If the Soubah (Sirajuddaulla) erred before in abandoning the French, he doubly erred now, in admitting a suspicious friend…to continue in charge of a great body of troops, when self-defence would have taught him to make use of for his own preservation.
জাঁ ল’-রও অভিমত, সিরাজদ্দৌল্লা ছাড়া অন্য যে-কোনও কেউ, যার মনের জোর আছে, এ সময় মীরজাফর, রায়দুর্লভ এবং শেঠদের কারাগারে বন্দি করে রাখত। এঁদের এভাবে জব্দ করা গেলে ইংরেজরা খুব সম্ভবত আর মুর্শিদাবাদের দিকে এগুতে সাহস করত না।৮
এদিকে সিরাজদ্দৌল্লার সঙ্গে মীরজাফরের আপাত বোঝাপড়ার ফলে মীরজাফর ইংরেজদের চোখে সন্দেহের পাত্র হয়ে দাড়ান। তাই ওয়াটস লিখছেন যে মীরজাফর নবাবের সঙ্গে আবার হাত মেলাবার ফলে, যদিও তাদের মধ্যে সত্যিকারের কোনও বোঝাপড়া হয়নি, তাঁর ওপর ভরসা করা যায় কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এর পরের ঘটনাক্রম থেকে দেখা যাবে যে এ-সন্দেহ খুব অমূলক নয়।’৯ কিন্তু তার মধ্যে ইংরেজরা সিরাজদ্দৌল্লার বিরুদ্ধে অভিযান করার জন্য সব প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছে। মুর্শিদাবাদ রওনা হওয়ার আগে ক্লাইভ হুগলির ফৌজদার আমিরুল্লাকে ১২ জুন লিখলেন যে সন্ধির শর্তগুলি যাতে পালিত হয় তা দেখার জন্য ইংরেজ বাহিনী রাজধানীর দিকে অভিযান শুরু করছে।১০ চিঠি পেয়েই আমিরুল্লা ক্লাইভকে জানালেন যে ‘নবাবের সঙ্গে শেষ যখন তাঁর দেখা হয় তখনও নবাব ইংরেজদের প্রতি তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সদিচ্ছার কথা বলেছেন এবং চুক্তির শর্তাবলী পালন করতে তাঁর সম্মতির কথা জানিয়েছেন। ব্যাপারটা অত গুরুত্বপূর্ণ বলেই তাতে কিছুটা দেরি হয়তো হচ্ছে। কিছু বদলোকের প্ররোচনায় ক্লাইভের পক্ষে এরকমভাবে হঠাৎ একটা অভিযান করা নিতান্তই অনুচিত।’১১
কিন্তু ইংরেজদের পরিকল্পিত পলাশির বিপ্লব ত্বরান্বিত করতে তাদের কিছু একটা অজুহাত দেখাবার প্রয়োজন ছিল। তাই ক্লাইভ ১৩ জুন সিরাজদ্দৌল্লাকে লিখলেন যে, যেহেতু নবাব চুক্তির শর্তাবলী পালন করেননি এবং যেহেতু তিনি আগের প্রতিশ্রুতি আপনার শত্রু আমার শত্রু, আমার শত্রু আপনার’১২ না মেনে ফরাসি নৌ সেনাপতি বুসির [Bussy] সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছিলেন, সেজন্য তিনি মুর্শিদাবাদ অভিমুখে অভিযান করছেন। মুর্শিদাবাদের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে ব্যাপারটি তুলে ধরা হবে, তাদের সুবিচারের জন্য।১৩ সিরাজ কিন্তু এপ্রিলের শেষ দিক থেকে বারবার জানিয়েছেন যে আলিনগরের সন্ধির চুক্তির শর্তগুলি বরাবরই মেনে চলা হয়েছে এবং তাঁর দিক থেকে কোনও বিচ্যুতি কখনও হয়নি। তিনি ইংরেজদের এটাও বারবার পরিষ্কার করে জানিয়েছেন যে, তারা মুর্শিদাবাদ অভিমুখে অভিযান শুরু করলে তা চুক্তিভঙ্গের সামিল হবে।১৪ মুর্শিদাবাদ থেকে ওয়াটসের পালানোর পর নবাব ক্লাইভ ও ওয়াটসন দু’জনকে জানালেন যে এটা তাঁদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং চুক্তি ভাঙার উদ্দেশ্যেরই পরিচায়ক।
