হাদিস ৩২৪
আহমদ ইবনে ইউনুস রা. আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : হায়য দেখা দিলে সালাত ছেড়ে দাও আর হায়যের সময় শেষ হয়ে গেলে রক্ত ধুয়ে নাও এবং আদায় কর।
হাদিস ৩২৫
আহমদ ইবনে সুরায়জ রহ….. সামুরা ইবনে জুনদুব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : একজন প্রসূতি মহিলা মারা গেলে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জানাযা পড়লেন। সালাতে তিনি মহিলার দেহের মাঝ বরাবর দাঁড়িয়েছিলেন।
হাদিস ৩২৬
হাসান ইবনে মুদরিক রহ………আবদুল্লাহ্ ইবনে শাদ্দাদ রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমি আমার খালা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাতের সিজদার জায়গায় সোজাসুজি শুয়ে থাকতেন। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর চাটাইয়ে সালাত আদায় করতেন। সিজদা করার সময় তাঁর কাপড়ের অংশ আমার (মায়মূনার) গায়ে লাগতো।
তায়াম্মুম অধ্যায় (৩২৭-৩৪১)
হাদিস ৩২৭
হাদিস ৩২৮
মুহাম্মদ ইবন সিনান ও সা’ঈদ ইবন নাযর (র)……জাবির ইবন ‘আবদুল্লাহ (রা) থেকে বর্ণিত, নবী (সঃ) বলেনঃ আমাকে এমন পাঁচটি বিষয় দান করা হয়েছে, যা আমার পূর্বে কাউকে দেওয়া হয়নি।
(১) আমাকে এমন প্রভাব দিয়ে সাহায্য করা হয়েছে যে, একমাস দূরত্তেও তা প্রতিফলিত হয়;
(২) সমস্ত যমীন আমার জন্য প্রবিত্র ও সালাত আদায়ের উপযোগি করা হয়েছে। কাজেই আমার উম্মাতের যে কোন লোক ওয়াক্ত হলেই সালাত আদায় করতে পারবে;
(৩) আমার জন্য গনীমতের মাল হালাল করে দেওয়া হয়েছে, যা আমার আগে আর কারো জন্য হালাল করা হয়নি;
(৪) আমাকে (ব্যাপক) শাফা’আতের অধিকার দেওয়া হয়েছে;
(৫) সমস্ত নবী (সঃ) প্রেরিত হতেন কেবল তাদের সম্প্রদায়ের জন্য, আর আমাকে প্রেরণ করা হয়েছে সমগ্র মানব জাতির জন্য।
হাদিস ৩২৯
যাকারিয়্যা ইবন ইয়াহইয়া (র)’আয়িশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি এক সময়ে (তাঁর বোন) আসমা (রা)-এর হার ধার করে নিয়ে গিয়েছিলেন। (পথিমধ্যে) হারখানা হারিয়ে গেল। রাসূলুল্লাহ (সঃ) সেটির খোঁজে লোক পাঠালেন। তিনি এমন সময় হারটি পেলেন, যখন তাদের সালাতের ওয়াক্ত হয়ে গিয়েছিল অথচ তাদের কাছে পানি ছিল না। তাঁরা সালাত আদায় করলেন। তারপর বিষয়টি তাঁরা রাসূলুল্লাহ (সঃ) –এর কাছে বর্ণনা করেন। তখন আল্লাহ তা’আলা তাআম্মুমের আয়াত নাযিল করেন। সেজন্য উসায়দ ইবন হুযায়র (রা) ‘আয়িশা (রা) –কে লক্ষ্য করে বললেনঃ আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। আল্লাহর কসম! আপনি যে কোন অপছন্দনীয় পরিস্থিথির সম্মুখীন হয়েছেন, তাতেই আল্লাহ তা’আলা আপনার ও সমস্ত মুসলমানের জন্য কল্যাণ রেখেছেন।
হাদিস ৩৩০
