১২৬. Dutch Director Huijghen’s ‘Memorie’, VOC 2763, f. 458, 20 March 1750; VOC 2732, ff. 9-10, HB 27, 24 Jan. 1750.
১২৭. Jan Kerseboom’s ‘Memorie’, VOC2849,f. 122, 14 Feb, 1755; Hill, II, p. 87.
১২৮. ইউসুফ আলি, জামিয়া-ই-তাদকিরা-ই-ইউসুফি, পৃ. ১৭।
১২৯. Huijghen’s ‘Memorie’, voc 2763,f. 467, 20 March 1750.
১৩০. BPC, Range 1, vol. 26, ff. 131vo-132vo, 3 May 1753.
১৩১. Jan Kerseboom’s ‘Memorie’, V0c2849, f. 128yo, 14 Feb. 1755.
১৩২. Tailleferr’s ‘Memoire’, VOC 2849,f. 264, 27 Oct, 1755.
১৩৩. Law’s Memoir, Hill, III, p. 187.
১৩৪. Select Committee Consults., Fulta, 22 Aug. 1756, quoted in Brijen Kr. Gupta, Sirajuddaullah, pp. 89-90.
১৩৫. Hill, II, pp. 126-27.
১৩৬. জগৎশেঠদের টাকশালে মুদ্রা তৈরির একচেটিয়া অধিকারের প্রচেষ্টা বিস্তারিতভাবে আমার বই From Prosperity to Deiline-এ আছে, পৃ. ৭৭-৭৯।
১৩৭. ক্লাইভকে ওয়াজিদ, ১০ জানুয়ারি ১৭৫৭, Home Misc, vol. 193, ff. 14-15; ওয়াজিদকে ক্লাইভ, ২১ জানুয়ারি ১৭৫৭, Home Misc., vol. 193, ff. 125-26.
১৩৮. করম আলি, মুজাফ্ফরনামা, পৃ. ৫৬, ৬৩।
১৩৯. ওয়াটসকে ক্লাইভ, ৪ আগস্ট ১৭৫৮, Orme Mss., India, X, f. li2vo.
১৪০. Law’s Memoir, Hill, III, p. 190.
১৪১. ঐ।
১৪২. Select Committee Consults., Fulta, Bengal Secret and Military Consults., 23 Nov. 1756.
১৪৩. সিলেক্ট কমিটিকে ওয়াটাস, Select Committee Consults., Orme Mss., India V, f. A210; O.V. 170, f. 215.
১৪৪. ক্লাইভকে ওয়াটস, ৩ মে ১৭৫৭, Hili, II, pp. 374-75.
১৪৫. জন পেইনকে ওরম, ৩ নভেম্বর ১৭৫৬, Orme Mss., O.V.28,f. 52.
১৪৬. ক্লাইভকে ওয়াটস, ৯-১৩ মে ১৭৫৭, Hill, II, p. 379.
১৪৭. Law’s Memoir, Hill, III, p. 190, fn.1
১৪৮. ওয়াটসকে ক্লাইভ, ৪ আগস্ট ১৭৫৮, Ore Mss., India x, f. 112vo.
১৪৯. মীরণকে ক্লাইভের চিঠি, ২৭ নভেম্বর ১৭৫৯, Clive Mss. 269, no. 982.
