হাদিস ২৯৭
আবু নু’মান রহ……….মায়মূনা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর কোন স্ত্রীর সাথে হায়য অবস্থায় মিশামিশি করতে চাইলে ইযার পরতে বলতেন। শায়বানী রহ. থেকে সুফিয়ান রহ. এ বর্ণনা করেছেন।
হাদিস ২৯৮
সা’ঈদ ইবনে আবু মারয়াম রহ……..আবু সা’ঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, একবার ঈদুল আযহা বা ঈদুল ফিতরের সালাত আদায়ের আদায়ের জন্য রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঈদগাহের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি মহিলাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেন : হে মহিলা সমাজ ! তোমরা সাদকা করতে থাক। কারণ আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমারই অধিক। তাঁরা আরয করলেন : কী কারণে, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ? তিনি বললেন : তোমরা অধিক পরিমাণে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর না-শোকরী করে থাক। বুদ্ধি ও দীনের ব্যাপারে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একজন সদাসতর্ক ব্যক্তির বুদ্ধি হরণে তোমাদের চাইতে পারদর্শী আমি আর কাউকে দেখিনি। তারা বললেন : আমাদের দীন ও বুদ্ধির ত্রুটি কোথায়, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ? তিনি বললেন : একজন মহিলার সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয় ? তারা উত্তর দিলেন, ‘হাঁ’। তখন তিনি বললেন : এ হচ্ছে তাদের বুদ্ধির ত্রুটি। আর হায়য অবস্থায় তারা কি সালাত ও সিয়াম থেকে বিরত থাকে না ? তারা বললেন, ‘হাঁ’। তিনি বললেন : এ হচ্ছে তাদের দীনের ত্রুটি।
হাদিস ২৯৯
আবু নু’আয়ম রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমরা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে হজ্জের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলাম। আমরা সারিফ নামক স্থানে যাওয়ার পর আমি ঋতুবতী হই। এ সময় রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এসে আমাকে কাঁদতে দেখলেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন : তুমি কাঁদছ কেন ? আমি বললাম : আল্লাহর শপথ ! এ বছর হজ্জ না করাই আমার জন্য পসন্দনীয়। তিনি বললেন : সম্ভবত তুমি ঋতুবতী হয়েছ। আমি বললাম, ‘হাঁ’। তিনি বললেন :এ তো আদম-কন্যাদের জন্য আল্লাহ্ নির্ধারিত করেছেন। তুমি পাক হওয়া পর্যন্ত অন্যান্য হাজীদের মত সমস্ত কাজ করে যাও, কেবল কা’বার তাওয়াফ করবে না।
হাদিস ৩০০
আবদুল্লাহ্ ইবনে ইউসুফ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : ফাতিমা বিনতে আবু হুবায়শ রা. রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলেন : ইয়া রাসূলাল্লাহ্ ! আমি কখনও পবিত্র হই না। এমতাবস্থায় আমি কি সালাত ছেড়ে দেব ? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : এ হলো এক ধরনের বিশেষ রক্ত, হায়যের রক্ত নয়। যখন তোমার হায়য শুরু হয় তখন তুমি সালাত ছেড়ে দাও। আর হায়য শেষ হলে রক্ত ধুয়ে সালাত আদায় কর।
হাদিস ৩০১
আবদুল্লাহ্ ইবনে ইউসুফ রহ………আসমা বিনতে আবু বকর সিদ্দীক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞাসা করলো : ইয়া রাসূলুল্লাহ্ ! আমাদের কারো কাপড়ে হায়যের রক্ত লাগলে কি করবে? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : তোমাদের কারো কাপড়ে হায়যের রক্ত লাগলে সে তা রগড়িয়ে, তারপর পানিতে ধুয়ে নেবে এবং সে কাপড়ে সালাত আদায় করবে।
হাদিস ৩০২
আসবাগ রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমাদের কারো হায়য হলে, পাক হওয়ার পর রক্ত রগড়িয়ে কাপড় পানি দিয়ে ধুয়ে সেই কাপড়ে তিনি সালাত আদায় করতেন ।
হাদিস ৩০৩
ইসহাক ইবনে শাহীন রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তাঁর কোন এক স্ত্রী ইস্তিহাযার অবস্থায় ই’তিকাফ করেন। তিনি রক্ত দেখতেন এবং স্রাবের কারণে প্রায়ই তাঁর নীচে একটি পাত্র রাখতেন। রাবী বলেন : আয়িশা রা. হলুদ রঙের পানি দেখে বলেছেন, এ যেন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর অমুক স্ত্রীর ইস্তিহাযার রক্ত।
হাদিস ৩০৪
কুতায়বা রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে তাঁর কোন একজন স্ত্রী ই’তিকাফ করেছিলেন। তিনি রক্ত ও হলদে পানি বের হতে দেখতেন আর তাঁর নীচে একটা পাত্র বসিয়ে রাখতেন এবং সে অবস্থায় সালাত আদায় করতেন।
হাদিস ৩০৫
মুসাদ্দাদ রহ……..আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, উম্মুল মু’মিনীনের একজন ইস্তিহাযা অবস্থায় ই’তিকাফ করেছিলেন।
হাদিস ৩০৬
আবু নু’আয়ম রহ………আয়িশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : আমাদের কারো একটির বেশী কাপড় ছিল না। তিনি হায়য অবস্থায়ও এই কাপড় খানিই ব্যবহার করতেন, তাতে রক্ত লাগলে থুথু দিয়ে ভিজিয়ে নখ দ্বারা রগড়িয়ে নিতেন।
হাদিস ৩০৭
আবদুল্লাহ্ ইবনে আবদুল ওয়াহহাব রহ………উম্মে আতিয়্যা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : কোন মৃত ব্যক্তির জন্য আমাদের তিন দিনের বেশী শোখ পালন করা থেকে নিষেধ করা হতো। কিন্তু স্বামীর ক্ষেত্রে চার মাস দশদিন (শোক পালনের অনুমতি ছিল)। আমরা তখন সুরমা লাগাতাম না, সুগন্ধি ব্যবহার করতাম না, ইয়েমেনের তৈরী রঙিন কাপড় ছাড়া অন্য কোন রঙিন কাপড় পরতাম না। তবে হায়য থেকে পবিত্রতার গোসলে আজফারের খুশবু মিশ্রিত বস্ত্রখন্ড ব্যবহারের অনুমতি ছিল। আর আমাদের জানাযার পেছনে যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। এই বর্ণনা হিশাম ইবনে হাসসান রহ. হাফসা রা. থেকে, তিনি উম্মে আতিয়্যা রা. থেকে এবং তিনি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিবৃত করেছেন।
