৩৪ Whitehead, Village Gods, p. 115.
৩৫ Margaret Trawick Egnor. ‘The Changed Mother or what the Smallpox Goddess did when there was more small pox’, Contributions to Asian Studies, vol. 18. 1984, pp. 24-45.
৩৬ দ্বিজ নিত্যানন্দ-প্রণীত গীতছন্দে শীতলার জাগরণ পাল (কলকাতা, ১৮৭৯), পৃ. ৫৪।
৩৭ ঐ, পৃ ৫-৮, ১৪-১৫ দ্রষ্টব্য।
৩৮ Arnold, ‘Cholera’, p. 131; Hardiman, Devi, p. 25.
৩৯ মেদিনীপুরের ১৯৭৮ সালের বন্যার অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে এই বিষয়ে সুন্দর আলোচনা করেছেন। অদিতিনাথ সরকার, ‘The Scroll of the Flood’-নামক একটি এ যাবৎ অপ্রকাশিত প্রবন্ধে।
৪০ এ বিষয়ে সম্প্রতি মনোগ্রাহী আলোচনা করেছেন Peter Stallybrass ও Allan White তাঁদের বই The Politics and Poetics of Transgression (London. 1986). ‘The City: the Sewer, the Gaze and the Contaminating Touch’ শীর্ষক পরিচ্ছেদটিতে।
৪১ ঐ, পৃ. ১২৭।
৪২ গোপালচন্দ্র মজুমদার-সঙ্কলিত ও অনুবাদিত, ইংরাজি টীকাদারগণের প্রতি উপদেশ (কলকাতা, ১৮৭২), পৃ. ৭-৮ পুস্তিকাটির গোড়ায় গোপালবাবু নিজের পরিচয় দিয়েছেন ‘ইংরাজি টিকার সুপারিনটেন্ডন্ট সাহেবের আফিলের প্রধান কর্মচারী’ বলে।
৪৩ এ বিষয়ে আর্নল্ড (‘Touchin the Body’. p. 85-97) ও সুমিত সরকার মন্তব্য করেছেন যে, চিকিৎসা-বিষয়ে গান্ধীর চিন্তা আমাদের জাতীয়তাবাদী চিন্তার একটি ব্যতিক্রম। প্রণিধানযোগ্য কথা।
৪৪ দ্রষ্টবা—Arnold. ‘Touching the Body’, pp 85-6.
৪৫ ঐ।
৪৬ ভারতীয় চিকিৎসাশাস্ত্র নিয়ে লেখাজোখা প্রচুর। আমি উপকৃত হয়েছি শ্ৰীমতী অনুরাধা খান্নার সঙ্গে আলোচনায় ও তাঁর দুটি অপ্রকাশিত প্রবন্ধ পড়ে—’Health and Disease. An Interpretation from Ancient Indian Medicine’. ও Theoretical Foundations of Ancient Indian Medicine (with special reference to Charaka Samhita)’। প্রবন্ধ দুটি পড়তে ও ব্যবহার করতে দেবার জন্য আমি শ্রীমতী খান্নার কাছে কৃতজ্ঞ।
৪৭ জগদীশচন্দ্র ঘোষ সম্পা: শ্রীমদ্ভগবদগীতা (কলকাতা, ১৯৬৬), সপ্তদশ অধ্যায় দ্রষ্টব্য।
৪৮ অমৃতলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, স্বাস্থ্যবিধান (হুগলী, ১৮৮৮) পৃ. ১।
৪৯ ঐ, পৃ. ২৫।
৫০ জদুনাথ মুখোপাধ্যায়, বিষমজ্বরে কুইনাইন প্রয়োগ-প্রণালী (কলকাতা, ১৮৭৩), পৃ. ১-২।
৫১ আমার আশ্চর্য বাসগৃহ (কলকাতা, ১৯০২)। শারীরবিদ্যাবিষয়ক এই বইটি ক্রিশ্চিয়ান লিটারারি সোসাইটি-কর্তৃক প্রকাশিত হয়েছিল।
৫২ কৌতূহলী পাঠক উদাহরন হিসেবে দেখতে পারেন রাধানাথ বসাক রচিত শরীরতত্বসার (কলকাতা ১৮৬৪) ও রাধিকাপ্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের স্বাস্থ্য-রক্ষা (কলকাতা, ১৮৭০) বই দুটি। তবে এমন বই আরও আছে।
৫৩ অনেকে এদের ইংরেজ-বিরোধিতার মধ্যে শ্রেণীস্বার্থর গন্ধ পান। কথাটা এক অর্থে ঠিক, এবং বলাই বাহুল্য যে ‘আধুনিকতা’ তথা ‘প্রগতি’র প্রকোপের সামনে এঁরা ছিলেন একটি বিপন্ন শ্রেণী। কিন্তু এঁদের স্বার্থের আলোচনা বর্তমান ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক নয়। তাছাড়া, মুঘল সম্রাটের প্রতি আনুগত্যের ভিত্তিতে সিপাহিদের যে ইংরেজ-বিরোধিতা, তা যদি আমাদের জাতীয়তাবাদী ঐতিহ্যের অংশ হয়, তাহলে হাকিম-বৈদ্যদের তথাকথিত ‘রক্ষণশীল’ কিন্তু ‘পশ্চিম-বিরোধী’ মনোভাবই বা আমাদের জাতীয়তাবাদী চিন্তার অংশ হবে না কেন?
