নাউ হি ইজ এ রাইটার? নট এ টেররিস্ট, ইউ মীন?
বাট টু লিসন টু হিজ রাইটিংস নো লেস এ টেরর সার! আই ডোন্ট লাইক ইট, বাট–কী করতে পারি বলুন! সে নাছোড়বান্দা। শুনতেই হবে আমায় বাধ্য হয়ে। না শুনিয়ে ছাড়বে না।
তুমি কী করো? আর ইউ এ রাইটার টু? এ নভেলিস্ট?
নো, নো। আই অ্যাম এ জার্নালিস্ট। আই হক দা পেপারস্ ইন দা মর্নিং।
ওঃ! দ্যাট জার্নালিস্ট দ্যাট ইউ হক দা জার্নালস?
নো সার। নাহক নয়। আই অলসো রাইট ইন দেম। স্টোরি অ্যান্ড পোয়েম। ইন সাম অফ দেম।
চলো, তোমাদের বাসাটা আমি সার্চ করব। হ্যাঁজ দ্যাট ম্যান লেফট এনিথিং হিয়ার ইন, ইওর রুম?
পারহ্যাপস্ নট। আসুন! ইউ আর ওয়েলকাম। অলওয়েজ ওয়েলকাম।
পুলিস আর প্রেমিককে অভ্যর্থনা না করে উপায় নেই–মিথ্যে বললেও দোষ নেই কোন যদি তাঁদের সন্তোষ হয়। যতই আনওয়েলকাম হোক না, তাদের কাম্য আচরণ করাটাই দস্তুর।
বাসার সব ঘর ঘরগুলোই তাঁরা ঘুরেফিরে দেখলেন। অন্য ঘরগুলো ওপর ওপর, আমারটা তন্ন তন্ন করে। ছাদটাও বাদ গেল না।
কোথাও আপত্তিকর কোনো কিছু না পেয়ে চলে গেলেন ভদ্রলোকেরা।
যাবার আগে টেগার্ট সাহেবকে আমি জানিয়েছিলাম, আমার কিছু ধন্যবাদ তাঁর পাওনা আছে। দিনকতক আগে আমার ফাউন্টেনপেনটা খোয়া গিয়েছিল, অ্যান্ড বিকজ আয্যাম এ রাইটার, আমার কলম গেলেই খোয়র। আমি হাতে খোঁড়া। কিন্তু হারাবার দু-একদিন পরেই একজন–এই পাড়ারই কোনো পিকপকেট হবে, আমি চিনি না, খুব বিরক্তিভরে অযাচিত কলমটা ফিরিয়ে দিয়ে গেছেন আমায়। থানায় ডায়েরি করেছি নাকি, সে শুধিয়েছিল আমাকে। পাগল! থানায় খবর দিলে কী হয় আমার জানা আছে ভাই! যে জানাতে যায় তাকেই তারা নাজেহাল করে ছাড়ে। অমন কথা বোলো নাকো–থানার ত্রিসীমানায় আমারা নেই। আমার জবাবে খুশি হয়ে সে বলেছে–উয়োবাত তো ঠিক হ্যায়। শালা টেগার্টের জ্বালায় না খেয়ে মরতে হবে আমাদের, কারো পকেট মারবার যো নেই দেখুন না। রাস্তায় এক টাকার নোট পড়ে থাকলেও কেউ তা কুড়োতে পারবে নাক বলেছে নাকি শালাটা। তাহলে সে তাকে দেখে নেবে। দেখুন তো! কী মুশকিল। কী রকম হারামি!
শুনে টেগার্ট হাসতে লাগলেন–তুমি দেখেছ এরকম পড়ে থাকতে?
