গো-ও-ল গো-ও-ল বলে চেঁচাচ্ছিলাম নাকি? সে হাসে।
চেঁচালে তো রক্ষে ছিল। শুধু কি চেঁচানি! তোমার পাসের ধাক্কায় আমার প্রাণ যা যায়! এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছিল। এমন শট ঝাড়ছিলে মাঝে মাঝে যে তেতালার থে পড়ি মরি আর কি! শেষটায় যখন গোল বাঁধালে না, তখন কোনো-রকমে অধঃপতনে হাত থেকে সামলেছি। সেই তেলার তাক থেকে বেতালায় পড়লে হাড়গোড় ভাঙা + হয়ে যেতাম।
জাগিয়ে দিলে না কেন আমায়?
হ্যাঁ, জাগিয়ে দিই আর তুমি ঘুম ভেঙে উঠে মার লাগাও আমায়।
কেন, মারবো কেন? মারতে যাবো কিসের জন্যে?
ঠিক শট করার মুখটাতেই গোলটা তোমার আটকে দিলুম বলে? অমনটা হলে রাগ হল না তখন? আমি কি জানিনে! গোলে শুট করতে যাচ্ছে এমন সময় রেকারি অ সাই হাঁকলে কাণ্ডজ্ঞান থাকে প্লেয়ারদের? তখন ওই রেফারিকেই মেরে বসে–আমি কী ছার
আচ্ছা আমি কথা দিচ্ছি তোমায়–আজ অমনটা হবে না আর। তুমি আমায় জাগি দিয়ো।
না ভাই, আজ আর আমি তোমার সঙ্গে এক তাকে শুচ্ছিনে! ঐ তেতলায় যে কিছুতেই নয়। আমি আজ একতলার কে শোবো। একলাই। তার থেকে ঘুমের ঘোর পড়ে গেলেও ততটা আর লাগবে না গায়।
আরো বেশি শীত শীত করবে তখন। দেখো তুমি। ঠাণ্ডায় কাঁপতে কাঁপতে অজ্ঞা হয়ে যাবে। জায়গাটা ভয়ঙ্কর ড্যাম্পো না? যত না ওপর থেকে ছপ্পর ফেড়ে পড়ে তার চেয়ে বেশি ঠাণ্ডা নীচের থেকে মাটি খুঁড়ে ওঠে। গঙ্গার ধারের গুদোমঘর–মানু বসবাসের জন্যে তো বানানো হয়নি। স্যাঁতসেঁতে মেজেটা দ্যাখোনি কি! সে দম নি কয় : আকাশের চেয়ে মাটির ঠাণ্ডার জোর বেশি তা জানো? তাতেই মানুষ বেশি ঘায়ে হয়। তাতেই রিসি, নিউমোনিয়া ধরে-বুঝেছ?
না ভাই! অবুঝের মত বলি–সেই ভুইফোড় ঠাণ্ডাও সইবে আমার, কিন্তু তোমা শ্রীচরণের মার…মানে, ঐ ঠ্যাংএর ঠ্যাঙানি খেলে আর বাঁচবো না।
তোমার যা খুশি।…কিন্তু একজনাকে একটা তাক নিয়ে থাকতে দেয় না যে–বলল : সেই ছেলেটা কালকে? সে অন্য কথা পাড়ে। ঢের ঢের ছেলেরা আসছে না আরো ধরবে কোথায় জেলে, শুনি?
না যদি থাকতে দেয়, তুমি তোমার মতই আরেকজন খেলোয়াড়কে জুটিয়ে নিয়ে শোগে! এত ছেলের ভেতর কি তোমার মতন প্লেয়ার আরেকটা পাবে না?
আর তুমি? তোমাকেও তো একটা তাকে একলাটি থাকতে দেবে না। তুমি কী করবে?