৫৪ পাঠক দেখতে পারেন, গৌরীনাথ সেন কবিরঞ্জন রচিত শারীরিক স্বাস্থ্যবিধান (কলকাতা, ১৮৬৩) পুস্তিকাটি।
৫৫ গিরীশচন্দ্র সেন কবিরত্ন, স্বাস্থ্য সহায় (কলকাতা, ১৯০৩), পৃ. ৫, ৬, দ্রষ্টব্য।
৫৬ তারিণীপ্রসাদ জ্যোতিষী, প্লেগ-সংহিতা বা আর্য-স্বাস্থ্যবিধান (কলকাতা, [১৮৯৯?]), পৃ. ৪২।
৫৭ ঐ, পৃ. ৪৭-৯।
৫৮ ঐ, পৃ. ৪০।
হিংসা, দেশান্তর ও ব্যক্তিগত কণ্ঠস্বর – বীণা দাস
১৯৪৭-এর দেশভাগ ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর যাঁরা দেশান্তরী হতে বাধ্য হয়েছিলেন, সেই সব মহিলাদের ব্যক্তিগত কিছু কাহিনী আলোচনা করব এই প্রবন্ধে। কাহিনীগুলো আমি সংগ্রহ করেছি পঞ্চাশটি শহরবাসী পঞ্জাবি পরিবারের কাছ থেকে। পরিবারগুলি একে অন্যের সঙ্গে আত্মীয়তাসূত্রে যুক্ত।
এইরকম একজন মহিলার গল্প শুনুন। গল্পটি আমি আমার আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে চাইছি। এর সঙ্গে অন্য কাহিনীগুলোর তুলনা পরে করব। মহিলার নাম ধরা যাক মনজিত। দেশভাগের সময় এঁর বয়স ছিল তেরো। লাহোর থেকে পালাবার পথে এর বাবা আর মা সাম্প্রদায়িক আক্রমণে মারা যান। গ্রামের মুসলমানেরা মনজিত আর তার দাদাকে বাঁচিয়ে স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে তুলে দেয়। পরে তারা অমৃতসরে এসে পৌঁছয়। এদের এক মামা লুধিয়ানার সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার ছিলেন। তিনি এদের আশ্রয় দেন।
মনজিতের জীবনকাহিনীর এই তথ্যগুলি আমি তাঁর কাছ থেকেই জানতে পারি। তাঁকে একদিন বলেছিলাম, ‘দেশভাগের সময় আপনার অভিজ্ঞতার কথা শুনতে চাই।’ মনজিত রাজি হয়ে যান। কিন্তু বলেন, ‘আমার বাড়িতে নয়। আপনার বাড়িতে যাব একদিন।’ যেদিন এলেন, লক্ষ করলাম মনজিতের পোশাক, চলাফেরা, কথাবার্তায় একটা সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটে গেছে। যেন কোনও অনুষ্ঠানে এসেছেন, এমনি গল্প করতে আসেননি। বসেই একটা কাগজ বের করলেন, তাতে পঞ্জাবিতে লেখা। কাগজটা আমায় দেখিয়ে বললেন, ‘ভাবলাম আমার অভিজ্ঞতাগুলো লিখেই নিয়ে আসি।’ তারপর আমার সামনে বসে মনজিত নিম্নলিখিত কাহিনীটি পড়ে শোনালেন।
