Cornwallis Street Murder case. — On the 28th February at 06.30 A.M. Sub-Inspector Suresh Chandra Mukherjee of the Special Branch was shot dead his orderly was severely wounded in Cornwallis Street by three Bengali youths, Chittapriya Roy Chaudhury, Narendra Das and Manoranjan Sen. The Sub-Inspector had just arrested the first–named who was being sought for. All the accused absconded after the commission of the crime and were not traced until November when they were captured by the Balasore Police.
.
বিচারপর্ব শুরু হল গার্ডেনরিচ এবং বেলেঘাটার ঘটনায় ধৃতদের। নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্ত হয়ে ফেরার হয়ে গেলেন। নাগাল পেল না লালবাজার। ফকিরচাঁদ মিত্র স্ট্রিট থেকে ধৃত চারজনের বিরুদ্ধে প্রথমে অস্ত্র আইনে মামলা করেছিল পুলিশ। প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে যাঁদের দু’জনকে গার্ডেনরিচ ডাকাতির মামলায়ও জড়িয়ে দেওয়া হল। যাঁরা আদতে অংশই নেননি ওই ডাকাতিতে। পতিতপাবন ঘোষ এবং রাধাচরণ প্রামাণিক।
অস্ত্র আইনের মামলায় জামিনে মুক্ত ছিলেন পতিতপাবন। ডাকাতির মামলায় ফের গ্রেফতার হলেন। যে গ্রেফতারি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াল বাঘা যতীন সহ নেতৃস্থানীয়দের। পতিতপাবন ছিলেন অত্যন্ত সক্রিয় বিপ্লবী। ভবিষ্যতের সশস্ত্র অভিযানগুলিতে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার কথা। তাঁর কারাবাস পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটাবে। পতিতপাবনের মুক্ত থাকা একান্ত জরুরি। এখন উপায়?
উপায় বাতলালেন বিবাদী পক্ষের আইনজীবী। যিনি বাদী পক্ষের আইনজীবীদের সঙ্গে দফায় দফায় আপস-আলোচনার পর জানালেন, পতিতপাবনের মুক্তির উপায় একটিই। অন্য অভিযুক্ত, অর্থাৎ রাধাচরণ, যদি ডাকাতির ঘটনায় আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন, তবেই মামলা থেকে পতিতপাবন অব্যাহতি পেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে অবশ্য রাধাচরণের দণ্ডাদেশের মেয়াদ দু’ বছর (অস্ত্র আইনে দোষীদের সাজার মেয়াদ) থেকে বেড়ে দাঁড়াবে সাত বছরের সশ্রম কারাবাসে।
দেশমুক্তির ব্রতে উদ্বুদ্ধ বিপ্লবীরা আর কবে শাস্তির লঘু-গুরুর তোয়াক্কা করেছেন? রাধাচরণ সানন্দে রাজি হলেন দোষ কবুল করতে, দণ্ডিত হলেন সাত বছরের হাজতবাসে। পতিতপাবন মুক্তি পেলেন।
রাধাচরণ প্রামাণিকের (১৮৮৫-১৯১৭) জন্ম মাদারীপুরে (ফরিদপুর)। ছাত্রাবস্থায়, ১৯১১ সালে, বিপ্লবী পূর্ণচন্দ্র দাসের (যাঁর নামে দক্ষিণ কলকাতার পূর্ণদাস রোড) প্রেরণায় স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগদান এবং ক্রমে বাঘা যতীনের ‘যুগান্তর’ গোষ্ঠীর একনিষ্ঠ সদস্য হয়ে ওঠা।
