তিনি মহিলাগণের উপদেশ দিলেন, নসীহত করলেন এবং দান সাদকা করার জন্য নির্দেশ দিলেন। আমি তখন মহিলাগণের নিজ নিজ হাত বাড়িয়ে বিলাল রা.-এর কাপড়ে দান সামগ্রী ফেলতে দেখলাম। এরপর তিনি এবং বিলাল রা. নিজ বাড়ীর দিকে চলে গেলেন।
হাদীস নং ৯২৭
ইসহাক ইবনে ইবরাহীম ইবনে নাসর রহ………..জাবির ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল ফিতরের দিন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করলেন, পরে খুতবা দিলেন। খুতবা শেষে নেমে মহিলাণের নিকট আসলেন এবং তাদের নসীহত করলেন। তখন তিনি বিলাল রা.-এর হাতের উপর ভর দিয়ে ছিলেন এবং বিলাল রা. তাঁর কাপড় প্রসারিত করে ধরলেন। মহিলাগণ এতে দান সামগ্রী ফেলতে লাগলেন (আমি ইবনে জুরাইজ) আতা রহ.কে জিজ্ঞাসা করলাম, এ কি ঈদুল ফিতরের সাদকা ? তিনি বললেন, না, বরং এ সাধারণ সাদকা যা তাঁরা ঐ সময় দিচ্ছিলেন। কোন মহিলা তাঁর আংটি দান করলে অন্যান্য মহিলাগণও তাদের আংটি দান করতে লাগলেন। আমি আতা রহ. কে (আবার) জিজ্ঞাসা করলাম, মহিলাগণকে উপদেশ দেওয়া কি ইমামের জন্য জরুরী ? তিনি বললেন, অবশ্যই, তাদের উপর তা জরুরী। তাদের (ইমামগণ) কি হয়েছে যে, তাঁরা এরূপ করবেন না ? ইবনে জুরাইজ রহ. বলেছেন, হাসান ইবনে মুসলিম রহ. তাউস রহ. এর মাধ্যমে ইবনে আব্বাস রা. থেকে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবু বকর, উমর ও উসমান রা -এর সংগে ঈদুল ফিতরে আমি উপস্থিত ছিলাম। তাঁরা খুতবার আগে সালাত আদায় করতেন, পরে খুতবা দিতেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন, আমি যেন দেখতে পাচ্ছি তিনি হাতের ইশারায় (লোকদের) বসিয়ে দিচ্ছেন। এরপর তাদের কাতার ফাক করে অগ্রসর হয়ে মহিলাদের কাছে এলেন। বিলাল রা. তাঁর সঙ্গে ছিলেন। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের এ আয়াত পাঠ করলেন : “হে নবী ! যখন ঈমানদার মহিলাগণ আপনার নিকট এ শর্তে বায়আত করতে আসেন………..(সূরা মুমতাহিনা : ১২)। এ আয়াত শেষ করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, তোমরা এ বায়আতের উপর আছ ? তাদের মধ্যে একজন মহিলা বলল, হ্যাঁ, সে ছাড়া আর কেউ এর জবাব দিল না। হাসান রহ. জানেন না, সে মহিলা কে ? এরপর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমরা সাদকা কর। সে সময় বিলাল রা. তাঁর কাপড় প্রসারিত করে বললেন, আমার মা-বাপ আপনাদের জন্য কুরবান হোক, আসুন , আপনারা দান করুন। তখন মহিলাগণ তাদের ছাট-বড় আংটি গুলো বিলাল রা. -এর কাপড়ের মধ্যে ফেলতে লাগলেন। আবদুর রাজ্জাক রহ. বলেন ‘আল-ফাতখ’ হলো বড় আংটি যা জাহেলী যুগে ব্যবহৃত হত।
হাদীস নং ৯২৮
আবু মামার রহ………..হাফসা বিনতে সীরীন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ঈদের দিন আমাদের যুবতীদের বের হতে নিষেধ করতাম। একবার জনৈক মহিলা এলেন এবং বনু খালাফের প্রাসাদে অবস্থান করলেন। আমি তাঁর নিকট গেলে তিনি বললেন, তাঁর ভগ্নিপতি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে বারটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, এর মধ্যে ছয়টি যুদ্ধে স্বয়ং তাঁর বোনও স্বামীর সাথে অংশগ্রহণ করেছেন, (মহিলা বলেন) আমার বোন বলেছেন, আমরা রুগ্ণদের সেবা করতাম, আহতদের শুশ্রূষা করতাম। একবার তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! যদি আমাদের কারো ওড়না না থাকে, তখন কি সে বের হবে না ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এ অবস্থায় তার বান্ধবী যেন তাকে নিজ ওড়না পরিধান করতে দেয় এবং এভাবে মহিলাগণ যেন কল্যাণকর কাজে ও মুমিনদের দু’আয় অংশগ্রহণ করেন। হাফসা রা. বলেন, যখন উম্মে আতিয়্যা রা. এলেন, তখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, আপনি কি এসব ব্যাপারে কিছু শুনেছেন ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, হাফসা রা. বলেন, আমার পিতা, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জন্য উৎসর্গিত হোক এবং তিনি যখনই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নাম উল্লেখ করতেন, তখনই এ কথা বলতেন। সালাতের স্থান থেকে সরে থাকেন। তারা সকলেই যেন কল্যাণকর কাজে ও মুমিনদের দু’আয় অংশগ্রহণ করেন। হাফসা রা. বলেন আমি তাকে বললাম, ঋতুমতী মহিলাগণও ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, ঋতুমতী মহিলা কি আরাফাত এবং অন্যান্য স্থানে উপস্থিত হয় না ?
হাদীস নং ৯২৯
মুহাম্মদ ইবনে মুসান্না রহ……….উম্মে আতিয়্যা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (ঈদের দিন) আমাদেরকে বের হওয়ার জন্য নির্দেশ হয়েছিল। তাই আমরা ঋতুমতী, যুবতী এবং তাঁবুতে অবস্থানকারীনী মহিলাগণকে নিয়ে বের হতাম। ইবনে আওন রহ. এর এক বর্ণনায় রয়েছে, অথবা তাঁবুতে অবস্থানকারীনী যুবতী মহিলাগণকে নিয়ে হতাম। অতঃপর ঋতুমতী মহিলাগণ মুসলমানদের জামাআত এবং তাদের দু’আয় অংশগ্রহণ করতেন। তবে ঈদগাহে পৃথকভাবে অবস্থান করতেন।
