হ্যাঁ। এক্সপোনেনশিয়েটিং মেশিন! এমন একটা ধারণা যেটা জিয়োলকোভস্কিও করেননি।
আমি বাজি ধরতে পারি, বলল ভ্যাসিলি, নিচের ঘটনা এমনই। একটা ব্যাক্টেরিওফাজ হল এক ধরনের ভন নিউম্যান মেশিন।
আমরা সবাই কি নই? প্রশ্নটা শসার, আশা করি চন্দ্র এমন কথাই বলবে।
চন্দ্র একটু নিচু হয়ে তার সম্মতির কথা জানালো, অবশ্যই। এমনকি ভন নিউম্যান এ ধারণা পেয়েছিলেন জীবিত কোনোকিছু দেখে।
আর এ জীবিত মেশিনগুলো বৃহস্পতিকে খেয়ে ফেলছে।
এখন দেখতে এমন লাগে। আমি আগে থেকেই করছি কিছু হিসাব-নিকাশ। অবশ্য উত্তরটা অবিশ্বাস্য-যদিও খুবই সাধারণ গাণিতিক কাজ…আধা কথা রেখেই থেমে গেল ভ্যাসিলি।
তোমার কাছে ব্যাপারটা সাধারণ হতে পারে, ক্যাথেরিনা বলল, ডিফারেন্সিয়াল ইকোয়েশন আর শক্ত এলাকাগুলো বাদ দিয়ে হিসাব কর।
না-আমি বলতে চাচ্ছিলাম, সিম্পল। এটা প্রাচীনকালের জনসংখ্যা বিস্ফোরণের মতো কিনা! হাজার হলেও, গত শতাব্দীতে তোমরা ডাক্তাররা নেয়ে ঘেমে একাকার হয়েছিলে এ সমস্যায়। জাগাদকা প্রতি দু ঘন্টায় দ্বিগুণ হয়। আগামী বিশ ঘণ্টায় দশবার এমন হবে। একটা জাগাদকা হাজার জাগাদকায় পরিণত হবে!
এক হাজার চব্বিশ। বলল চন্দ্র।
আমি জানি। হিসাবটাকে সরল রাখতে দাও। চল্লিশ ঘণ্টা পর প্রতিটা জাগাদকার জায়গায় থাকবে দশ লাখ। আশি ঘণ্টা পর একলক্ষ কোটি-এখন এ অবস্থা চলছে। অবশ্যই, এ বাড়া সারা জীবন চলবে না। আর দুদিন পরে এগুলোর ওজন হবে বৃহস্পতির চেয়ে বেশি। অন্তত তাই হওয়ার কথা।
তার মানে, জেনিয়া বোঝার চেষ্টা করছে, একটু পরই তারা থামছে। এরপর কী করবে?
শনি দেখতে বড়ই সুন্দর। ব্রেইলোভস্কি জবাব দিল, তারপর আছে ইউরেনাস, নেপচুন…আশা করি ছোট্ট পৃথিবী তাদের নজরে পড়বে না।
আহা! কী আশা জাগাদকা আমাদের উপর নজরদারী করছে ত্রিশ লাখ বছর ধরে।
হঠাৎ করেই ওয়াল্টার কার্নো হাসিতে ফেটে পড়ল।
এত হাসার কী হল? তানিয়া কিছুটা ক্ষেপেছে।
আমরা জিনিসগুলো নিয়ে এমনভাবে কথা বলা শুরু করেছি যেন এগুলো একেকটা ব্যক্তি। অতিবুদ্ধিমান অস্তিত্ব। ওরা কিছুই না-হাতুড়ি টাতুরি। কিন্তু জেনারেল পারপাস টুল, সর্বকার্যবিশারদজ্যোতিষী। আর চাঁদেরটা ছিল শুধু একটা সিগন্যালিং ডিভাইস-তোমাদের ভাষায় বলতে গেলে, গুপ্তচর; আর যেটা নিয়ে আমাদের এত মাথাব্যথা, সেই ডেভ ব্যোম্যানের পরিচিত জাগাদকা হল একটা পরিবহন-পথ। কিন্তু এখন এটা অন্য কিছু করছে। শুধু ঈশ্বরই জানে, কী যে করছে! যাই হোক, আমার মনে হয় সারাটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ড জুড়ে আরো অনেক আছে এমন।
