এর মধ্যে আনোয়ার আবদেল-মালেক বললেন, দেশীয় সৃষ্টিশীলতা সম্পর্কে যদি আমি দু-একটি ওয়র্কশপ করতে চাই চট্টগ্রামে, তার প্রকল্প থেকে তার খরচ জোগানো যাবে। আমি কোমর বেঁধে লেগে গেলাম। দুজন তরুণ সহকর্মী আমাকে খুব সাহায্য করলেন। গোলাম মুস্তাফার বুদ্ধি-পরামর্শ খুব কাজে দিলো ওয়র্কশপের পরিকল্পনায়। আর সৌরেন বিশ্বাস গভীর পরিশ্রম করলো ওয়র্কশপের ব্যবস্থাপনায়।
ওয়র্কশপের নামটি লম্বা রাখা হলো : ক্রিয়েটিভিটি অ্যান্ড দি ইন্টিগ্রেশন অফ ট্রাডিশনস অ্যান্ড মডার্ন অ্যাটিচুড়স। একটা উপ-শিরোনামও দেওয়া হলো : উইথ স্পেশাল রেফারেনস টু বাংলাদেশ অ্যান্ড দি ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট। প্রথম ওয়র্কশপ হলো ১৯৮০ সালের ডিসেম্বরে। উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল করিম উদবোধন করেছিলেন। উদবোধনী অনুষ্ঠান হয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে। বাকি অধিবেশনগুলো চেরাগি পাহাড়ে মার্কিন তথ্যকেন্দ্রের মিলনায়তনে। জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয় আর বাংলাদেশে–সব ছেড়ে-চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যুক্ত উদ্যোগে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হচ্ছে–এটি ছিল যথেষ্ট বিস্ময়ের ব্যাপার। তার ওপরে যখন জানা গেল যে, জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা-প্রকল্পের অধীনে মূলত আমার দায়িত্বে এটা ঘটতে যাচ্ছে, তখন বিস্ময়ের সঙ্গে হয়তো একটু অবজ্ঞাও মিশ্রিত হয়েছিল। তবু বিশিষ্টজনেরা এতে অংশ নিয়েছিলেন। জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাককে রাজি করিয়েছিলাম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মূল ভাষণ দিতে। তার অল্পসংখ্যক লেখার মধ্যে এটি একটি। আয়োজক কমিটির সভাপতি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বজ্যেষ্ঠ ডিন সামাজিক বিজ্ঞানের আর আই চৌধুরী, সদস্য-সচিব ছিলেন বাংলা বিভাগের সভাপতি মনিরুজ্জামান। সকল ডিন এই কমিটির সদস্য ছিলেন, প্রকল্প-পরিচালক হিসেবে আমি সদস্য ছিলাম আর ছিল বিভাগের তিন শিক্ষক-দিলওয়ার হোসেন, চৌধুরী জহুরুল হক ও গোলাম মুস্তাফা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকেরা অংশ নিয়েছিলেন–অনুপম সেন, মাহবুবউল্লাহ ও রফিউদ্দীন আহমদ প্রবন্ধ পড়েছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজির অধ্যাপক কবীর চৌধুরী ও সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সরদার ফজলুল করিম, অর্থনীতির মুশারফ হোসেন, বাংলার আবু হেনা মোস্তফা কামাল ও মনসুর মুসা, ইতিহাসের আবদুল মমিন চৌধুরী ও কে এম মোহসীন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের আবু ইমাম ও অর্থনীতি বিভাগের সনৎকুমার সাহা, বাংলাদেশ সরকারের
তৎকালীন অতিরিক্ত শিক্ষাসচিব আবদুল্লাহ আল মুতী, তাছাড়া হামিদা হোসেন হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব, নয়তো প্রবন্ধপাঠ, নাহয় প্রবন্ধের আলোচনা করেছিলেন। মনে হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জিল্লুর রহমান সিদ্দিকীও (তিনি উপাচার্য হওয়ায় আমি যখন তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন, ভাইস-চান্সেলর হওয়াটা শিশুদের হাম হওয়ার মতো–একবার হয়ে গেলে আপদ চুকে যায়’) এসেছিলেন–প্রথমটায় যদি নাও এসে থাকেন, দ্বিতীয়টায় অবশ্যই এসেছিলেন।
দ্বিতীয় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৮১ সালের নভেম্বরে। এর উদৃবোধন করেছিলেন উপাচার্য আবদুল আজিজ খান। এবারেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। হয়েছিল ক্যাম্পাসে, বাকিসব চিটাগং পোর্ট ট্রেনিং সেন্টারের মিলনায়তনে। জায়গাটা একটু দূরে বটে, তবে এর সুযোগ-সুবিধে যথেষ্ট আছে এবং তার সবই পাওয়া গেল পোর্ট ট্রাস্টের সচিব মিজবাহউদ্দিন খানের সৌজন্যে। এর কর্মসূচিটি হাতের কাছে থাকায় সবটা তুলে দিতে পারছি :
উদবোধনী অধিবেশন
স্বাগত ভাষণ : মুহম্মদ আনিসুজ্জামান (সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন); উদবোধনী ভাষণ : এম আবদুল আজিজ খান। প্রকল্প-পরিচিতি : আনিসুজ্জামান; সভাপতির ভাষণ : জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী। ধন্যবাদজ্ঞাপন : মনিরুজ্জামান। প্রথম অধিবেশন। প্রবন্ধ : আবদুল্লাহ্ আল-মুতী; আলোচক : এ কে শামসুদ্দীন আহমদ, এখলাসউদ্দীন আহমদ। প্রবন্ধ : শামসুল হক (আই ই আর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়); আলোচক : সরদার ফজলুল করিম, আবদুল্লাহ আল-মুতী। সভাপতির ভাষণ : আব্দুর রাজ্জাক।
দ্বিতীয় অধিবেশন
প্রবন্ধ : মোহাম্মদ হারুন-উর-রশিদ; আলোচক : সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, গোলাম মুরশিদ। প্রবন্ধ : মনসুর মুসা; আলোচক : মোহাম্মদ আলী, আবু হেনা মোস্তফা কামাল। সভাপতির ভাষণ : কবীর চৌধুরী।
তৃতীয় অধিবেশন
প্রবন্ধ : এম মোফাখখারুল ইসলাম; আলোচক : রেহমান সোবহান, মাহবুবউল্লাহ। প্রবন্ধ : সিরাজুল ইসলাম; আলোচক : সনকুমার সাহা, বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর; প্রবন্ধ : মাহবুবউল্লাহ; আলোচক : আবদুল গফুর (বিআইডিএস), হামিদা হোসেন। সভাপতির ভাষণ : মুশারফ হোসেন।
চতুর্থ অধিবেশন
প্রবন্ধ : আবদুল মমিন চৌধুরী; আলোচক : আবু ইমাম, কে এম মোহসীন। প্রবন্ধ : রফিউদ্দীন আহমদ; আলোচক : আবদুল মমিন চৌধুরী, অনুপম সেন। সভাপতির ভাষণ : আবদুল করিম। পঞ্চম অধিবেশন প্রবন্ধ : মুইন-উদ-দীন আহমদ খান; আলোচক : আবদুল করিম, মুহম্মদ আবদুল গফুর (আরবি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়)। প্রবন্ধ : মুহম্মদ আনিসুজ্জামান; আলোচক : সিকান্দার খান, মইনুল ইসলাম। সভাপতির ভাষণ : আবু ইমাম।
