According as this silk sells in Agra, so the price of silk in Kasimbazar riseth and falleth. The exchange of money from Kasimbazar to Patna and Agra riseth and falleth as the said silk findeth a vent in Patna and Agra.
মুর্শিদাবাদ-কাশিমবাজারের কাঁচা রেশমের বাজারে এশীয়/ভারতীয় ব্যবসায়ীদের এমনই দাপট ছিল যে অনেকটা তাদের কেনাকাটার ওপরেই বাজারে দাম ওঠানামা করত, ইউরোপীয়রা এ বাজারে প্রায় নীরব দর্শক হয়েই থাকত। কোম্পানির কর্মচারীদের লেখা থেকেই তাঁর প্রমাণ পাওয়া যায়। ১৭৩৩ সালে কাশিমবাজারের ইংরেজ কুঠি জানায় যে কাঁচা রেশমের দাম নির্ভর করছে বাজারের এশীয়/ভারতীয়দের চাহিদা অনুযায়ী, এটাকে নিয়ন্ত্রণ করা তাদের ক্ষমতায় কুলোবে না। এটা সম্পূর্ণ তাদের আয়ত্তের বাইরে।১৮ এর এগারো বছর পরেও (১৭৪৪) অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয়নি। কোম্পানির কাশিমবাজার কাউন্সিল কলকাতায় লিখছে যে কাঁচা রেশমের দাম অনেক বেড়ে গেছে কিন্তু এ ব্যাপারে তারা সম্পূর্ণ অসহায় কারণ কাঁচা রেশমের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা তাদের ক্ষমতার বাইরে।১৯ অবশ্য এ প্রসঙ্গে বলা প্রয়োজন যে বাজারে কাঁচা রেশমের দাম এশীয়/ভারতীয় সওদাগরদের চাহিদা ছাড়াও আরও কয়েকটি কারণে ওঠানামা করত। যেমন প্রাকৃতিক কারণ। বেশি বৃষ্টিতে বা খরার জন্য রেশমের উৎপাদন অনেকটা ব্যাহত হত এবং তাতে বাজারে কাঁচা রেশমের দামও বেড়ে যেত। তা ছাড়া মারাঠা আক্রমণের জন্যও (১৭৪২-৫১) রেশম উৎপাদন কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কোম্পানির নথিপত্রে তাঁর প্রচুর তথ্য পাওয়া যায়। তবে ঐতিহাসিকরা মারাঠা আক্রমণের নেতিবাচক ফলাফলের ওপর বড় বেশি জোর দিয়েছেন বলে মনে হয়।২০ যদিও এটা অস্বীকার করা যায় না যে মারাঠা আক্রমণ রেশমের উৎপাদনে কিছুটা বিঘ্ন ঘটিয়েছিল, কিন্তু বাংলা থেকে এ সময়কার রেশম রফতানির পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যাবে যে মারাঠা আক্রমণে রেশমশিল্প বা বাণিজ্যে খুব বেশি একটা প্রভাব পড়েনি। তাঁর সুস্পষ্ট প্রমাণ হচ্ছে প্রায় দশ বছর ধরে ক্রমাগত মারাঠা আক্রমণ অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও ১৭৫১ সালে এশীয় বণিকরা বাংলা থেকে ২৪,০০০ মণের মতো কাঁচা রেশম রফতানি করেছে।২১ মারাঠা আক্রমণের ফলে যদি রেশমশিল্প ও বাণিজ্য বিপর্যস্ত হয়ে থাকত, তা হলে এত বিশাল পরিমাণ কাঁচা রেশম রফতানি করা কোনওমতেই সম্ভব হত না।
এশীয়/ভারতীয় বণিকরা মুর্শিদাবাদ-কাশিমবাজার অঞ্চলের বিভিন্ন উৎপাদন ক্ষেত্র থেকে তাদের প্রয়োজনমতো রফতানির জন্য কাঁচা রেশম কিনত। মাঝে মাঝে অবশ্য তারা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বা পাইকারদের মাধ্যমেও রেশম সংগ্রহ করত। বলা বাহুল্য, এইসব বণিকদের অনেকেই মুর্শিদাবাদ-কাশিমবাজারে নিজেদের আস্তানা করেছিল। কিন্তু ইউরোপীয় কোম্পানিগুলি প্রধানত কাঁচা রেশম সংগ্রহের জন্য ওই অঞ্চলে নিজেদের কুঠি স্থাপন