শিরদাঁড়া টানটান করে লোকটার মুখোমুখি দাঁড়াল রোজমেরী। তুমি খামোকাই তর্ক করছ। আজকাল বাড়িতে কেউ টাকা-পয়সা রাখে না-লোকে চেক ব্যবহার করে।
মিসেস হার্টের দিকে তাকিয়ে মুখ ভেংচালো লোকটা। খুব চালাক মেয়ে বানিয়েছেন তো!
রোজমেরী মার দিকে তাকাল। বসে আছেন তিনি চেয়ারে, ভয়ে সাদা মুখ।
ভয় পেয়ো না, মাম্মি, শান্ত গলায় বলল সে। ড্যাডি এক্ষুনি চলে আসবে।
অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল লোকটা। তুমি সত্যি খুব চালাক, রোজী। তোমার বাবা মারা গেছে অনেক আগে, সে কথা জানি না ভেবেছ? সব খবর নিয়েই এসেছি।
হঠাৎ চেহারা বদলে গেল লোকটার, থমথমে হয়ে উঠল। সোজা আঙুলে ঘি উঠবে না, বেশ বুঝতে পারছি, হিসহিস করে বলল সে। দেখাচ্ছি মজা!
এক লাফে পৌঁছে গেল মিসেস হার্টের পেছনে, পেছন দিয়ে চেপে ধরল গলা। রোজমেরী স্থির দাঁড়িয়ে রইল, আপনা আপনি শক্ত হয়ে গেল মুঠো। লোকটাকে থামাতে হবে। কিন্তু কীভাবে? কীভাবে? আগে তোমার মাকে শেষ করব তারপর তোমাকে, বিছু মেয়ে, শুয়োরের মত ঘোঁত ঘোঁত করছে সে, মিসেস হার্টের গলায় শক্ত আঙুলগুলো চেপে বসল।
গ্রেগরী, গ্রেগরী, ওকে থামাও। মৃগীরোগীর মত চেঁচিয়ে উঠল রোজমেরী।
হতভম্ব দেখাল লোকটাকে, মিসেস হার্টের গলা ছেড়ে দিল। কী বললে তুমি? খেঁকিয়ে উঠল সে। গ্রেগরী আবার কে?
রোজমেরীই প্রথমে দেখতে পেল গ্রেগরীকে। মার চেয়ারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। পরনে ক্যাপ্টেনের ইউনিফর্ম, হাতে ব্যাটেল অভ ইঙ্কারম্যানের সেই ভারী তরবারি যা দিয়ে বহু শত্রু ঘায়েল করেছেন তিনি। ক্যাপ্টেনকে পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে রোজমেরী, মা বা লোকটা কি দেখতে পাচ্ছে না?
শিউরে উঠলেন মিসেস হার্ট। খুব ঠাণ্ডা লাগছে। রোজমেরী বুঝতে পারল গ্রেগরীর উপস্থিতি টের পেয়েছেন মা। কিন্তু লোকটা? রোজমেরীর চিৎকার শুনেই কি সে ওভাবে দমে গেল?
হঠাৎ লোকটার গোটা শরীর ঝাঁকি খেল, হাত মুঠো করল সে, ঘন ঘন ডোক গিলল, কাউকে জড়িয়ে ধরার চেষ্টা করছে। হঠাৎ দুলে উঠল শরীর, ধপ করে বসে পড়ল চেয়ারে।– ওহ্, মাই গড, আমার হার্ট, গুঙিয়ে উঠল সে। আমার বোধহয় হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে।
মুখ আর শরীর কুঁকড়ে গেল তার, অনবরত গোঙাচ্ছে, চাপ দিয়ে ধরছে বুক।
বাঁচাও! আমাকে বাঁচাও! আর্তনাদ করে উঠল লোকটা। মনে হচ্ছে কেউ আমাকে ছুরি মেরেছে। সিধে হলো সে যন্ত্রণার হাত থেকে মুক্তি পেতে, পরক্ষণে দড়াম করে পড়ে গেল মেঝেতে।
.
কিছুক্ষণ পর পুলিশ আর অ্যাম্বুলেন্স এল রোজমেরীদের বাড়িতে, শয়তান লোকটার লাশ নিয়ে গেল। হৈ চৈ কমলে দোতলায় উঠে এল রোজমেরী, দাঁড়াল পোর্ট্রেটের সামনে।
ওহ্, গ্রেগরী, তুমি সত্যি দারুণ। তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। চোখে জল নিয়ে বলল ও। গ্রেগরী তাকিয়ে আছেন ওর দিকে, মুখে হাসি। চোখ মুছে রোজমেরীও হাসল। ফিসফিস করে বলল, ব্যাপারটা শুধু আমরা দুজনেই জানি, তাই না?
এমন সময় বাতাস এসে নাড়িয়ে দিল পর্দা। আর ছবিটি সত্যি সত্যি চোখ পিট পিট করে উঠল রোজমেরীর দিকে তাকিয়ে।
