তানিয়া, ভ্যাসিলি, আমি কি তোমাদের সাথে একটু কথা বলে নিতে পারি? সমস্যার একটা পথ বের করা যায়।
ফ্লয়েড যে কথা বলল সবাই বেশ সহজে নিয়েছে। দু মিনিট পরে অর্লোভদের সাথে তাদের কোয়ার্টারেই বিশ্রাম করছিল সে।
থ্যাঙ্ক ইউ, উডি, আমি জানতাম তুমি এ কাজ করবে। হাতার ভিতর এটাকে লুকাবে কী করে? বলছে তানিয়া। সমস্যা দেখা দিয়েছে তানিয়ার গিফট নিয়ে। ফ্লয়েড আজারবাইজান শুমাখা পছন্দ করে। কিন্তু তার চিন্তা এখনো মদের কয়েক সেন্টিমিটারের মধ্যে ঘুরছে না। আনন্দিতভাবে সে বলল, চন্দ্ৰ কঠিন হলে আমার দুঃখ পেতে হবে।
আমারও। যাক, তাও শুকরিয়া। আমাদের সাথে আছে মাত্র একজন পাগলা বিজ্ঞানী।
এ কথাটা কিন্তু তুমি আমাকে বল না। ভ্যাসিলি একটু কৌতুক করল, হয়ত তানিয়ার সেই দ্বিতীয় পাগলটা ফ্লয়েড অথবা ভালবাসার আতিশায্যে ভ্যাসিলি নিজেই। চলো, উডি, শুরু করা যাক।
এটাই আমি বলছি, চন্দ্রকে নিজের মতো চলতে দাও, করতে দাও। তারপর মাত্র দুটো সম্ভাবনা থাকে। হয় হাল আমাদের কথামতো চলবে, দু প্রজ্বলন মুহূর্তে কাজ করবে ঠিকমতো, নাহয়…আইওর পথ থেকে চলে যাওয়ার পর আমাদের হাতে অনেক সময় থাকবে। এটাই আমাদের সামনে হাল-কে পরীক্ষা করিয়ে নিবে।
কিন্তু সময়মতো কি কাজ হবে? একেবারে নিখুঁত ভেক্টর আর জ্বালানি খরচ, তার সাথে শিপ কন্ট্রোল-কম্পিউটারটা দরকার।
ম্যানুয়ালি…মানে হাতে হাতে সম্ভব?
আমি এ কাজটাকে অন্তর থেকে ঘেন্না করি। একচুলের হাজার ভাগের একভাগ ভুল করার পর বৃহস্পতির দিকে ছুটতে ছুটতে জ্বলে যেতে হবে, নাহয় চিরস্থায়ী উপগ্রহ। হাজার বছর ধরে।
তোমার হাতে যদি কোনো বিকল্প না থাকে?
ভাল, সময় মতো কন্ট্রোল নিতে পারব যদি সম্ভাব্য দু অর্বিটাল ঠিক করে রাখতে পারি-হুম! বেঁচেও যেতে পারি-হয়ত।
তোমাকে যতটুকু চিনি, ভ্যাসিলি, হয়ত কথাটার মানে হল, হবে। এবার দ্বিতীয় সম্ভাবনার দিকে যাই-হাল এক বিন্দু তেড়িবেড়ি করলে সোজা কাজ করব।
মানে-ডিসকানেক্ট?
ঠিক।
গতবার কাজটা সহজে হয়নি।
তারপরই আমরা কয়েকটা শিক্ষা পেয়েছি। আমার উপর ছেড়ে দাও। আধ সেকেন্ডের মধ্যে তোমার হাতে কন্ট্রোল তুলে দেব।
আশা করি হাল এক বিন্দু সন্দেহ করবে না।
না-তুমি সন্দেহবাতিকে ভোগা শুরু করেছ, ভ্যাসিলি। হাল মানুষ না। কিন্তু চন্দ্র মানুষ-তাই সন্দেহ করা যায় তাকে। কিন্তু তাকে কেউ কিছু বলবে না। তার প্ল্যানের সাথে আমরা সবাই রাজি হব। আমরা দুঃখিত হব এ ভেবে যে তার সাথে তর্ক করতে গিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করব যে হাল সব ঠিকঠাক চালাবে। ঠিক, তানিয়া?