নোট? এক টাকার নোট রাস্তায় পড়ে থাকতে? না সার, কক্ষনো দেখিনি। দেখলে তো আমি নিজেই তা কুড়িয়ে নিতাম তৎক্ষণাৎ। না, টাকা পয়সা আমি কখনো পড়ে থাকতে দেখি না। তেমনটা এ পোড়া চোখেই পড়ে না আমার। আমার বরাত! শুনে না টেগার্ট সাহেব আমার করমর্দন করে হাসতে হাসতে চলে গেলেন।
কী হোলো তার পরে? জনাব সাহেব জিগ্যেস করলেন।
কী আর হবে। পাড়ায় আমার বেশ পজিশন হয়ে গেল তারপর। বড়রা সবাই ভাবতে লাগল আমায় পুলিসের স্পাই বলে, আর ছোটরা মনে করল, আমি বুঝি বিপ্লবী। দুই মহলেই আমার মর্যাদা বেড়ে গেল বেজায়। আর সবাই বেশ সমীহ করে আমার স্পর্শদোষ বাঁচিয়ে চলতে লাগল। ছায়া মাড়াত না কেউ। নির্বাাট ছিলাম পাড়ায় তারপর। সাধনবাবুর সন্দেশের দোকানে ধারেও রাবড়ি পেতাম আমি তখন থেকে–চাইলেই না!
বাঃ বাঃ! আপনার বরাতে মধুরেণ সমাপয়েৎ হয়ে গেল ব্যাপারটা। বেশ বেশ! তিনি বললেন-পুলিসে ছুঁলে আঠারো ঘা হয়ে থাকে, সেই বিপাকে আপনার হলো মিষ্টান্ন লাভ! এই অসাধ্যসাধন!
ইতরজন বলেই বোধহয়! সাধনা না করতেই এই সিদ্ধিলাভ। সাধুনবাবুর মেঠাই-মন্ডা পাওয়া! সেদিনকার প্রাতঃকালীন দৃশ্য দেখতে পাড়ায় বেশ ভিড় জমে গেছল তোদূরে অদূরে দাঁড়িয়ে দেখছিল সবাই, সম্ভবত সাধনবাবুও সেই উপরিদর্শকদের দলে থাকবেন। খোদ পুলিস কমিশনারের সঙ্গে আমার খাতির দেখে তিনি আমায় হাত করতে চেয়েছিলেন হয়ত, সেইটে খতিয়ে আমিও তাঁর রাবড়ি হাতাতে লাগলাম।
সেই সুমধুর হাতাহাতিটা কদ্দিন গড়িয়েছিল? কবছর পর্যন্ত?
এখন অব্দি। এখন অবশ্যি সাধনবাবু জীবিত নেই আর, বহুদিন স্বর্গত, এখন তাঁর ছেলে শৈলেনের দোকান। তাহলেও সেখান থেকে ধারে কিছু নিলে তারা পরে চেয়ে নিতে ভুলে যায় দেখছি, সেটা ইচ্ছে করেই মনে হয়।
সব পেয়েছি-র দলে না হলেও সব পাওয়ার মেসে আপনি এসে পড়েছেন দেখছি। কিন্তু যাই বলুন, ঠিক গা ঢাকাটি দিয়ে থাকা যায় না ওখানে। পুলিসে ঠিক খবরটিও পায়, আর ঠিকানারও পাত্তা পায় ঠিকই। কেমন খুঁজে পেল দেখলেন তো?
তা ঠিক। পুলিসের সঙ্গে আড়ি করে ফেরারী হওয়া যায় না সত্যি। পুলিস ঠিক পিঁপড়ের মতই। কোথায় ওদের খাদ্য আছে, টের পেয়ে যায় যে কেমন করে-খুঁজে বের করে হানা দেয় শেষ পর্যন্ত। ঐ পুলিস আর পিঁপড়েরা।
পিঁপড়েরাও!
হ্যাঁ। দেশের থেকে একবার শখানেকের ওপর আম পাঠিয়েছিল যেন কে! এককালে আমাদের দেশ ছিল সেই মালদায় জানেন তো? ওখানে গিয়ে একবার ঘুরে ফিরে এসেছিলেন না আপনি? তাহলে সেখানকার আম খাওয়ার বিধি-ব্যবস্থা কী রকম তাও জানেন নিশ্চয়। আমের নামেই সেটা মালুম হবে। গোপালভোগ, বাদশাভোেগ, ক্ষীরসাপাতি এইসব আম। আমের নাম! বুঝতেই পারছেন, এহে আম গোপালকে নিবেদন করে পাতক্ষীরের গামলায় ডুবিয়ে বাদশার মত আয়েস করে খেতে হয়। কিন্তু এই একশ আম, আমি একাই একশ হলেও একা একা খাই কি করে–খেয়ে ফুরোবার আগেই বেশির ভাগ এর তো পচে গলে একশা হয়ে যাবে…
