হাদিস ৩১৪
আবদুল্লাহ্ ইবনে মুহাম্মদ রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ফাতিমা বিনতে আবু হুবাইশ রা. এর ইস্তিহাযা হতো। তিনি এ বিষয়ে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এ হচ্ছে রগের রক্ত, হায়যের রক্ত নয়। সুতরাং হায়য শুরু হলে সালাত ছেড়ে দেবে। আর হায়য শেষ হলে গোসল করে সালাত আদায় করবে।
হাদিস ৩১৫
মূসা ইবনে ইসমা’ঈল রহ…….মু’আয রা. থেকে বর্ণিত, এক মহিলা আয়িশা রা.কে বললেন : আমাদের জন্য হায়যকালীন কাযা সালাত পবিত্র হওয়ার পর আদায় করলে বলবে কি না? আয়িশা রা. বললেন : তুমি কি হারূরিয়্যা ? আমরা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে ঋতুবতী হতাম কিন্তু তিনি আমাদের সালাত কাযার নির্দেশ দিতেন না। অথবা তিনি (আয়িশা রা.) বলেন : আমরা তা কাযা করতাম না।
হাদিস ৩১৬
সা’দ ইবনে হাফস রহ……..উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে একই চাদরের নীচে শায়িত অবস্থায় আমার হায়য দেখা দিল। তখন আমি চুপিসারে বেরিয়ে এসে হায়যের কাপড় পরে নিলাম। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন : তোমার কি হায়য শুরু হয়েছে ? আমি বললাম : হাঁ । তখন তিনি আমাকে ডেকে নিয়ে তাঁর চাদরের নীচে স্থান দিলেন। বর্ণনাকারী যয়নাব রা. বলেন : আমাকে উম্মে সালামা রা. এও বলেছেন যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে জানাবাতের গোসল করতাম।
হাদিস ৩১৭
মু’আয ইবনে ফাযালা রহ……..উম্মে সালামা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : এক সময় আমি ও নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একই চাদরের নীচে শুয়েছিলাম। আমার হায়য শুরু হলো। তখন আমি চুপিসারে বেরিয়ে গিয়ে হায়যের কাপড় পরে নিলাম। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন : তোমার কি হায়য আরম্ভ হয়েছে ? আমি বললাম, হাঁ । তিনি আমাকে ডেকে নিলেন এবং আমি তাঁর সঙ্গে একই চাদরের নীচে শুয়ে পড়লাম।
হাদিস ৩১৮
মুহাম্মদ ইবনে সালাম রহ………হাফসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমরা আমাদের যুবতীদের ঈদের সালাতে বের হতে নিষেধ করতাম। এক মহিলা বনূ খালাফের মহলে এসে পৌঁছলেন এবং তিনি তাঁর বোন থেকে বর্ণনা করলেন। তাঁর ভগ্নীপতি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বারটি গাযওয়ায় অংশ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন : আমার বোনও তাঁর সঙ্গে ছয়টি গাযওয়ায় শরীক ছিলেন। সেই বোন বলেন : আমরা আহতদের পরিচর্যা ও অসুস্থদের সেবা করতাম। তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন : আমাদের কারো ওড়না না থাকার কারণে বের না হলে কোন অসুবিধা আছি কি ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেলন : তার সাথীর ওড়না তাকে পরিয়ে দেবে যাতে সে ভাল মজলিস ও মু’মিনদের দু’আয় শরীক হতে পারে। যখন উম্মে আতিয়্যা রা. আসলেন, আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম : আপনি কি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এরূপ শুনেছেন ? উত্তরে তিনি বললেন : আমার পিতা তাঁর জন্য কুরবান হোক। হাঁ, তিনি এরূপ বলেছিলেন। নবীর কথা আলোচিত হলেই তিনি বলতেন , আমার পিতা তাঁর জন্য কুরবান হোক। আমি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলতে শুনেছি যে, যুবতী পর্দানশীন ও ঋতুবতী মহিলারা বের হবে এবং ভাল স্থানে ও মু’মিনদের দু’আয় অংশগ্রহণ করবে। অবশ্য ঋতুবতী মহিলা ঈদগাহ থেকে দূরে থাকবে। হাফসা রা. বলেন : আমি জিজ্ঞাসা করলাম : ঋতুবতীও কি বেরুবে ? তিনি বললেন : সে কি আরাফাতে ও অমুক স্থানে উপস্থিত হবে না।
হাদিস ৩১৯
আহমদ ইবনে আবু রাজা রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ফাতিমা বিনতে আবু হুবায়শ রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন : আমার ইস্তিহাযা হয়েছে এবং পবিত্র হচ্ছি না। আমি কি সালাত ছেড়ে দেব ? নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : না, এ হলো রগ-নির্গত রক্ত। তবে এরূপ হওয়ার আগে যতদিন হায়য হতো সে কয়দিন সালাত অবশ্যই ছেড়ে দাও। তারপর গোসল করে নিবে ও সালাত আদায় করবে।
হাদিস ৩২০ – হায়যের দিনগুলো ছাড়া হলুদ এবং মেটে রঙ দেখা
কুতায়বা ইব্ন সাঈদ (র.)…উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা মেটে ও হলুদ রঙ হায়যের মধ্যে গণ্য করতাম না।
হাদিস ৩২১
ইবরাহীম ইবনে মুনযির আল-হিযামী রহ…….. নবী পত্নী আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : উম্মে হাবীবা রা. সাত বছর পর্যন্ত ইস্তিহাযাগ্রস্তা ছিলেন । তিনি এ ব্যাপারে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি তাকে গোসলের নির্দেশ দিলেন এবং বললেন : এ শিরা-নির্গত রক্ত। এরপর উম্মে হাবীবা রা. প্রতি সালাতের জন্য গোসল করতেন।
হাদিস ৩২০ – হায়যের দিনগুলো ছাড়া হলুদ এবং মেটে রঙ দেখা
কুতায়বা ইব্ন সাঈদ (র.)…উম্মে আতিয়্যা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমরা মেটে ও হলুদ রঙ হায়যের মধ্যে গণ্য করতাম না।
হাদিস ৩২৩
মু’আল্লা ইবনে আসাদ রহ……..আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : (তাওয়াফে যিয়ারতের পর) মহিলার হায়য হলে তার চলে যাওয়ার অনুমতি রয়েছ। এর আগে হযরত ইবনে উমর রা. বলতেন : সে যেতে পারবে না। তারপর তাকে বলতে শুনেছি যে, সে যেতে পারে। কারণ, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের জন্য (যাওয়ার) অনুমতি দিয়েছিলেন।