ইয়াহইয়া ইবন বুকায়র (র)……আবূ জুহাইম (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ নবী (সঃ) (মদীনার নিকটস্থ) ‘বি’রে জামাল’ থেকে আসছিলেন। পথিমধ্যে তাঁর সাথে এক ব্যক্তির দেখা হল। লোকটি তাঁকে সালাম দিলেন। নবী (সঃ) জওয়াব না দিয়ে দেয়ালের কাছে অগ্রসর হয়ে তাতে (হাত মেরে) নিজ চেহারা ও হস্তদ্বয় মাসেহ করে নিলেন, তারপর সালামের জওয়াব দিলেন।
হাদিস ৩৩১
আদম (র)…সা’ঈদ ইব্ন ‘আবদূর রহমান ইব্ন আবযা তাঁর পিতা [‘আবদুর রহমান (রা)] থেকে বর্ণিত, এক ব্যক্তি ‘উমর ইব্নুল খাত্তার (রা) নিকট এসে জানতে চাইলঃ একবার আমার গোসলের প্রয়োজন হল অথচ আমি পানি পেলাম না। তখন ‘আম্মার ইব্ন ইয়াসির (রা) ‘উমর ইব্নুল খাত্তার (রা)-কে বললেনঃ আপনার কি সেই ঘটনা স্মরণ আছে যে, এক সময় আমরা দু’জন সফরে ছিলাম এবং দু’জনেরই গোসলের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিল। আপনি তো সালাত আদায় করলেন না। আর আমি মাটিতে গড়াগড়ি দিয়া সালাত আদায় করলাম। তারপর আমি ঘটনাটি নবী (সাঃ)-এর কাছে বর্ণনা করলাম। তখন নবী (সাঃ) বললেনঃ তোমার জন্য তো এইটুকুই যথেষ্ট ছিল। এ বলে নবী (সাঃ) দু’হাত মাটিতে মারলেন এবং দু’হাতে ফুঁ দিয়ে তাঁর চেহারা ও উভয় হাত মাসেহ করলেন।
হাদিস ৩৩২
হাজ্জাজ (র)……‘আবদুর রহমান ইবন আবযা (র) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ‘আম্মার (রা)-ও এ কথা (যা পূর্বের হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে তা) বর্ণনা করেছেন। শু’বা (র) নিজের হস্তদ্বয় মাটিতে মেরে মুখের কাছে নিলেন (ফুঁ দিলেন)। তারপর নিজের চেহারা ও হস্তদ্বয় মাসেহ করলেন। নাযর (র) শু’বা (র) সুত্রে অনুরুপ বর্ণনা করেন।
হাদিস ৩৩৩
সুলায়মান ইবন হারব (র)……ইবন ‘আবদুর রহমান ইবন আবযা (র) তাঁর পিতা থকে বর্ণনা করেন যে, তিনি (‘আবদুর রহমান) ‘উমর (রা) এর কাছে উপস্থিত ছিলেন, আর ‘আম্মার (রা) তাঁকে বলেছিলেনঃ আমরা এক অভিযানে গিয়েছিলাম, আমরা উভয়ই জুনুবী হয়ে পড়লাম। উক্ত রেওয়ায়েতে হাত দু’টোতে ‘নফখ ফয়হম’ এর স্থলে ‘বাফল ফয়হম ’ বলেছেন। উভয়েই সমার্থক।
হাদিস ৩৩৪
মুহাম্মদ ইবন কাসীর (র)……’আবদুর রহমান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ‘আম্মার (রা) ‘উমর (রা) কে বলেছিলেনঃ (আমি তায়াম্মুমের উদ্দেশ্যে) মাটিতে গড়াগড়ি দিলাম। পরে নবী (সাঃ)-এর কাছে গেলাম। তখন তিনি বলেছিলেনঃ চেহারা ও হাত দু’টো মাসেহ করাই তোমার জন্য যথেষ্ট।
হাদিস ৩৩৫
মুসলিম (ইবন ইবরাহীম) (র)……’আবদুর রহমান (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ‘উমর (রা) –এর কাছে উপস্থিত ছিলাম, ‘আম্মার (রা) তাঁকে বল্লেন,…এর পর রাবী পূর্বের হাদিসটি বর্ণনা করেন।