ক্লাইভ যখন মুর্শিদাবাদ অভিযান শুরু করেন তখনও পর্যন্ত মীরজাফরের কাছ থেকে শুধু মৌখিক প্রতিশ্রুতি ছাড়া আর কোনও চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের নিদর্শন পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে মীরজাফরের সাক্ষাৎ পরিচয়ই ছিল না। তিনি ১৯ জুন কাটোয়া দখল করলেন। সেখানে ‘নিদারুণ অস্বস্তি’র মধ্যে তাঁকে দু’দিন কাটাতে হয়। কারণ তখনও পর্যন্ত মীরজাফর বা তাঁর সঙ্গীদের কাছ থেকে কোনও খবর বা নির্দেশ কিছুই পাওয়া যায়নি। খবর যখন পৌঁছুল তখন দেখা গেল যে, ওয়াটসের মন্তব্য অনুযায়ী, তাতে সন্তোষজনক বা পরিষ্কারভাবে কিছুই বলা নেই।১৫ ফলে ক্লাইভ বেশ ভীত ও হতাশ হয়ে পড়লেন। তিনি সিলেক্ট কমিটিকে লিখলেন যে মীরজাফরের কাছ থেকে কোনও রকমের স্পষ্ট সংকেত না পেয়ে তিনি ‘খুবই উদ্বিগ্ন।’ তিনি আরও লিখলেন যে মীরজাফর ইংরেজদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা না করলেও যেভাবে তিনি সতর্কতার সঙ্গে এগুতে চাইছেন তাতে পুরো ব্যাপারটাই ভেস্তে যাবার আশঙ্কা। একইভাবে তিনি কমিটিকে জানালেন যে, তাঁর সৈন্যবাহিনী নিয়ে মীরজাফর যাতে ইংরেজদের সঙ্গে যোগ দেন তার একটা শেষ চেষ্টা তিনি করছেন। কমিটিকে এটাও জানানো হল, মীরজাফর তাঁর সঙ্গে যোগ না দিলে তিনি নদী পেরোবেন না। কোনওরকমে আট-দশ হাজার মন খাদ্যশস্য জোগাড় করতে পারলে তার সঙ্গে কাটোয়ায় যা তাদের হাতে এসেছে, সব মিলিয়ে বর্ষা পর্যন্ত ওখানে কাটিয়ে দেওয়া যাবে। তারপর প্রয়োজন হলে মারাঠারা বা বীরভূমের রাজা বা এমনকী দিল্লির উজির গাজিউদ্দিন খান কারও না কারও সঙ্গে সমঝোতা করে কার্যোদ্ধার করা যাবে। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, ক্লাইভ সিলেক্ট কমিটিকে লিখছেন যে, তাঁর ইচ্ছা খুব সতর্কতার সঙ্গে এগোনো যাতে ইংরেজ বাহিনীর কোনও বড় রকমের ক্ষতি না হয় ‘কারণ এই ফৌজ অক্ষত থাকলে আমাদের বর্তমান পরিকল্পনা সফল না হলেও ভবিষ্যতে যে-কোনও সময় বিপ্লব সংগঠিত করার শক্তি আমাদের বজায় থাকবে।’১৬
এ থেকে বোঝা যায় মীরজাফর ও তাঁর সঙ্গীরা সিরাজদ্দৌল্লাকে মসনদ থেকে হঠাতে ইংরেজদের শেষপর্যন্ত সাহায্য করতে এগিয়ে না এলেও, ইংরেজরা অন্য কারও সহায়তায় এ-কাজ সম্পন্ন করতে দ্বিধাগ্রস্ত হত না এবং সেই অন্য কেউ দরবারের বিশিষ্ট অমাত্যই যে হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা ছিল না। ইংরেজদের পরিকল্পনা অনুযায়ী যে কেউ হলেই চলত। আসলে তখনও পর্যন্ত ক্লাইভ মীরজাফর সম্বন্ধে ঠিক নিশ্চিন্ত হতে পারছিলেন না। তাই তিনি সিলেক্ট কমিটির কাছে জানতে চাইলেন যদি মীরজাফর সাহায্য করতে এগিয়ে না আসেন তা হলে কী করা যাবে।১৭ তবে বিপ্লব ঘটাতে তিনি এতই উদগ্রীব ছিলেন যে মীরজাফরের ওপর আশা পুরোপুরি ছাড়তে পারেননি এবং তাঁকে ইংরেজ ফৌজের সঙ্গে যোগ দিতে বারবার প্ররোচিত করতে লাগলেন। কাটোয়া থেকে ১৯ জুনও তিনি মীরজাফরকে লিখলেন:১৮
