পিটার স্নক সন্ধ্যার কিছু আগে দোকানে ফিরে এলো। কর্মচারীকে নিয়ে ব্যস্ত হাতে দোকানের যাবতীয় জিনিসপত্র বাঁধাছাদা সেরে ফেলল। অত্যাশ্চর্য তৎপরতার সঙ্গেই সে কাজটা সারল।
পরদিন কাকডাকা ভোরে কর্মচারীকে নিয়ে যাবতীয় মালপত্তর গাড়িতে তুলে ফেলল। গাড়ি উল্কার বেগে ছুটে চলল, জাহাজ ঘাটার দিকে। একই রকম তৎপরতার সঙ্গে মালপত্রের বস্তাগুলোকে জাহাজে তুলে নিল। ব্যস, কর্মচারীকে সঙ্গে করে সে শহর ছেড়ে চম্পট দেওয়ার ব্যবস্থা সেরে ফেলল। এখন জাহাজ ছাড়তে যা দেরি।
তারপরই পাওনাদাররা বিল হাতে করে ৮ি টার স্নকের দোকানের দরজায় হাজির হলো। সবাই দেখল, দোকান বন্ধ। জানতে পারল সে গাট্টিবোঁচকা নিয়ে জাহাজঘাটার দিকে গেছে।
পাওনাদাররা মুহূর্তমাত্র সময় নষ্ট না করে উধ্বশ্বাসে ছুটল জাহাজঘাটার দিকে। জাহাজ তখনও নোঙর তোলেনি। জাহাজে উঠে তারা পিটার স্নককে ধরে ফেলল।
পাওনাদারদের সঙ্গে একজন উকিলও জাহাজে উপস্থিত হয়েছে। উকিল দেখে তো পিটার স্নকের পিলে চমকে গেল।
সে জাহাজের খোলে ভেতরে পিটার সকের কর্মচারী আর গাট্টাগোট্টা চেহারার তিনটি লোককে। সবারই হাত-পা বাঁধা। পিঠমোড়া করে বাঁধা অবস্থায় খোলে মেঝেতে পড়ে তারা অনবরত গোঙাচ্ছে।
এ কী আজব ব্যাপার! পিটার স্নকের মাথা খারাপ হয়ে গেল নাকি! ব্যর্থ প্রেমে তার কি মাথার দোষ দেখা দিয়েছে?
পাগল? না, পিটার স্নকের কথাবার্তা শুনে তো মনে হচ্ছে না তার মাথার দোষ দেখা দিয়েছে। ঠাণ্ডা মাথায় অমায়িকভাবেই কথা বলছে।
তবে? ব্যাপার কি? সাধু-সজ্জন ব্যবসায়ী পিটার স্নক এমন ধাপ্পাবাজি কারবারে মাতল কেন? কেন হঠাৎ এমন জাল-জোচ্চুরির পথ বেছে নিল? এমন আচরণ তো
ভুলেও কেউ তার কাছ থেকে আশা করেনি।
সত্যি পিটার স্নকের কথায় পাওনাদাররা যেন রীতিমত স্তম্ভিত হয়ে গেল–আকাশ থেকে পড়ল।
পিটার স্নক গলা ছেড়ে চিল্লাচিল্লি শুরু করে দিল–উকিল? আরে ধ্যুৎ! আইন আমার কেশাগ্রও স্পর্শ করতে পারবে না।
তবে তার কথা যদি সত্যি হয় তবে আইন তার ধারে কাছেও ঘেঁষতে পারবে না।
কিন্তু কথাটা কী? কী বলছে পিটার স্নক?
পিটার স্নকের বক্তব্য শুনতে হলে আমাদের ফিরে যেতে হবে, তাকে মদ খাইয়ে জাহাজ থেকে সমুদ্রে ফেলে দেওয়ার ঘটনায়।
সমুদ্রে পড়ে হাবুডুবু খেতে খেতে সে বুঝতে পেরেছিল, তার বগলে দাঁড় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
ব্যাপারটা বুঝতে পেরেই সে দুহাতে দাঁড়টাকে চেপে ধরল। এবার টানাটানি করে তাকে একটা নৌকার ওপর তুলে নেওয়া হলো। তারপর নৌকাটা তাকে নিয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে গিয়ে একটা জাহাজের গায়ে ভিড়ল। তাকে জাহাজে উঠিয়ে নেওয়া হলো।
জাহাজের ক্যাপ্টেন বড় ভালো মানুষ। অমায়িক ব্যবহার। তারই মতো বেটেখাট চেহারা। ক্যাপ্টেন তাকে একটা কেবিনে নিয়ে গিয়ে থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন। খাবার দাবারের ব্যবস্থাও করে দিলেন।
কাপ্টেনের কাছ থেকে সহৃদয় আচরণ পেয়ে পিটার স্নক যারপরনাই খুশি হলো। আনন্দের চোটে ক্যাপ্টেনের কাছে তার দুঃখের কথা সবই বলে ফেলল। তারপর ক্লান্তিতে চোখ জড়িয়ে আসায়, এক সময় গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল।
যখন ঘুম ভাঙল তখন চোখ মেলে তাকিয়েই চমকে উঠল। দেখল, তার উকিল আর পাওনাদারের দল দাঁড়িয়ে রয়েছে। এখন কি করে বলা যায়, সে দোষী?
