এক সপ্তাহের মধ্যে বাড়ির ভোল বদলে গেল। এক বৃহস্পতিবার তার সহকারীদের বিদায় করল পিয়েরে ।
আর সেই রাতে মেয়েটি এল–সেই দম বন্ধ করা রূপ নিয়ে, তার চোখে কী এক আলো ঝকমক করছিল, সঙ্গে সাত দিনের জমানো তীব্র কামনা।
তোমার কিউট চেহারার বন্ধুটি কে? কোনও ভূমিকা ছাড়াই জানতে চাইল সে।
কোন্ বন্ধু?
বড় বড় বাদামী চোখের ছোটখাট মানুষটি, মুচকি হাসল সে, ঠোঁটে জিভ বুলাচ্ছে।
ওকে একা থাকতে দাও, বেবি। তুমি তো আমাকে পেয়েছ, বললাম আমি।
ঠোঁট ফোলাল ও। জানি আমি তোমাকে পেয়েছি। তার চক্ষু সরু হয়ে এল। কিন্তু সে নিজেকে ধরা দিতে চায় না। আমি এরকমটাই পছন্দ করি… আর তুমি তুমি বড্ড অধীর।
আমি অধীর, বিস্ফোরিত হলাম আমি। মাই গড, উওম্যান, আমার পিঠের নখের খামচিগুলো কি আমি নিজে দিয়েছি!
মেয়েটিকে যেন এক মুহূর্তের জন্য উদ্বিগ্ন দেখাল তারপর ঘুরে এল আমার পেছনে ভালবাসার ক্ষত দেখার জন্য। পুওর বেবি, কুঁইকুঁই করল সে, চুমু খেল দাগগুলোর ওপর। তারপর জোরে কামড় বসিয়ে দিল।
সেই রাতে সে চলে যাওয়ার আগে তাকে অনুরোধ করলাম আমার সঙ্গে বোস্টনে যেতে। ওখানে আমার নতুন নাটকের উদ্বোধনী হবে। লাল চুলের মাথাটি নেড়ে সে দুঃখী দুঃখী গলায় বলল, ওহ নো, আমি যেতে পারব না।
কেন পারবে না? গোঁ ধরলাম আমি।
আমার পক্ষে যাওয়া অসম্ভব, কাঁদতে শুরু করল ও। প্লিজ তুমি যেয়ো না। আমি জানি না পুরুষ মানুষ ছাড়া আমি কীভাবে চলব… মানে তুমি পাশে না থাকলে…
বিছানায় উঠে বসল ও, প্রবল আকুলতা নিয়ে তাকাল আমার দিকে। বলো তুমি আমাকে ভালবাস। বলো তুমি আমাকে সবসময় ভালবাসবে। প্লিজ…. ড্যান। মন থেকে বলার দরকার নেই, মুখে বলো।
জানালার শাটার দিয়ে ভেসে আসা চাঁদের আলোয় তার চোখের জল চিকচিক করছে। মেয়েটি আক্ষরিক অর্থেই সুন্দরী –এমন রূপবতী আমি জীবনে দেখিনি। আমি চুম্বনে চুম্বনে ওর অঞ পান করতে করতে বললাম, আমি তোমাকে ভালবাসি… আমি তোমাকে ভালবাসি… ভালবাসব সবসময়।
কিছুক্ষণ পরে শিহরিত সুখ নিয়ে ও শয্যা ত্যাগ করল।
আমি এখন যাব। বোস্টনে গিয়ে নিজের প্রতি যত্ন নিও। আর আমার কাছে ফিরে এসো। প্লিজ… আমি জীবনেও কাউকে এতটা ভালবাসিনি, ড্যান। বিশ্বাস করো– এর আগে আমি এমন করে কারও প্রেমে পড়িনি।
ওর পেছনে দরজা বন্ধ হয়ে গেল। আই লাভ য়ু, ফিসফিস করে বললাম আমি। এবং অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এক সেকেন্ডের জন্য কথাটি আমি বিশ্বাসও করে ফেলেছিলাম।
পরদিন সকালে পিয়েরে ডাইনিংরুমে ঢুকল যুঁসতে ফুঁসতে যেন রোয়া তোলা মোরগ।
আমি ওকে গুড মর্নিং বলতে যাচ্ছিলাম, সে বাধা দিয়ে ঢেঁকিয়ে উঠল, অলরাইট, ড্যান। ঠাট্টা ঠাট্টাই কিন্তু তুমি বড় বেশি মশকরা করে ফেলেছ। মেয়েটা কে?
