হাদীস নং ৯১৬
আহমদ ইবনে ইয়াকুব রহ………সাঈদ ইবনে আস রা.-এর পিতা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ইবনে উমর রা.-এর নিকট হাজ্জাজ এলো। আমি তখন তাঁর কাছে ছিলাম। হাজ্জাজ জিজ্ঞাসা করলো, তিনি কেমন আছেন ? ইবনে উমর রা. বললেন, ভাল। হাজ্জাজ জিজ্ঞাসা করলো, আপনাকে কে আঘাত করেছে ? তিনি বললেন, আমাকে সে ব্যক্তি আঘাত করেছে, যে সে দিন অস্ত্র ধারণের আদেশ দিয়েছে, যে দিন তা ধারণ করা বৈধ নয়। অর্থাৎ হাজ্জাজ।
হাদীস নং ৯১৭
সুলাইমান ইবনে হাবর রহ…………বারা ইবনে আযিব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরবানীর দিন আমাদের উদ্দেশ্যে খুতবা দেন। তিনি বলেন, আজকের দিনে আমাদের প্রথম কাজ হল সালাত আদায় করা। তারপর ফিরে এসে কুরবানী করা। যে ব্যক্তি এরূপ করবে সে আমাদের নিয়ম পালন করল। যে ব্যক্তি সালাতের আগেই যবেহ করবে, তা শুধু গোশতের জন্যই হবে, যা সে পরিবারের জন্য তাড়াতাড়ি করে ফেলেছে। কুরবানীর সাথে এর কোন সম্পর্কে নেই। তখন আমার মামা আবু বুরদা ইবনে নিয়ার রা. দাঁড়িয়ে বললেন ,ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি তো সালাতের আগেই যবেহ করে ফেলেছি। তবে এখন আমার নিকট এমন একটি মেষ শাবক আছে যা ‘মুসিন্ন’ মেষের চাইতেও উত্তম। তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তার স্থলে এটিই (কুরবানী) করে নাও। অথবা তিনি বললেন : এটিই যবেহ । তবে তুমি ব্যতীত আর কারো জন্যই মেষ শাবক যথেষ্ট হবে না।
হাদীস নং ৯১৮
মুহাম্মদ ইবনে আরআরা রহ……….ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যিলহাজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের আমল, অন্যান্য দিনের আমলের তুলনায় উত্তম। তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন, জিহাদও কি (উত্তম) নয় ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : জিহাদও নয়। তবে সে ব্যক্তির কথা স্বতন্ত্র, যে নিজের জান ও মালের ঝুকি নিয়েও জিহাদ করে এবং কিছুই নিয়ে ফিরে আসে না।
হাদীস নং ৯১৯
আবু নুআইম রহ………..মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর সাকাফী রহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা সকাল বেলা মিনা থেকে যখন আরাফাতের দিকে যাচ্ছিলাম, তখন আনাস ইবনে মালিক রা. এর নিকট তালবিয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কিরূপ করতেন ? তিনি বললেন, তালবিয়া পাঠকারী তালবিয়া পড়ত, তাকে নিষেধ করা হতো না। তাকবীর পাঠকারী তাকবীর পাঠ করত, তাকেও নিষেধ করা হতো না।
হাদীস নং ৯২০
মুহাম্মদ রহ………উম্মে আতিয়্যা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ঈদের দিন আমাদের বের হওয়ার আদেশ দেওয়া হত। এমন কি আমরা কুমারী মেয়েদেরকেও অন্দর মহল থেকে বের করতাম এবং ঋতুমতী মেয়েদেরকেও। তারা পুরুষদের পিছনে থাকতো এবং তাদের তাকবীরের সাথে তাকবীর বলতো এবং তাদের দুআর সাথে দু’আ করত- তারা আশা করত সে দিনের বরকত এবং পবিত্রতা।
হাদীস নং ৯২১
মুহাম্মদ ইবনে বাশশার রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, ঈদুল ফিতর ও কুরবানীর দিন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সামনে বর্শা পুতে দেওয়া হত। তারপর তিনি সালাত আদায় করতেন।
হাদীস নং ৯২২
ইবরাহীম ইবনে মুনযির রহ………ইবনে উমর রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন সকাল বেলায় ঈদগাহে যেতেন, তখন তাঁর সামনে বর্শা বহন করা হত। এবং তাঁর সামনে ঈদগাহে তা স্থাপন করা হত এবং একে সামনে রেখে তিনি সালাত আদায় করতেন।
হাদীস নং ৯২৩
আবদুল্লাহ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব রহ………..উম্মে আতিয়্যা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, (ঈদের সালাতের উদ্দেশ্যে) যুবতী ও পর্দানশিন মেয়েদের নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের আদেশ করা হত। আইয়্যূব রহ. থেকে হাফসা রা. সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত আছে এবং হাফসা রা. থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতে অতিরিক্ত বর্ণনা আছে যে, ঈদগাহে ঋতুমতী মহিলাগণ আলাদা থাকতেন।
হাদীস নং ৯২৪
আমর ইবনে আব্বাস রহ………ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সঙ্গে ঈদুল ফিতর বা আযহার দিন বের হলাম। তিনি সালাত আদায় করলেন। এরপর খুতবা দিলেন। তারপর মহিলাগণের কাছে গিয়ে তাদের উপদেশ দিলেন, তাদের নসীহত করলেন এবং তাদেরকে সাদকা দানের নির্দেশ দিলেন।
হাদীস নং ৯২৫
আবু নুআইম রহ………..বারা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদুল আযহার দিন বাকী (নামক কবরস্থানে) গমন করেন। তারপর তিনি দু’রাকাআত সালাত আদায় করেন। এরপর আমাদের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন এবং তিনি বলেন, আজকের দিনের প্রথম ইবাদত হল সালাত আদায় করা। এরপর (বাড়ী) ফিরে গিয়ে কুরবানী করা। যে ব্যক্তি এরূপ করবে সে আমাদের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করবে। আর যে এর পূর্বেই যবেহ করবে তাহলে তার যবেহ হবে এমন একটি কাজ, যা সে নিজের পরিবারবর্গের জন্যই তাড়াতাড়ি করে ফেলেছে, এর সাথে কুরবানীর কোন সম্পর্ক নেই । তখন এক ব্যক্তি (আবু বুরদা ইবনে নিয়ার রা. দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ ! আমি (তো সালাতের পূর্বেই) যবেহ করে ফেলেছি। এখন আমার নিকট এমন একটি মেষ শাবক আছে যা পূর্ণবয়স্ক মেষের চাইতে উত্তম। (এটা কুরবানী করা যাবে কি ?) তিনি বললেন, এটাই যবেহ কর। তবে তোমার পর আর কারো জন্য তা যথেষ্ট হবে না।
