শ্ৰীযুক্ত য়ু-লান দার্শনিক। বক্তৃতারম্ভেই তিনি বলেন, যে প্রদেশে তাহার জন্ম সেই প্রদেশেরই এক সজ্জন বহু শতাব্দী পূর্বে ভারতবর্ষে ত্রি-রহের সন্ধানে আসিয়াছিলেন। ভারত তখন তাহাকে প্রচুর সম্মান দেখাইয়াছিল এবং অদ্যকার সম্মানে শ্রীযুক্ত লান সেই সুবর্ণযুগের কথা স্মরণ করতঃ হৃদয়ঙ্গম করিতেছেন যে এ সম্মান তাহাকে নয়, তাঁহার দেশবাসীকে প্রদর্শন করা হইতেছে।
তৎক্ষণাৎ আমার মন ফা-হিয়েন ও হিউয়েন সাঙের স্মরণে দেশ-কাল-পাত্র ভুলিয়া প্রাচীন ভারতের অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হইল। মুদ্রিত নয়নে দেখিতে পাইলাম রাষ্ট্রপতি যেন শ্রীশ্রীরাজামহাধিরাজ হর্ষবর্ধনের বেশ ধারণ করিয়াছেন এবং তাহার পার্শ্বে দণ্ডায়মান পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ। কোথায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনগৃহ যেখানে মাত্র পঞ্চশত নরনারী উপস্থিত? যে প্রয়াগ সম্মেলনে হিউয়েৎ সাঙ উপস্থিত ছিলেন সেখানে পলক্ষাধিক নরনারী উপস্থিত থাকিয়া মহাযানের গুণকীর্তন ও শ্রবণ করিয়াছিল। হায়, কোথায় অদ্যকার পঞ্চশত আর কোথায় সেদিনের পলক্ষ।
এবং সেদিন ভারতে নিষ্ঠা ছিল, বেদ-চর্চা ছিল এবং ত্রিশরণ-প্রচলিত সত্য ধর্মের অনুন্ধানে অগণিত নরনারী ধন-প্রাণ নিয়োজিত করিত। হিন্দু বৌদ্ধ, জৈনধর্ম এবং দর্শন তখন যে বিকাশ লাভ করিয়াছিল তাহা আজিও বিশ্বজনের বিস্ময়ের বস্তু। সিংহল, বর্মা, ইন্দোচীন, মালয় ও চীন হইতে অগণিত শ্ৰমণগণ ভারতে শাস্ত্রের অনুসন্ধানে আসিতেন। দেশে প্রত্যাবর্তনপূর্বক স্ব স্ব ভাষায় শাস্ত্ররাজির অনুবাদ করিয়া জীবন ধন্য গণ্য করিতেন।
আর আজ বিরাট দিল্পি নগরীতে একটিমাত্র শিক্ষায়তন নাই যেখানে বৌদ্ধধর্মের চর্চা হয়, পালি শিখিবার কোনওপ্রকারের ব্যবস্থা এই মহানগরীতে নাই। অত্রস্থ মহাবোধি প্রতিষ্ঠান অনাদৃত।
***
চৈনিক বিদগ্ধমণ্ডলী এই দেশে আসিবার সময় বহুশত চিত্র ও অন্যান্য কলাসামগ্রী সঙ্গে আনিয়াছেন। এক বিশেষ চিত্রপ্রদর্শনীতে সেই ছবিগুলি রাখা হইয়াছে এবং স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী দ্বার উন্মোচন করিয়াছেন।
ভারতবাসীর পক্ষে এই প্রদর্শনীতে সর্বাপেক্ষা বিস্ময়ের বস্তু তুন-হুঁয়াঙ গুহাচিত্রের প্রতিকৃতি। এই চিত্রগুলি অজন্তা বাঘ প্রভৃতি গুহাতে যে বিষয় ও শৈলীতে চিত্র অঙ্কিত হইয়াছে তাদের প্রভাবে অঙ্কিত হইয়াছে। নিতান্ত অজ্ঞজনও এক দৃষ্টিতেই সে তন্তু সম্যক উপলব্ধি করিতে পারিবে। বিজ্ঞজন চিত্রগুলি পুখানুপুঙ্খ দেখিয়া যে কত শত নব নব তত্ত্ব এবং তথ্য উদ্ধার করিতে পারিবেন তাহা কিছুদিন পরে তাহাদের প্রবন্ধরাজিতে প্রকাশ পাইবে।
যে বিষয়-বস্তু আমার কাছে পরিচিত নহে, যে আদর্শের ঐতিহ্য আমার বৈদগ্ধ্যে নাই সেখানে বিদেশাগত, নবীন বিষয়-বস্তু তথ্য আদর্শ গ্রহণ করি কী প্রকারে এবং আপন কালপ্রচেষ্টায় তাহাদিগকে অঙ্গীভূত করিই বা কী প্রকারে।