করলেও, ভাষাগত অসুবিধের জন্য তারা উৎপাদকদের কাছ থেকে বা বাজার থেকে সরাসরি রেশম কিনতে পারত না। তার জন্য স্থানীয় রেশম ব্যবসায়ীদের ওপর নির্ভর করতে হত। মুর্শিদাবাদ-কাশিমবাজারে অবশ্য এরকম সওদাগরের কোনও অভাব ছিল না। এদের মধ্যে স্থানীয় বাঙালি ব্যবসায়ী যেমন ছিল, তেমনি ছিল ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক সওদাগর ব্যবসায়ী। এরা মূলত রেশম ও রেশমিবস্ত্র ব্যবসায়েই লিপ্ত ছিল।
১৭৫৩ সালে ইংরেজ কোম্পানি কাঁচা রেশম ও রেশমিবস্ত্র সরবরাহের জন্য যে ৪২ জন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চুক্তি করে তাঁর মধ্যে অন্তত ১০ থেকে ১২ জন ছিল বাংলার বাইরের— প্রধানত গুজরাট, রাজস্থান, পাঞ্জাব এবং উত্তর ভারতের লোক। আবার স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্রাহ্মণ, বৈদ্য, কায়স্থ থেকে শুরু করে তেলি পর্যন্ত সব জাতের মানুষ ছিল।২২
কোম্পানিগুলি সাধারণত জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে রেশম সরবরাহের জন্য দাদনি বণিকদের সঙ্গে চুক্তি করে নিত কারণ এ সময়েই সবচেয়ে ভাল পাটনি বাজারে আসত। অনেক দর কষাকষির পর রেশমের দাম ও কত পরিমাণ রেশম সরবরাহ করতে হবে তা ঠিক হত। কোম্পানি তখন বণিকদের মোট দামের শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ ভাগ টাকা অগ্রিম বা দাদন বাবদ দিত। এ টাকার জন্য কোম্পানি বণিকদের কাছ থেকে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করত কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে সে চেষ্টা সফল হত না। কারণ মুর্শিদাবাদ-কাশিমবাজারের বণিকরা বেশ জোটবদ্ধই ছিল। তাদের পঞ্চায়েতের মাধ্যমে তারা প্রায়শই কোম্পানির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারত এবং কোম্পানির নির্দেশ অগ্রাহ্য করতে সমর্থ হত। এটা আমরা আগের একটি অধ্যায়ে বিশদভাবে দেখিয়েছি।২৩
তবে চুক্তির সময় কীরকম দামে বণিকরা রেশম সরবরাহ করবে তা ঠিক হয়ে গেলেও মাঝে মধ্যে তারা দাম নিয়ে কোম্পানির সঙ্গে বাক্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ত। সমসাময়িক নথিপত্র থেকে একটি ঘটনার উল্লেখ করলেই ব্যাপারটা পরিষ্কার বোঝা যাবে। ১৭৪৫ সালের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি ইংরেজ কোম্পানির দাদনি বণিকেরা একটি নির্দিষ্ট হারে রেশম সরবরাহ করবে বলে চুক্তি করে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে তারা কোম্পানিকে জানিয়ে দেয় যে রেশমের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের পক্ষে পূর্বনির্ধারিত দামে রেশম সরবরাহ করা কোনও মতেই সম্ভব হবে না, রেশমের দাম বাড়াতেই হবে। কাশিমবাজার কাউন্সিল বণিকগোষ্ঠীর (‘assembly of merchants’) সঙ্গে বৈঠক করে তাদের বাগে আনার বিফল চেষ্টা করল। বৈঠকের পর কাউন্সিল যা লিখেছে তা থেকে মুর্শিদাবাদ-কাশিমবাজার অঞ্চলের রেশম বাণিজ্য সম্বন্ধে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা যায়। কাউন্সিল বলছে:২৪
