হাদিস ৩০৮
ইয়াহইয়া রা………..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে হায়যের গোসল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলেন। তিনি তাকে গোসলের নিয়ম বলে দিলেন যে, এক টুকরা কস্তুরী লাগনো নেকড়া নিয়ে পবিত্রতা হাসিল কর। মহিলা বললেন : কিভাবে পবিত্রতা হাসিল করব? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তা দিয়ে পবিত্রতা হাসিল কর। মহিলা (তৃতীয়বার) বললেন : কিভাবে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : সুবহানাল্লাহ্! তা দিয়ে তুমি পবিত্রতা হাসিল কর । আয়িশা রা. বলেন : তখন আমি তাকে টেনে আমার কাছে নিয়ে আসলাম এবং বললাম : তা দিয়ে রক্তের চিহ্ন বিশেষভাবে মুছে ফেল।
হাদিস ৩০৯ – হায়যের গোসলের বিবরণ
মুসলিম রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত যে, একজন আনসারী মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন : আমি কিভাবে হায়যের গোসল করবো ? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এক টুকরো কস্তুরীযুক্ত নেকড়া লও এবং তিনবার ধুয়ে নাও। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরপর লজ্জাবশত অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন : তা দিয়ে তুমি পবিত্র হও। আয়িশা রা. বলেন : আমি তাকে নিজের দিকে টেনে নিলাম। তারপর তাকে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কথার মর্ম বুঝিয়ে দিলাম।
হাদিস ৩১০ – হায়যের গোসলের সময় চুল আঁচড়ানো
মূসা ইবনে ইসমা’ঈল রহ…….আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বিদায় হজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলাম। আমিও তাদেরই একজন ছিলাম যারা তামাত্তুর নিয়্যত করেছিল এবং সঙ্গে কুরবানীর পশু নেয়নি। তিনি বলেন : তাঁর হায়য শুরু হয় আর আরাফার রাত পর্যন্ত তিনি পাক হন নি। আয়িশা রা. বলেন : আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! আজ তো আরাফার রাত, আর আমি হজ্জের সঙ্গে উমরারও নিয়্যত করেছি। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে বললেন : মাথার বেণী খুলে ফেল, চুল আঁচড়াও আর উমরা থেকে বিরত থাক। আমি তা-ই করলাম। হজ্জ সমাধা করার পর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আবদুর রহমান রা. কে হাসবায় অবস্থানের রাতে (আমাকে উমরা করানোর) নির্দেশ দিলেন। তিনি তান’ঈম থেকে আমাকে উমরা করালেন, যেখান থেকে আমি উমরার ইহরাম বেঁধেছিলাম।
হাদিস ৩১১
ইবায়দ ইবনে ইসমা’ঈল রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমরা যিলহজ্জ মাসের চাঁদ দেখার সময় নিকটবর্তী হলে বেরিয়ে পড়লাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যে উমরার ইহরাম বাঁধতে চায় সে তা করতে পারে। কারণ, আমি সাথে কুরবানীর পশু না আনলে উমরার ইহরামই বাঁধতে চায় সে তা করতে পারে। কারণ, আমি সাথে কুরবানীর পশু না আনলে উমরার ইহরামই বাঁধতাম। তারপর কেউ উমরার ইহরাম বাঁধলেন, আর কেউ হজ্জের ইহরাম বাঁধলেন। আমি ছিলাম উমরার ইহরামকারীদের মধ্যে। আরাফার দিনে আমি ঋতুবতী ছিলাম। আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে আমার অসুবিধার কথা বললাম। তিনি বললেন : তোমার উমরা ছেড়ে দাও, মাথার বেনী খুলে চুল আঁচড়াও, আর হজ্জের ইহরাম বাঁধ। আমি তাই করলাম। হাসবা নামক স্থানে অবস্থানের রাতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার সাথে আমার ভাই আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রা. কে পাঠালেন। আমি তান’ঈমের দিকে বের হলাম। সেখানে পূর্বের উমরার পরিবর্তে ইহরাম বাঁধলাম। হিশাম রহ. বলেন : এসব কারণে কোন দম (কুরবানী) সওম বা সদকা দিতে হয় নি।
হাদিস ৩১২
মুসাদ্দাদ রহ……….আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন : আল্লাহ্ তা’আলা মাতৃগর্ভের জন্য একজন ফিরিশতা নির্ধারণ করেছেন। তিনি (পর্যায়ক্রমে) বলতে থাকেন, হে রব! এখন বীর্য-আকৃতিতে আছে। হে রব! এখন জমাট রক্তে পরিণত হয়েছে। হে রব! এখন মাংসপিন্ডে পরিণত হয়েছে। এরপর আল্লাহ্ তা’আলা যখন তার সৃষ্টি পূর্ণ করতে চান, তখন জিজ্ঞাসা করেন : পুরুষ , না স্ত্রী? ভাগ্যবান, না দুর্ভাগা ? রিযক ও বয়ষ কত ? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : তার মাতৃগর্ভে থাকতেই তা লিখে দেওয়া হয়।
হাদিস ৩১৩ – ঋতুবতী কিভাবে হজ্জ ও উমরার ইহরাম বাঁধবে?
ইয়াহইয়া ইবনে বুকাইর রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে বিদায় হজ্জের সময় বের হয়েছিলাম। আমাদের কেউ ইহরাম বেঁধেছিল আর কেউ বেঁধেছিল হজ্জের। আমরা মক্কায় এসে পোছলে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : যারা উমরার ইহরাম বেঁধেছে কিন্তু কুরবানীর পশু সাথে আনেনি, তারা যেন ইহরাম খুলে ফেলে। আর যারা হজ্জের ইহরাম বেঁধেছে তারা যেন হজ্জ পূর্ণ করে। আয়িশা রা. বলেন : এরপর আমার হায়য শুরু হয় এবং আরাফার দিনেও তা বহাল থাকে। আমি শুধু উমরার ইহরাম বেঁধেছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে মাথার বেণী খোলার , চুল আঁচড়িয়ে নেওয়ার এবং উমরার ইহরাম ছেড়ে হজ্জের ইহরাম বাঁধার নির্দেশ দিলেন। আমি তাই করলাম। পরে হজ্জ সমাধা করলাম। এরপর আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর রা. কে আমার সাথে পাঠালেন। তিনি আমাকে তানঈম থেকে আমার আগের পরিত্যক্ত উমরার পরিবর্তে উমরা করতে নির্দেশ দিলেন।