বুদ্ধের জীবন এবং অবদান চীনের কাছে অতিশয় বিস্ময়ের বস্তু-রূপে প্রকাশ পাইয়াছিল। চীনদেশের আপন মহাজন লাওৎ-সে ও কনফুসিয়ো যে মার্গ দেখাইয়া গিয়াছিলেন সে। মার্গগুলি মহান কিন্তু বুদ্ধদেবের সর্বস্ব ত্যাগের নিরঙ্কুশ বৈরাগ্যবাদের সঙ্গে চৈনিক মহাপুরুষের আদর্শবাদের কোনও সাদৃশ্য নাই। তদুপরি চীন বর্বর দেশ নয়। বহুশত বৎসরের তপস্যার ফলে চীন কলা-প্রচেষ্টায় নিজস্ব শৈলী অর্জন করিতে সক্ষম হইয়াছিল। সে শৈলী বর্জন না করিয়া এই ভারতীয় শৈলী চীন গ্রহণ করে কী প্রকারে?
তাই আমরা এই চিত্রগুলির সম্মুখে বিস্ময়ে হতবাক হই। স্পষ্ট দেখিতেছি চিত্রগুলি চৈনিক অথচ যেকোনো বিশেষ অংশের বিশ্লেষণ করিলেই সেখানে অজন্তা দেখিতে পাই। ওই তো সব বিষধর সর্প, ওই তো করালদংষ্ট্রা রাক্ষসের দল, পশ্চাতে শানিত তরবারি হস্তে পিশাচ না কবন্ধ, সম্মুখে লীলায়িত ভঙ্গিতে দণ্ডায়মান তিলে তিলে নির্মিত মুনি-মনহরণী তিলোত্তমা-শ্রেণি এবং মধ্যস্থলে নিত্যশুদ্ধ-বুদ্ধমুক্ত-তথাগত।
এই চিত্র বাল্যকাল হইতে কত সহস্রবার দেখিয়াছি। এই প্রদর্শনীর কল্যাণে তাহাকে আবার অজানা-জনের সাজে চিনিয়া মুগ্ধ হইলাম।
.
The spirit of Tagore
Let us remember the spirit of the Great Poet with shraddha, for the day of shraddha has come once again.
The world outside Bengal knows him as the Great Poet, eminent novelist, brilliant short story writer, guru of an educational renaissance, and prophet of international peace and goodwill, but the spirit behind the creative impulse which assimilated the best of the nineteenth century Bengal- the Bengal of Raja Rammohun Roy, Maharshi Devendranth Tagore, Keshab Chandra Sen, and then went forward in search of fresh adventures has never been revealed to the outside world. It is found in the very best poems and songs of the Poet and unfortunately have not been translated into English or Indian languages. Perhaps the translators, including the Poet himself, felt that Odes addressed to the Vedic deities and poems interpreting characters, symbols, situations and ideologies of Indian mythology will not find a sympathetic chord in the Christian heart, for it can hardly be denied that the devotional songs of Tagore which have actually been translated into English are popular in the Christian world on account of their resemblance with the Songs of David and his love songs often run paralleled to the Songs of solomon of the Old Testament.
