মনের থেকে এসব চিন্তা ঝেড়ে ফেলে দিলাম৷ ওকে বলে দিলাম যে পরশু রাতের এক্সপিডিশনের জন্য আমি রেডি৷ বাকি কথাবার্তা নাহয় পরশু সকালেই হবে৷
ফিরে আসার সময় খেয়াল করলাম যে কোথাও একটা অস্বস্তি হচ্ছে৷ কী যেন একটা হিসেব মিলছে না৷ কাল বাদে পরশু আমার অভিযানের শেষ পর্যায়ের কাজ শুরু হবে, এবার হয় এসপার নয় ওসপার৷ এই সময় আমার উত্তেজনা আর উৎসাহের তুঙ্গে থাকার কথা, তাই না? কিন্তু তার বদলে নিজেকে এত ক্লান্ত লাগছে কেন?
মাথার ভেতর এতোলবেতোল ব্যাপারটা একটু থিতিয়ে নিতে দিলাম৷ খানিকটা ভাবার পর মনে হল এর কারণ মাধুরী নয় তো? হতেই তো পারে যে আমার অবচেতনে আমার সাফল্যের চাইতে ওর অমঙ্গলের আশঙ্কাটাই আমার কাছে বড় হয়ে উঠছে? ওর সিঁদুর পরার সময় কানের কাছে শোনা অশরীরী ডাক, ঘুমের মধ্যে দেখা ভয়ংকর স্বপ্নগুলো, সবই খুব অস্বাভাবিক লাগছিল আমার কাছে৷
মাধুরীর স্বপ্নের সঙ্গে আমার কাউরীবুড়ির মন্দিরে যাওয়ার ঘটনার এত মিল হয় কী করে?
আবার মনে পড়ে গেল সেই কাকেদের দল, গাছের ডালে ডালে তাদের নিঃশব্দে উড়ে আসা৷ শীতল খুনে দৃষ্টিতে আমার দিকে তাদের তাকিয়ে থাকা৷
অত কাক কেন? তাদের চোখ অত লাল লাল কেন?
পরাগের বাড়ি থেকে ফিরে আসার পথে নিজের অজান্তেই আবার সেই প্রশ্নটা আমার মাথায় ধাক্কা দিতে শুরু করল৷ কী হয়েছিল পাতরগোঁয়্যাদের গ্রামে? ওরা সবাই উধাও হয়ে গেল কী করে? ওখানে অত কাক কী করছিল?
আমি আমার মনস্থির করে ফেললাম৷ এ রহস্যের সমাধান আমার একার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে কুলোবে না৷
এখন যেমন এত মোবাইল ফোনের রমরমা, তখন সেরকম ছিল না৷ রাস্তার পাশের পানওয়ালাকে জিজ্ঞেস করে একটা ফোন বুথের খোঁজ পাওয়া গেল৷ সেখান থেকে শিলিগুড়িতে একটা এসটিডি কল করলাম৷
কাকার সঙ্গে আমাকে এখনই যোগাযোগ করতে হবে৷
* * * *