দেখি নেহাৎ ঠাণ্ডা গোছের কাকে পাওয়া যায় আমার তাকে। কে থাকে দেখা যাক। তার তাকে থাকতে হবে।
থাকো গে! বলে রাগ করে বিরাগভরে সে চলে যায় আমায় ত্যাগ করে। আমি একা একা ঘুরতে থাকি গঙ্গার ধারটায়। ঘুরেফিরে মার কথাগুলোই মনে পড়তে থাকে আমার। গঙ্গার কলধ্বনির সঙ্গে মিশিয়ে।
এমন সময় প্রিজন্ ভ্যানে করে আদালতের থেকে আমদানি একদল ছেলে এসে পড়ল জেলের সদরে। দেখতে পেলাম দূর থেকেই।
গেট খুলে গেল সঙ্গে সঙ্গে। গাড়িটা ঢুকল এসে চত্বরের মধ্যে। বন্দেমাতরম্ হেঁকে নামল নতুন ছেলের দল।
এর থেকেও সমধ্বনি উঠল তাদের সংবর্ধনায়–তাদের অভ্যর্থনায়। এ ধারের যে ছেলেগুলো এখানে সেখানে ঘুরছিল, ভ্যানের সামনে ছুটে গেল সবাই। একটু বাদেই দেবেন। এসেছে আমার কাছে ছুটতে ছুটতে।
তোমাকে আর তাকে তাকে থাকতে হবে না। পেয়ে গেছে তাকে। না চাইতেই পেয়ে গেছ! তোমার বরাত।
বলছো কী? কথাটার ঠিক ঠাওর পাই না।
সেই মেয়েটার ভাই…তাই হবে বোধ হয়। সে আজ এসেছে-আজকের আমদানিতে। তার ভাই নিশ্চয়তার মতই দেখতে হুবহু।
কার মতন দেখতে?
তোমার সেই মেয়ে বন্ধুটির মতন গো! তোমার তাকের পার্টনার। যার তাকে তুমি ছিলে গো? সে জানায় আর তোমাকে কে পায় এবার!
শোনামাত্রই আমি দৌড় লাগাই। একটু এগিয়েই দেখতে পাই…
সেও দেখতে পেয়েছিল আমাকে। ছুটে এল আমার দিকে। এসেই ঝাঁপিয়ে পড়ল আমার ওপর। জড়িয়ে ধরল আমাকে…
ইস্! তোমাকে এখানে পাব আমি আশা করিনি… বলল সে।
তার দিকে চেয়ে আমি কথা কইতে পারি না।
ইস্ কী করেছিস রে রিনি! তোর এমন সুন্দর বেণী-চুলটুল সব ছেলেদের মতন হেঁটে ফেলেছিস!
ঠিক ছেলেদের মত না। বরং বেবিদের মতন বব করা–বলতে পারো।
কিন্তু সেই চুল? আহা! ওর কথায় আমার খেদ চলমাত্র কমে না।
আবার হবে। দেখতে দেখতে হয়ে যাবে, দেখো না!…এখন বলল তো হাফপ্যান্টে আমায় কেমন মানিয়েছে বলো না?
এবার ওকে আপাদমস্তক দর্শন করি-মাথার থেকে পা পর্যন্ত।
কী সুন্দর যে দেখাচ্ছে তোকে না, কী বলব! তুই ছেলে হয়ে জন্মালেই ভালো করতিস বোধহয়। তাহলে, এই হাফপ্যান্ট পরে থাকতে পারতিস চিরকাল। তাহলে আর কোনোদিন তোকে শাড়ি-ফাড়ি পরতে হোতো না। এখন দুদিন বাদেই তো শাড়ি ধরতে হবে তোকে–পরতে হবে দিনরাত।
ওরা কিন্তু ধরতে পারেনি একদম। কেমন ধোঁকা দিয়েছি ওদের দেখছো তো। বলেছিলাম না যে আমি আসবই? এলাম না ঠিক? আটকাতে পারলো আমাকে? আমার সঙ্গে কেউ পারে? শুধু কেবল এই ভয় করছিল আমার… বলতে বলতে সে থেমে যায়।
কী ভয় করছিল?
কোন্ জেলে পাঠায় আমাকে কে জানে! জেলে ঢুকে যদি হতামার দেখা না পাই, তখন?…এ কি, তুমি আমার দিকে তাকাচ্ছো না যে? খালি খালি আমার পা দেখছো কেবল…কেন, আমার পা কি তুমি দ্যাখোনি নাকি আগে?
দেখব না কেন? ফ্রক পরেই তো থাকতিস দিনরাত-কতো দেখেছি।
তবে এখন ওদিকে নজর দিচ্ছ যে খালি খালি। কেন, আমি কি আর দ্রষ্টব্য নই?
তোর মুখ্য অংশ তো দেখছিই, দেখবই, সম্মুখেই পাব চিরদিন, কিন্তু-আমি বলি কিন্তু তোর অ্যাততখানি খালি পা তো দেখিনি কখনো। ফ্রকে যে অনেকটা ঢাকা পড়ে থাকে। হাফপ্যান্টে আরো অনেকখানি বেশি দেখা যাচ্ছে না? চেয়ে দেখছিলাম তাই। হ্যাঁণ্ডসাম মেয়ে তো অনেক আছে, তোর মতন আছে কি না জানি না… :