তার কথাবার্তা শুনে উকিল সাহেবের তো চোখ দুটো কপালে ওঠার যোগাড়।
তবে আসল ব্যাপারটা কী? তবে কি তাকে কেবিনে ঘুম পাড়িয়ে রেখে তারই পোশাক পরে, ভোর রাতে অন্ধকারে সহকারীর চোখে ধূলো দিয়ে কোনো এক বড়সড় জোচ্চোর প্রবঞ্চণা করে বেরিয়েছে? কারণ, জাহাজের ক্যাপ্টেন বলে যে লোকটা নিজের পরিচয় দিয়েছে, সে-ও তো তারই মতো বেটেখাট।
পিটার স্লকের গল্প এখানেই শেষ। মূল কাহিনীতে এর বিশদ বর্ণনা দেওয়া রয়েছে। তবে যেখানে যা বলা দরকার, যাতে গল্পটা সুখপাঠ্য হয় সে দিকে দৃষ্টি রেখেই লেখক ঘটনার বিন্যাস করেছেন, সন্দেহ নেই। সত্যি বলছি মূল গল্পটা যে বা যিনি পড়বেন। তাকে আদ্যোপান্ত রুদ্ধ নিশ্বাসে পড়ে তবেই বইটা হাত থেকে নামাতে হবে। শুধু কি এ-ই? পড়া শেষ করার পরও পাঠককে গালে হাত দিয়ে বসে অন্তত আধঘণ্টা কাহিনীটা সম্বন্ধে ভাবতে হয়।
রিভিউ অব স্টিফেন্স অ্যারেবিয়া ট্রো
বাইবেল!
পবিত্র ধর্মগ্রন্থ বাইবেল!
বাইবেল সম্বন্ধে ধারণা দান করার ইচ্ছা নিয়ে দুখণ্ডে প্রকাশিত এ-বইটা সত্যি অতুলনীয়। ঠিক এমন প্রাঞ্জল ভাষায় লেখা দ্বিতীয় আর একটি বই আমার অন্তত নজরে পড়েনি।
আসলে এমন সহজ-সরল ভাষায় মনের ভাব সুন্দরভাবে ব্যক্ত করার ফলে বইটার গুণ অনেকাংশে বেড়ে গেছে। আর এরই ফলে বইটা একবার পড়তে আরম্ভ করলে চোখের সামনে থেকে কিছুতেই সরানো সম্ভব হয় না। শেষপাতা পর্যন্ত পড়ে তবেই স্বস্তি।
সম্পতিকালে প্রাচ্য দেশে বাইবেলের ঘটনাবলির নানারকম ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। পুস্তিকারে ছেপে প্রকাশও করা হচ্ছে। আর এরই জন্য বাইবেলের পাতায় যেমন ভৌগোলিক বিবরণের উল্লেখ রয়েছে, বর্তমানেও তার মিল লক্ষিত হচ্ছে।
এ সম্বন্ধেই দু-একটা বিষয় নিয়ে দু-চার কথা বলা যাক। বর্তমানকালের আলেকজান্দ্রিয়া শহরের কথা আলোচনা করা যাক। গতবছর সে শহরে প্লেগ মহামারীরূপে দেখা দিয়েছিল। ভয়ানক এ ছোঁয়াচে রোগের কবলে পড়ে শহরটাকে একেবারে শ্মশানে পরিণত হয়েছিল। দলে-দলে কাতারে কাতারেমানুষ যারা নিষ্ঠুর মৃত্যুর হাত থেকে অব্যাহতি পেয়ে গিয়েছিল, তারা পিতৃদত্ত প্রাণটাকে নিয়ে কোনোরকমে পালিয়ে বেঁচেছে।
