আসবাবপত্র দিয়ে সাজানোর জন্য ঘরটা খুবই উপযুক্ত বটে। ঘরটার একদিকে একটা সুদৃশ্য দরজা, অস্বাভাবিক বড় নয়। আর অন্যদিকে বড়-বড় দুটো জানালা। ফলে ঘরটায় প্রচুর আলো-বাতাস নিয়মিত খেলতে পারে। মেঝে থেকে কিছুটা ওপরে জানালা দুটো অবস্থিত হওয়ায়, পরিবেশটা রীতিমত খোলামেলা হয়েছে।
জানালার পরই সুদৃশ্য ইতালিয়ান বারান্দাটা যে কোনো সৌন্দৰ্য-পিপাসুর মনকে আকর্ষণ করবেই করবে।
পুরু রোজউডের জানালার ফ্রেমের সঙ্গে হালকা লাল রঙের কাঁচ বসানো। কাঠের ফ্রেম লালচে কাঁচের সঙ্গে মিলিয়ে রূপালি সুতায় বোনা পার্টি ঘিরে রেখেছে। তারই মাঝখানে সিল্কের টকটকে লাল পর্দা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
দেওয়ালের যেখানে কড়িকাঠ আটকানো রয়েছে, সেখান থেকে ঘরের মেঝে পর্যন্ত ওই সিল্কের পর্দাটা ঝুলছে। আর একপাশে একটা দড়ি ঝুলতে দেখা যাচ্ছে যেটা টানলে পর্দাটা সুরসুর করে ওপরে উঠে যাবে।
আর পর্দার সোনালি আর রূপালি রঙ ঘরের সর্বত্র বিন্দু-বিন্দু ছিটিয়ে রয়েছে। এর মধ্যদিয়েই ঘরটার চরিত্র সম্বন্ধে সম্যক ধারণা করে নেওয়া সম্ভব হয়।
জানালার গায়ের ঝুলন্ত সোনালি দড়ি গাঢ় রক্তবর্ণের কার্পেটকে ঘিরে রেখেছে। এরকম সোনালি দড়িই আড়াআড়িভাবে পুরো কার্পেটটা জুড়ে রয়েছে আর তা এঁকেবেঁকে অবস্থান করার ফলে এমন দৃষ্টিভ্রম সৃষ্টি করেছে, যেন মনে হচ্ছে, মেঝে থেকে কার্পেটটা ঠেলে উপরের দিকে উঠে গেছে। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, কার্পেটটা কিছুতেই আধ ইঞ্চির বেশি পুরু নয়।
আরও আছে। চার-চারটি দেওয়ালই রূপালি-ধুসর রঙের চকচকে কাগজ দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়েছে আর কাগজের গায়ে রক্তাভ বিন্দুর বিচিত্র সমাবেশ ঘটেছে যা ঘরের পরিবেশটাকে যারপরনাই মনোলোভা করে তুলেছে। আর কাগজের ওপর এমন বহু চিত্র আঁকা রয়েছে, যাদের অধিকাংশই প্রাকৃতিক দৃশ্য।
আরও আছে, দেওয়ালের কাগজের গায়ে সুদক্ষ শিল্পীর তুলির টানে আঁকা পরীর মতোই সুন্দরী জনা চারেক মহিলার মুখের ছবি। এমন সুন্দর মুখ যে কোনো মানুষের হতে পাওে, তা যেন কল্পনাতীত ব্যাপার। প্রতিটা ছবিই উষ্ণতার স্বাক্ষর বহন করছে। কিন্তু আদৌ তরল নয়। জমকালো নয়, আবার মাপেও অবশ্যই ছোট নয়।
ফ্রেম খুবই চওড়া। গায়ে দক্ষশিল্পীর হাতে সূক্ষ নক্সা করা যা ফ্রেমের কদর অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। তার ওপর সোনালি বার্নিশে পুরোটা ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
ঝুলন্ত দড়িতে কোনো ছবি বেঁধে রাখা হয়নি। গোটা কয়েক ছবি দেওয়ালের গায়ে সেঁটে দেওয়া হয়েছে।