আমি ছোটবেলায় এমন একটা যন্ত্র পেয়েছিলাম। তোমরা কি জানো, জাগাদকা কী? একটা সুইস আর্মি চাকুর মহাজাগতিক প্রতিচ্ছবি।
৭. সপ্তম পর্ব : দানব জেগে উঠছে
সপ্তম পর্ব : দানব জেগে উঠছে
৫০. বিদায়, বৃহস্পতি
এই মেসেজ কম্পোজ করা সহজ কাজ না, বিশেষত এর আগেরটা যখন সে তার উকিলের কাছে পাঠিয়েছিল। ফ্লয়েডের নিজেকে প্রতারক মনে হচ্ছে; কিন্তু সে জানে, দু প্রান্তের যে দুঃখ আসছে, সেটাকে কমাতে এ মেসেজ দরকার।
সে মনমরা, কিন্তু একেবারে আশাহত নয়; কারণ ফিরে আসছে পৃথিবীতে, ফিরে আসছে একেবারে অপ্রত্যাশিত সময়ের মধ্যে। বীরত্ব হয়ত নেই, কিন্তু একটা শক্ত ভিত্তি পাওয়া যাবে। ক্রিসকে তার কাছ থেকে কেউ… কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। আর কেউ না।
…প্রিয় ক্যারোলিন [আর সেই প্রিয়তমা শব্দটা নেই…] আমি বাড়ি ফিরছি। তুমি যখন এ মেসেজটা পাবে তখন আমি হাইবারনেশনে। আমার কাছে মনে হবে মাত্র কয়েক ঘণ্টা, তারপরই যখন চোখ খুলব সামনের আকাশে পৃথিবীটা ভাসবে।
আমি জানি এখনো এ সময়টা তোমার কাছে অনেক মাস। আই অ্যাম স্যরি। কিন্তু আমি আসার আগে দুজনেই জানতাম এমনটা হবে। তারপরও, আমি অনেক সপ্তাহ এগিয়ে থাকব, কারণ মিশন প্ল্যানে পরিবর্তন এসেছে।
আশা করি আমরা কিছু কাজ করতে পারব। মূল প্রশ্ন হল-ক্রিসের জন্য ভাল হয় কোনটা? আমাদের নিজেদের অনুভূতি যাই হোক, আগে তার মূল্য দিতে হবে। আমি জানি, নিজে চাই তাকে অবশ্যই তুমিও চাও।
ফ্লয়েড সুইচটা অফ করে দিয়েছে-যা ভাবছে তা বলা কি ঠিক হবে… একটা ছেলের দরকার তার বাবাকে?
না। এর ফলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে-কোন কৌশল খাটানোর দরকার নেই। ক্যারোলিন সহজেই জবাব দেবে যে একটা শিশুর জন্য জন্ম থেকে চার বছর বয়স পর্যন্ত সবচে বেশি দরকার মায়ের… ফ্লয়েড যদি মনে করে যে বাবার দরকার, তাহলে সে অবশ্যই পৃথিবীতে থাকত।
…এবার বাড়ির ব্যাপারে। আমি খুশি হয়েছি যে রিজেন্টস এমন একটা পরিস্থিতিতে আছে যার ফলে আমরা দুজনেই সহজে সিদ্ধান্ত নিতে পারব। আমরা দুজনেই জায়গাটাকে ভালবাসতাম-আমি জানি। কিন্তু এখন এটাকে অনেক অনেক বড় মনে হবে। আর পুরনো সব স্মৃতি বসবে জেঁকে। তখন আমি হিলোতে একটা অ্যাপার্টমেন্ট নিয়ে নিব। আশা করি দ্রুত কোনো স্থায়ী বাসার ব্যবস্থা হয়ে যাবে।
একটা ব্যাপারে আমি সবার কাছে ওয়াদা করতে পারি…আর কখনোই পৃথিবী ছাড়ছি না। এক জীবনে অনেক অনেক স্পেস ট্রাভেল হয়েছে। আর যদি চাঁদে যাওয়াও ধরি…সেটাতো সাপ্তাহিক ছুটি কাটানোর মতো ব্যাপার; সেটুকু হিসাব থেকে বাদ দেয়া যায়।