বেকুব বনে গেলাম আমি শুধু বিড়বিড় করে বললাম, কোন্ মেয়ে? সাধু সেজো না! যে মেয়েটাকে.. যে মেয়েটাকে আজ সকালে তুমি আমার বিছানায় পাঠিয়েছ।
পিয়েরে সিরিয়াস এবং খাপচুরিয়াস মানে ক্ষেপে বোম হয়ে আছে। মেয়েটা! ও নিশ্চয় রাতের বেশিরভাগ সময় আমার সঙ্গে কাটিয়ে তারপর পিয়েরের ঘরে যায়নি। এ অসম্ভব! মেয়েটার বর্ণনা দাও তো শুনি, বললাম আমি।
চেপে রাখা রাগে কাঁপতে কাঁপতে মেয়েটির বর্ণনা দিল পিয়েরে… সেই একই নারী।
কী ঘটেছে? প্রশ্নটি আমাকে করতেই হলো যদিও এর জবাব আমি চাই না।
কী ঘটবে? কিছুই ঘটেনি। তোমার কি ধারণা একটা মেয়ে হুট করে আমার বিছানায় উঠে এল আর আমি তাকে নিয়ে রঙ্গ-তামাশা করব? আমি কিছু নীতি মেনে চলি! আমার নৈতিকতা আছে! ওটা তো একটা বেবুশ্যে! সাহস কত বলে কিনা আমি কেন ওর কাছে ধরা দিচ্ছি না!
তাহলে ব্যাপার এই! আমাকে দিয়ে ওর মনের আশ পুরোপুরি মেটেনি তাই গিয়েছিল পিয়েরের কাছে।
আমি দুঃখিত, পিয়েরে । আন্তরিক দুঃখিত। তবে সত্যি জানি না মেয়েটা কে। জানার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু কেউ ওর পরিচয় বলতে পারল না।
পিয়েরে বুঝল আমি সিরিয়াস। সে এখনও রেগে থাকলেও আমাকে আর ঝাড়ি দিল না। কিছু মহিলা হলো জন্তুর মতো-কিছুতেই তৃপ্ত হয় না, ঘোঁতঘোঁত করল ও। এদের শরীর দিনরাত চব্বিশ ঘণ্টা, সপ্তাহের সাতদিনই গরম হয়ে থাকে।
পিয়েরে শান্ত হলে বললাম আজ রাতেই আমি বোস্টনের উদ্দেশে যাত্রা করছি, ও আমার সঙ্গে যাবে কিনা।
না, ইস্ট উইংয়ের কাজ এখনও শেষ করে উঠতে পারিনি। কালকের মধ্যে সব কাজ শেষ করতে চাই। ভালো কথা ইস্ট বিউটিফুলের ক্লারা কেনেট আসছে একজন ফটোগ্রাফার নিয়ে। সে তোমার এবং এ বাড়ির লে আউটের জন্য কিছু ছবি তুলবে। কাজেই যত জলদি পারো ফিরে এসো।
বললাম পরদিনই আমি ফিরে আসছি। বেটসভিল শহর ধরে গাড়ি চালাতে গিয়ে ঠিক করলাম একবার খবরের কাগজের অফিসে থামব। দেখি টড মেয়েটা সম্পর্কে কিছু জানে কিনা।
নাহ, ধীরে ধীরে বলল টড, তাকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় দেখাচ্ছে, লোল্যান্ড নামে কোনও মেয়ে এ তল্লাটে নেই। সন্দেহের সুর ফুটল কণ্ঠে। তুমি জানতে চাইছ কেন? জরুরি কিছু?
আমি একটু চিন্তা করে দেখলাম ওকে এ মুহূর্তে আর কিছু বলা ঠিক হবে না।
না? সে অনিসন্ধিৎসু টেরিয়ারের মতো একদিকে কাত করল মাথা। বেশ তো। তবু আমি একবার খোঁজ নিয়ে দেখব। তুমি বোস্টন থেকে ফিরে এলে জানাব।