তবে এটা অস্বীকার করা যাবে না, দড়িতে ঝুলিয়ে দিলে ছবিটা ভালোভাবে দৃষ্টিগোচর হলো। কিন্তু এতে ঘরের পুরো চেহারা তাতে কিছুটা বদলে যেত, সৌন্দর্য বিঘ্নিত হতো সন্দেহ নেই।
একটামাত্র আয়নাই দেখা যাচ্ছে। তা-ও আবার তেমন বড়সড় নয়। আর প্রায় গোলাকার, কেবলমাত্র এ-আয়নাটাকেই এমনভাবে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, যাতে ঘরের। অন্য সব বসার আসনে বসলে আয়নার গায়ে নিজের প্রতিবিম্ব পড়বে না।
যে বসার আসনের কথা বলা হচ্ছে তা হচ্ছে, দুটোমাত্রনিচু সোফা। রোজউড দিয়ে তৈরি। আর তাতে লাল সিল্ক ও সোনালি ফুল ব্যবহার করা হয়েছে।
সোফা দুটো ছাড়া দুটো রোজউডের চেয়ারও রয়েছে। একটা আটকোণা টেবিলও আছে বটে। কিন্তু ঢাকনাবিহীন। একটা সোফার কাছে এটা রক্ষিত আছে।
রোজউডের তৈরি একটা ডালা-খোলা অবস্থায় ঘরে এক পাশে রাখা আছে।
ঘরের কোণগুলো সামান্য গোল। প্রত্যেকটা কোণে একটা করে ফুলদানি আর সেগুলো টাটকা ফুলের তোড়া দিয়ে দৃষ্টিনন্দন করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
ঘুমন্ত বন্ধুর শিয়রে একটা বাতিদানে সুগন্ধি তেলের প্রদীপ জ্বলছে।
আর দেওয়ালের গায়ে দেখা যাচ্ছে, ঝুলন্ত তাক। তাতে সুদৃশ্য কিছু বই সাজিয়ে রাখা আছে। সবগুলোই সুন্দর করে বাঁধানো।
গাঢ় লাল আর সোনালি রঙের দড়ি প্রতিটা তাককে ঘিরে রেখেছে।
এতক্ষণ যে সব আসবাবপত্রের বিবরণ দেওয়া হলো সেগুলো ছাড়া ঘরে আর কোনো আসবাবপত্র নেই। তবে একটা ঘষাকাঁচের রক্তবর্ণের শেড অবশ্য রয়েছে।
খিলানের আকৃতিবিশিষ্ট সিলিং থেকে একটামাত্র ঝুলন্ত সরু সোনার কেলের গায়ে এ-বাতিটাকে বেঁধে রাখা হয়েছে।
বাতিটা থেকে সব মিলিয়ে স্নিগ্ধ যাদুর বাতির মতো ঘরময় আলোকচ্ছটা ছড়িয়ে পড়ে ঘরে এক মনোরম দৃশ্যের সঞ্চার করেছে।
ফোর বিস্টস্ ইন ওয়ান দ্য হোম–কেমলোপার্ড
সবার বিশ্বাস, এলিয়োকাস এপিথোশিসকে মহাত্মা এজেকি ল-এর দাগ। তবে আসলে কিন্তু এ সম্মান পাওয়ার প্রকৃত যোগ্য ক্যাম্বিসেস–মাইরাস-এর মহানপুত্র।
সত্যি কথা বলতে কি, সিরিয়ার রাজার কিন্তু এ রকম কোনো সম্মানের প্রতি আদৌ তিলমাত্র লিপ্সাও নেই।
যীশুখ্রিস্টের আবির্ভাবের একাত্তর বছর আগে তিনি যেভাবে সিংহাসনে বসেন, বা রাজত্ব হস্তগত করেন, ইসোসের ডায়ানার মন্দির লুণ্ঠন করে ধন-সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য উদ্যোগী হন, পরমতম পবিত্রকে অপবিত্র করার জন্য প্রয়াসী হন, ইহুদি জাতির ওপর নির্মম-নিষ্ঠুরতার মধ্য দিয়ে শত্রুতাচারণ করেন আর এগোরো বছর হরেক রকম প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে রাজ্য শাসনের পর তাবাতে তার মর্মান্তিক ‘মৃত্যুবরণ’–এসবই বড়বড় ঘটনার পর্যায়ে পড়ে।