রাধাচরণ অসুস্থ হয়ে পড়লেন কারাবাসের দ্বিতীয় বছরে। চোখ আক্রান্ত হল সংক্রমণে, দৃষ্টিশক্তি ক্ষীয়মাণ হতে শুরু করল।
জেল কর্তৃপক্ষের কাছে দণ্ডিতের প্রাপ্য চিকিৎসার আবেদন করলেন রাধাচরণ। এবং ইংরেজ জেলর প্রাথমিক মৌখিক প্রতিক্রিয়ায় সটান প্রত্যাখ্যান করলেন আর্জি। মন্তব্যে ঝরে পড়ল চূড়ান্ত তাচ্ছিল্য আর অবজ্ঞা, ‘কীসের চিকিৎসা? অমন খুনে ডাকাতের অন্ধ হয়ে যাওয়াই ভাল।’ সেই মুহূর্তেই রাধাচরণ সিদ্ধান্ত নিলেন, দণ্ডাদেশ পালনকালে জেল কর্তৃপক্ষের থেকে কোনও অবস্থাতেই কোনওরকম চিকিৎসা গ্রহণ করবেন না।
চোখের অবস্থার ক্রমাবনতি তো ঘটলই, সপ্তাহকয়েক পর গুরুতর পেটের অসুখে আক্রান্ত হলেন রাধাচরণ। কিন্তু অটুট থাকলেন ধনুর্ভাঙা পণে, বন্ধুবান্ধব-আত্মীয়পরিজনদের শত উপরোধেও রাজি হলেন না জেল হাসপাতালের চিকিৎসা গ্রহণে। শারীরিক অবস্থা যখন ক্রমে আরও সংকটজনক রাধাচরণের, টনক নড়ল জেল কর্তৃপক্ষের। একরকম চক্ষুলজ্জার খাতিরেই অনুরোধ করলেন ওষুধবিষুধ খেতে। কর্ণপাত করলেন না বত্রিশ বছরের তরুণ বিপ্লবী। উপরন্তু স্বেচ্ছায় চিকিৎসা-প্রত্যাখ্যানের মুচলেকা লিখে দিলেন। আসলে মুচলেকা নয়, নিজের মৃত্যু-পরোয়ানাই।
—দয়ার দান নেওয়ার থেকে মৃত্যু ভাল। দাক্ষিণ্য চাই না ওদের। এটাও তো লড়াই।
লড়াই-ই, তবে দ্বিমুখী। একটি ব্যাধির বিরুদ্ধে, অন্যটি মর্যাদারক্ষার। প্রথমটিতে রাধাচরণ পরাভূত হয়েছিলেন অনিবার্য, দ্বিতীয়টিতে শহিদোচিত জয়লাভ।
এমন কত যে লড়াই, কত যে ত্যাগ, অজানা-অচেনাদের নিঃস্বার্থ আত্মবলিদানের কত যে অশ্রুত-অকথিত-অপঠিত আখ্যান অগ্নিযুগের বঙ্গদেশে।
লেখা আছে অশ্রুজলে।
০৬. গোললাইন সেভ!
এ কাহিনির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ নেই অগ্নিযুগের বিপ্লবীদের, সম্পর্ক নেই লালবাজারের সঙ্গে সম্মুখসমরের। তবু এই আখ্যানের অন্তর্ভুক্তির কারণ, এমন একজন এই অশ্রুত-অকথিত কাহিনির কেন্দ্রে, ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে যাঁর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাব অনস্বীকার্য। সে বঙ্গভঙ্গের তীব্র বিরোধিতায় সোচ্চার হওয়াতেই হোক, বা জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নাইটহুড উপাধি ত্যাগে, অথবা স্বাধীনতা আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে মনস্বী দিকনির্দেশে। রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং। যাঁর লালবাজারে আগমনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল একবার। প্রেক্ষিত ভিন্ন, কিন্তু সময়কাল অগ্নিযুগেরই।
.
সদাপ্রশান্ত মুখমণ্ডলে আজ যেন একটু বিষণ্ণতার প্রলেপ। অন্যদিন প্রসন্ন মেজাজে ঠাট্টা-রসিকতা করেন, আজ মানুষটি কিঞ্চিৎ নিষ্প্রভ যেন। চিন্তিত হয়ে পড়েন বাকিরা। কী হল? অসুস্থ? নাকি অন্য কারণ কোনও?