ঠিক, উডি, তোমার দারুণ পরিকল্পনা কাজে লাগুক। আর সেই ছোট গেজেটটা দারুণ আইডিয়া।
কোন গেজেট? অবাক হয়েছে ভ্যাসিলি।
কয়েকদিনের মধ্যেই ব্যাখ্যা করব। স্যরি, উডি, এটুকু শুমাখাই আমার ছিল। বাকিটা রেখে দিতে চাইনিরাপদে পৃথিবীর পথে যখন থাকব, তখনকার জন্য।
৪৬. কাউন্ট ডাউন
আমার ছবি না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবে না। শিপ দুটোকে আধ কিলোমিটার দূরে একত্র করে ভাবল ম্যাক্স ব্রেইলোভস্কি। সে হাস্যকরভাবে ডিসকভারিকে ঠেলে দিয়েছে লিওনভে থেকে। এ ছোট রাশিয়ান শিপটাকে সে পুরুষ ধরে নিয়ে আমেরিকানটাকে সরিয়ে আনছে। এটাকেই কোনো এক প্রাচীন কসমোনট বলেছিল মিশন ক্লাইমেক্স।
তার সতর্ক জরিপের মাধ্যমে এটুকু নিশ্চিত করা গেছে যে সব চলছে ঠিকঠাক। কিন্তু কাজটা ধারণার চেয়েও কঠিন আর সময়সাপেক্ষ। সে জানে, দু কাজে সার্থক হওয়ার কথা থাকলেও ভাগ্যদেবী খুব কমই দুদিকে সাফল্য দেয়। লিওনভ কয়েক কিলোমিটার কার্বন টেপ নিয়ে এসেছিল। একটা মেয়ে তার চুল বাঁধতে সারা জীবনে যতটুকু ফিতা ব্যবহার করে, তারচে বেশি হবে না। মাত্র কয়েক টন। এগুলো আনা বিগ ব্রাদার অভিযানের জন্য। সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে এভাবেই চেষ্টা করতে হত। আশা করা হচ্ছে এ ফিতা ত্বরণকে বাধা দেবে। মাধ্যাকর্ষণের দশভাগের একভাগ তুরণে কোনো সমস্যা যাতে না হয়, ছিঁড়ে যাওয়া বা ঝকি…তাও ভাল, সবচে বেশি স্পিডে মাধ্যাকর্ষণের দশ ভাগের এক ভাগ ত্বরণ হয়।
ফিরে আসার আগে আরো কিছু কি চেক করতে হবে? জিজ্ঞেস করল ম্যাক্স।
না। তানিয়া জবাব দিল, সবই ভাল মনে হচ্ছে। আর নষ্ট করার সময়ও নেই।
সত্যি। সেই রহস্যময় ওয়ার্নিং যদি সিরিয়াসলি নিতে হয়-এর মধ্যে সবাই সিরিয়াসলি নিয়েছে-তাহলে পালানো শুরু করতে হবে আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে।
ঠিক আছে। আমি নিনাকে স্বাভাবিক অবস্থায় আনব। এটার জন্য কষ্ট হচ্ছে, পুরনো মেয়ে।
তুমি কখনোই বলোনি যে নিনা একটা ঘোড়া।
এখনো বলছি না। তবু, এই মহাশূন্যে তাকে ছেড়ে দিতে কেমন যেন লাগে। একে ছাড়ব শুধু সেকেন্ডে কয়েক মিটার বেশি গতি পাওয়ার জন্য।
আর কয়েক ঘণ্টা পরে সেই গতির কাছেই কৃতজ্ঞ থাকব আমরা সবাই, ম্যাক্স। যাই হোক, একটা চান্স আছে, একদিন না একদিন তাকে ঠিকই তুলে নেবে কেউ না কেউ এসে।
আমিও তাই ভাবি। ভাবল ম্যাক্স। আর যদি একে চিরদিনের জন্য ছাড়তেও হয়, তাই সই। বৃহস্পতির সাম্রাজ্যে মানুষের প্রথম অভিযানের স্মৃতি চিরদিন ঘুরপাক খেয়ে চলুক।
খুব ভদ্রভাবে, যত্নের সাথে সে নিনাকে ডিসকভারির লাইফ সাপোের্ট গোলকের বাইরে নিয়ে আসে। তার সহকর্মীরা খালি চোখেই তাকে দেখতে পায় যখন সে তাদের জানালার পাশ দিয়ে ভাসছে। খোলা পোড বে ডোর তার দিকে মুখ চোয় আর সে নিনাকে বাড়ানো ভকিং আর্মে নামিয়ে এনে সেই ডোরটার সাথে একটু ঠাট্টা করে নিল।