১৫০. Mss. Eur.G. 37, Box 22.
৮. পলাশি অভিমুখে: ইংরেজ পরিকল্পনা
পলাশির ষড়যন্ত্র পাকা হয়ে যাওয়ার পরও কিন্তু পলাশি বিপ্লবের পথ খুব সহজ বা সোজা ছিল না। ইংরেজরা অস্থির হয়ে পড়েছিল যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিপ্লব ঘটাতে। তাই সমস্ত ব্যাপারটার মধ্যে সমন্বয় করা এবং তা সংগঠিত করার দায় বর্তায় তাদের ওপরই কারণ দেশীয় ষড়যন্ত্রীদের ওপর খুব একটা ভরসা করা যাচ্ছিল না। ওয়াটস বেশ চতুর ও বিচক্ষণ বলে দেশীয় চক্রান্তকারীদের অবস্থাটা ভাল বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি লিখেছেন:১
এদের কাছ থেকে খুব বেশি আশা করা ঠিক নয়। বড় জোর যুদ্ধ বাধলে এরা নিরপেক্ষ থাকবে, তার বেশি নয়। আমরা যদি সফল হই, এরা তার ফায়দা তুলবে। আর আমরা হারলে এরা যেমন ছিল তেমনই থাকবে। আমাদের সঙ্গে যে এদের কোনও সম্পর্ক ছিল তা বুঝতেই দেবে না।
মীরজাফরের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত (৫ জুন ১৭৫৭) হওয়ার পরও কিন্তু সিলেক্ট কমিটি বিপ্লব ত্বরান্বিত করার জন্য অস্থির হয়ে পড়ে। ১১ জুন কমিটি বিস্তারিত আলোচনা করল—‘তখনই সোজা মুর্শিদাবাদ অভিমুখে অভিযান করা সমুচিত হবে, না মীরজাফরের কাছ থেকে আরও বিস্তারিত খবর এবং কার্যোদ্ধারে কী ভাবে এগুনো যাবে সে-সম্বন্ধে তাঁর কাছ থেকে খসড়া পরিকল্পনা পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা হবে।’ আলাপ-আলোচনার পর কমিটি সিদ্ধান্ত নিল যে:২
মীরজাফরকে মসনদে বসাবার যে পরিকল্পনা সেটা সফল করার জন্য এর চেয়ে সুবর্ণসুযোগ আর আসবে না কারণ আর বেশি দেরি করলেই সিরাজদ্দৌল্লা ষড়যন্ত্রের ব্যাপারটা জেনে ফেলতে পারেন। আর তা হলে নবাব তখন মীরজাফরকে কোতল করবেন এবং ফলে আমাদের পুরো পরিকল্পনাই বানচাল হয়ে যাবে। তখন আমাদের পক্ষে এদেশের সঙঘবদ্ধ শক্তির বিরুদ্ধে একাই লড়াই করা ছাড়া কোনও উপায় থাকবে না।
বস্ততপক্ষে মীরজাফরের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পরই ওয়াটস ক্লাইভ ও সিলেক্ট কমিটিকে নবাবের বিরুদ্ধে অভিযান করার জন্য পীড়াপিড়ি করতে থাকেন।৩ ১২ জুন তিনি মুর্শিদাবাদ থেকে পালাবার আগে ক্লাইভকে আবার তাড়াতাড়ি অভিযান করার জন্য অনুরোধ জানান কারণ ‘সামান্যতম দেরি হলেই আমাদের সর্বনাশ হতে পারে।’৪ এদিকে তখন একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে গেল। ৯ জুন নাগাদ৫ নবাব মীরজাফরকে বক্সির পদ থেকে বরখাস্ত করেন, ফলে নবাবের সঙ্গে মীরজাফরের সম্পর্ক অত্যন্ত খারাপ হয়ে যায় এবং এমন অবস্থার সৃষ্টি হয় যা স্ক্র্যাফ্টনের মতে, ইংরেজদের সব আশা-আকাঙক্ষার পরিসমাপ্তি ঘটাতে পারত। নিজের প্রাণনাশের ভয়ে মীরজাফর দরবারে যাওয়াই বন্ধ করে দিলেন। তিনি ক্লাইভকে লিখে পাঠালেন যে এই মুহূর্তে নবাবের বিরুদ্ধে ক্লাইভের অভিযান ছাড়া অন্য কিছু তাকে বাঁচাতে পারবে না।৬
সিরাজদ্দৌল্লা যথারীতি মীরজাফরের বিরুদ্ধে কোনও চরম ব্যবস্থা নিতে দোনামনা করতে লাগলেন। তাঁর ঘনিষ্ঠ শুভার্থীরা তাঁকে বোঝাতে চাইল যে মীরজাফরের যোগসাজশেই ইংরেজরা মুর্শিদাবাদ অভিযান করার পরিকল্পনা করছিল। তাই তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়াই উচিত। কিন্তু দরবারে মীরজাফরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ একটি গোষ্ঠী সিরাজকে আপাতত মীরজাফরের সঙ্গে একটা রফা করা ও পরে সুযোগ বুঝে তাঁকে একহাত নেওয়ার পরামর্শ দিল। ফলে দু’জনের মধ্যে একটা বোঝাপড়া হয়ে গেল। দুজনেই কোরাণ নিয়ে শপথ করলেন—সিরাজের দিক থেকে মীরজাফরের প্রাণনাশের কোনও চেষ্টা হবে না আর মীরজাফর প্রতিশ্রুতি দিলেন যে, শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত তিনি নবাবের জন্য লড়াই করে যাবেন। এর পর ‘দু’জনে হাসিমুখে পরস্পরের কাছ থেকে বিদায় নিলেন কিন্তু মনে মনে একে অপরের প্রতি অবিশ্বাস ও ঘৃণা নিয়ে গেলেন।’ এখানেই সিরাজদ্দৌল্লা মস্ত বড় ভুল করে বসলেন, মীরজাফরকে বরাবরের মতো নিস্তব্ধ না করে দিয়ে। এ প্রসঙ্গে স্ক্র্যাফ্টনের মন্তব্য বিশেষ প্রণিধানযোগ্য:৭
